ভারতে কৃষির আয় কোন সীমা ছাড়াই খাজনা মুক্ত কেন?

ভারতীয় আইন অনুযায়ী আমরা নিয়মিতভাবে আমাদের সম্পত্তির খাজনা দিতে হয়। আমরা আমাদের বসবাসের বাড়ীর খাজনা দিতে হয়, সেই সাথে বানিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা সম্পত্তির খাজনা দিয়ে থাকি। গত কয়েকটি লেখায় আমরা আপনাদের সাথে সম্পত্তির খাজনা নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। 

আমরা জানি যে, ভারতের বিভিন্ন সম্পত্তির বিভিন্ন প্রকার খাজনা দিতে হয়। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে, ভারতের আইনে কৃষির আয় কোন সীমা ছাড়াই খাজনামুক্ত সুবিধা পাওয়া যায়।

ভারতে কৃষির আয় কোন সীমা ছাড়াই খাজনা মুক্ত কেন?
ভারতে কৃষির আয় কোন সীমা ছাড়াই খাজনা মুক্ত কেন?

আমাদের এই ব্যপারটি না জানার ফলে অনেক সময় আমরা প্রয়োজন ছাড়াই অতিরিক্ত খাজনা দিয়ে থাকি। তাই আমাদের সবারই ভারতের কৃষির আয়ের খাজনা বিষয়ে জানা উচিত।

আমরা আমাদের বাংলাভুমি সাইটে নিয়মিতভাবে ভূমি বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য নিয়ে আপনাদের সাথে আলোচনা করে থাকি। এই সকল আলোচনা থেকে আমরা জমির খাজনা, জমির রেজিস্ট্রেশন, জমির উত্তরাধিকার আইনসহ নানা বিষয়ে জানতে পেরেছি। এ সকল আইন জানার কারনে আমরা জমি নিয়ে প্রতারক চক্রের হাত হতে রক্ষা পেতে পারি।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা আপনাদের সাথে আলোচনা করবো, ভারতের কৃষি আয় কোন সীমা ছাড়াই খাজনা মুক্ত কেন। এই লেখা পড়ে আমাদের কৃষি আয়ের খাজনা নিয়ে আমাদের ধারনা পরিষ্কার হবে।

ভারতীয় আইন কি বলে?

কৃষি জমির আয় নিয়ে ভারতের আয়কর আইনে বলা আছে।  কৃষি জমির আয়ের খাজনা নিয়ে ভারতের আয়কর আইন ১৯৬১ এর ধারা ১০ এর মতে কোন ভারতীয় নাগরিকের কৃষি জমি হতে প্রাপ্ত আয় আয়কর মুক্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।

এখানে সবচেয়ে অবাক করা ব্যপার হলো যে, এই কৃষি জমির আয় আয়কর মুক্তের কোন সীমারেখা রাখা হয় নি। এতে করে আপনি আপনার যে কোন কৃষি আয় ভারতীয় সরকারকে ১ টাকাও খাজনা হিসেবে দিতে হবে না।

কৃষি আয় বলতে কি বুঝায়?

ভারতীয় আয়কর আইন অনুযায়ী নিম্নলিখিত ৩ টি শর্তে আয়কে কৃষি আয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।

১) কৃষি জমি ভাড়া দিয়ে অথবা কৃষি জমি থেকে প্রাপ্তআয় আয়করমুক্ত থাকবে। যেমন কেউ যদি কৃষি জমির মালিক হয় এবং সে সেই জমি ভাড়া দিয়ে টাকা উপার্জন করে, তাহলে এই আয় কৃষি জমি হতে প্রাপ্ত আয় হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এই আয় ভারতীয় আইন অনুযায়ী আয়কর মুক্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।

২) কৃষি জমির কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা স্থাপনা বা যন্ত্রপাতি থেকে প্রাপ্ত আয়। যেমন, কেউ জমি কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য যন্ত্রপাতি বিক্রি করে থাকে, তবে তার যন্ত্রপাতি বিক্রি করার টাকা আয়কর দিতে হবে না।

৩) কৃষি কাজ করার প্রক্রিয়ায় অংশ হিসেবে ব্যবহার হয় এমন বস্তু বিক্রি করে প্রাপ্ত আয়। যেমন, কেউ যদি কৃষি জমির জন্য সার, বীজ, কীটনাশক বিক্রি করে তাহলে ঐ বিক্রি করার আয় ভারতীয় আয়কর আইন অনুযায়ী আয়কর মুক্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।

কিভাবে কৃষি জমির আয় আয়কর থেকে বাদ দেয়া যায়?

নিম্নলিখিত ধাপগুলি অনুসরন করে সহজেই কৃষি জমির আয় আয়কর থেকে বাদ দেয়া যায়।
১) প্রথমেই আপনার সকল কৃষি জমির আয় এবং অকৃষি আয় সকল আয় লিপিবদ্ধ করুন।
২) এবার আপনার মোট আয়কর হিসেব করুন।
৩) আপনার কৃষি জমি থেকে কত টাকা আয়কর আসে তা বের করুন।
৪) মোট আয়কর হতে কৃষি জমির আয় বিয়োগ করুন।
৫) বিয়োগ করে প্রাপ্ত টাকা আপনি আয়কর হিসেবে জমা দিন।

অন্য আয়গুলির ক্ষেত্রে আইন কেমন?

ভারতীয় আইন অনুসারে অন্যান্য যে কোন আয় যেমন, বাড়ি ভাড়া দেয়া, ব্যবসা, সরকারী-বেসরকারী চাকরি ইত্যাদি সকল আয়ের উপরই সরকারী আয়কর দিতে হয়। শুধু মাত্র কৃষি জমি হতে প্রাপ্ত আয় সম্পুর্ন আয়কর মুক্ত হিসেবে গন্য করা হয়েছে।

তাই আজকের লেখা হতে আমরা জানতে পারলাম যে, ভারতের কৃষি জমির আয় কিভাবে জানা যায়, সেই সাথে জানতে পারলাম যে, কিভাবে কৃষি জমির আয় বাদ দিয়ে আয়কর হিসেব করা যায়।

আমাদের সাইটের পরবর্তী লেখায় আপনাদের জন্য এই বিষয়ের উপর আরো বিস্তারিত লেখা থাকবে। তাই আমাদের পেজে নিয়মিত চোখ রাখুন।

এই লেখাটি অনেকের কাজে লাগতে পারে তাই লেখাটি যতটুকু সম্ভব শেয়ার করুন, যাতে করে অনেকে এই লেখা থেকে শিক্ষা নিয়ে জমি সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবেন।   

জমি নিয়ে আরো অনেক লেখা পেতে আমাদের সাইটের অন্য লেখাগুলি দেখুন। আমাদের লেখা ভালো লাগলে বা যেকোন মন্তব্য আমাদের ফেসবুক পাতায় লিখুন। আমরা আপনার মন্তব্যের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবো।

Leave a Comment