Life Insurance কি? লাইফ ইন্সুরেন্স এর বৈশিষ্ট্য কি কি? সব কিছু জেনে নিন

Life Insurance: লাইফ ইন্স্যুরেন্স আমাদের সমাজের একটি বহুল ব্যবহ্রত শব্দ । আমরা পরিচিত অনেকের কাছেই শুনতে লাইফ ইন্সুরেন্স সম্পর্কে বিভিন্ন কথা শুনতে পাই যেমন, মনোজ লাইফ ইন্স্যুরেন্স করেছে, রাহুলের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কাছে থেকে ১০ লক্ষ টাকা পেয়েছে।

কিন্তু আমরা অনেকেই লাইফ ইন্স্যুরেন্স সম্পর্কে ভালোভাবে জানিনা । যারা জানেন, এর গুরুত্ব বুঝতে পারেন, তাদের অনেকই লাইফ ইন্স্যুরেন্স করে রাখেন যাতে করে চরম বিপদের সময় পরিবার আর্থিকভাবে অসহায় হয়ে না পড়ে।

Life Insurance কি? লাইফ ইন্সুরেন্স এর বৈশিষ্ট্য কি কি? সব কিছু জেনে নিন
Life Insurance কি? লাইফ ইন্সুরেন্স এর বৈশিষ্ট্য কি কি? সব কিছু জেনে নিন

আজ আমরা লাইফ ইন্স্যুরেন্স নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে আপনাদের এই বিষয়ে সমস্ত কিছু জানিয়ে দেব, যা আপনাদের লাইফ ইন্স্যুরেন্স ব্যাপারে বুঝে নিতে সাহায্য করবে। 

Life Insurance কি? এবং মূল বৈশিষ্ট্য কি কি

লাইফ ইন্স্যুরেন্স হলো ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী ও ইন্স্যুরেন্স গ্রহিতার মধ্যকার চুক্তি যা অনুযায়ী গ্রাহক নিয়মিত ভাবে নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীকে দেবে এবং গ্রাহকের মৃত্যু হলে অথবা শারীরিক অসুস্থ্যতা বা দূর্ঘটনায় পতিত হলে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী ক্ষতিপুরন হিসেবে পূর্বনির্ধারিত প্রতিজ্ঞা অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমান টাকা দেবে।

শুধুমাত্র ভবিষ্যতের ক্ষতিপূরনই নয়, ভারতের আয়কর আইন ১৯৬১ অনুযায়ী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম হিসেবে জমাকৃত টাকা Tax Free হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই লাইফ ইন্স্যুরেন্স করে আপনার বার্ষিক করের বোঝাও কমে যাবে। আসুন দেখে নেই লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কি কি বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

পলিসি গ্রাহকঃ কোন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর লাইফ ইন্স্যুরেন্স পলিসি গ্রহন করে নির্দিষ্ট প্রিমিয়াম প্রদান করে চুক্তি স্বাক্ষর করা  ব্যক্তিকে পলিসি গ্রাহক বলা হয়।

প্রিমিয়ামঃ পলিসি গ্রাহক তার লাইফ ইন্স্যুরেন্স বাবত ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীকে যে টাকা পরিশোধ করে তাকে প্রিমিয়াম বলা হয়। প্রিমিয়াম মাসিক, ত্রৈমাসিক, বার্ষিক হতে পারে।

ম্যাচুরিটিঃ যখন ইন্স্যুরেন্স চুক্তি অনুযায়ী পলিসির মেয়াদ শেষ হয় তখন তাকে ম্যাচুরিটি বলা হয়। চুক্তির উপর নির্ভর করে ম্যাচুরিটি শেষে গ্রাহক তা বিনিয়োগকৃত টাকা ফেরত পেতে পারে।

ইন্স্যুরেন্স হোল্ডারঃ ইন্স্যুরেন্স হোল্ডার ব্যক্তি সেই ব্যক্তি যার জীবন লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকে। তার মৃত্যুর পরে লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী তার উত্তরাধিকারীদের  একটি নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ প্রদান করতে দায়বদ্ধ।

বীমাকৃত টাকাঃ লাইফ ইন্স্যুরেন্স চুক্তিতে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লিখিত ঘটনা ঘটলে লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী ইন্স্যুরেন্স হোল্ডারের উত্তরাধিকারীদের যে পরিমাণ অর্থ প্রদান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পলিসির মেয়াদঃ লাইফ ইন্স্যুরেন্স পলিসিটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হয়ে থাকে।  ঐ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী ক্ষতিপূরন দেবে এবং ঐ  সময়কাল পর্যন্ত চুক্তিটি সক্রিয় থাকে।

নমিনিঃ নমিনী হলো সেই ব্যক্তি, যিনি লাইফ ইন্স্যুরেন্স চুক্তিতে যিনি পলিসির অংশ হিসাবে ইন্স্যুরেন্স হোল্ডারের মৃত্যুতে পূর্বনির্ধারিত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবেন।

দাবিঃ ইন্স্যুরেন্স হোল্ডারের মৃত্যুর পরে নমিনীরা পূর্ব নির্ধারিত ইন্স্যুরেন্সের টাকা পাওয়ার জন্য  ইন্স্যুরেন্স পরিচালনাকারীর কোম্পানীর কাছে দাবি দায়ের করতে পারেন।

ভারতের বিভিন্ন লাইফ ইন্সুরেন্সের বৈশিষ্ট্য

ভারতে অনেক বড় আকারের কোম্পানি আছে আর প্রতি কোম্পানির আলাদা আলাদা সুবিধা আছে। নিচে ভারতের লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর মূল সুবিধাগুলি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

মৃত্যুর পর টাকা প্রাপ্তিঃ

লাইফ ইন্স্যুরেন্সকৃত ব্যক্তির জীবনের কোনও দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার ক্ষেত্রে লাইফ ইন্স্যুরেন্স ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারকে নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ প্রদান করে অর্থনৈতিক দূর্যোগ হতে রক্ষা করতে সক্ষম করে।

ইন্স্যুরেন্স হোল্ডারের বিনিয়োগকৃত টাকার সাথে চুক্তিতে সুনির্দিষ্ট পরিমাণের অর্থ যোগ করে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী ইন্স্যুরেন্স হোল্ডারের নমিনীকে প্রদান করে। এটি ডেথ বেনিফিট হিসাবে পরিচিত।

বিনিয়োগ এবং বীমাঃ

কিছু নির্দিষ্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স পলিসি ইন্স্যুরেন্স এবং বিনিয়োগ উভয় সুবিধাই দিয়ে থাকে। আপনার দেয়া প্রিমিয়ামের একভাগ টাকা বীমা হিসাবে দেওয়া হয়, অন্যভাগ বিনিয়োগ হিসেবে জমা করা হয়, এভাবে উভয়ের সংমিশ্রণে বিনিয়োগ করা হয়।

এতেকরে আপনি বীমা সুরক্ষা এবং আপনার বিনিয়োগের উপর আয় উভয়ভাবে অনেক বেশি লাভবান হতে পারেন। আপনার বিনিয়োগের সম্বৃদ্ধি এবং ঝুঁকির সাথে সামঞ্জস্য করে এমন লাইফ ইন্স্যুরেন্সগুলিতে বিনিয়োগ করে আপনি এই বিনিয়োগের সবচাইতে বেশি উপার্জন করতে পারবেন।

মেচুরিটি বেনিফিটঃ

লাইফ ইন্স্যুরেন্স পলিসি মেচুরিটি হলে বীমাগ্রাহককে সঞ্চয়ী পলিসি অনুসারে সুবিধা দিয়ে থাকে। সে হিসেবে সঞ্চয়ের দিগুন পরিমান টাকাও মেয়াদ শেষে পাওয়া যেতে পারে।

যদি বীমাগ্রাহক ইন্স্যুরেন্স পলিসির মেয়াদ শেষে বেঁচে থাকে এবং এই মেয়াদকালে কোনও দাবি করা না থাকে তবে পলিসির মেয়াদপূর্তির সময় প্রদত্ত মোট প্রিমিয়াম ফেরত দেওয়া হয়।

সেই সাথে আপনার লাইফ ইন্স্যুরেন্স পলিসির সঞ্চয়ী বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ যোগ করে বীমা গ্রাহককে একটি লাভজনক অংকের টাকা ফেরত দেয়া হয়ে থাকে।

ট্যাক্স ছাড় সুবিধাঃ

আয়কর আইন (আইটিএ) এর ধারা অনুযায়ী  ভারতীয় নাগরিকগন ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় বিনিয়োগ করে তাদের করের বোঝা হ্রাস করতে পারে। লাইফ ইন্স্যুরেন্স তাদের মধ্যে একটি।

আপনার লাইফ ইন্স্যুরেন্স পলিসির জন্য প্রদত্ত প্রিমিয়াম নির্দিষ্ট অংক পর্যন্ত টাকা পর্যন্ত কর ছাড়ের জন্য বিবেচিত হবে। এর পাশাপাশি, আপনার বীমা পলিসি থেকে প্রাপ্ত কোনও যেকোন পরিমান অর্থ  সম্পূর্ণ করমুক্ত (শর্ত থাকে যে আপনার প্রিমিয়াম আপনার বার্ষিক আয়ের ১০% এর বেশি না হয়)।

বীমায় বিনিয়োগের বিপরীতে লোনঃ

আপনার স্বপ্ন পূরণ করতে এবং আপনার লক্ষ্য অর্জন করতে অনেক সময় আপনার ঋণ, বন্ধক এবং অন্যান্য ধরণের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।

আপনার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগকৃত অংশ আপনার সম্পদ হিসেবে দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া যায়।  আপনার দুঃসময়ে বীমায় জমাকৃত বিনিয়োগের সাহায্যে ঋণ নিয়ে আপনি আপনার দুঃসময়কে মোকাবেলা করতে পারেন।

দূর্ঘটনাজনিত ব্যয়ঃ

আপনার সাথে করা চুক্তি অনুযায়ী লাইফ ইন্স্যুরেন্স আপনার জীবনের হঠাত করে আসা দূর্ঘটনায় বীমা কোম্পানী আপনার চিকিঠষার ব্যয় নিয়ে পারে।

এভাবে আপনার দুর্ঘটনাজনিত আর্থিক ক্ষতির বোঝা বীমা কোম্পানী নিতে পারে। তবে, দূর্ঘটনাজনিত ব্যয় পূর্বে বীমা চুক্তিতে লেখা থাকতে হবে।

আজ লাইফ ইন্স্যুরেন্স আমাদের জীবনের এক অতীব প্রয়োজনীয় প্যাকেজ।  লাইফ ইন্স্যুরেন্স একই সাথে ঝুঁকি হ্রাস সুরক্ষা সরঞ্জাম যা আমাদের জীবনের বিভিন্ন হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনার সাথে মোকাবিলা করার সময় একাধিক উপায়ে বীমাকারী ও তার উপর নির্ভরশীলদের সহায়তা করতে পারে। লাইফ ইন্স্যুরেন্স পলিসির মূল বৈশিষ্ট্য এবং উপকারিতা বোঝার মাধ্যমে আপনি আপনার ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

এই বিষয়ে আরো কিছু জানার থাকলে আমাদের নিচে কমেন্ট করে জানাবেন। ইন্সুরেন্স, ব্যাঙ্ক লোন, মিউচুয়াল ফান্ড, সরকারি যোজনা ইত্যাদি ধরণের বিষয় সম্পর্কে জানার জন্য আমাদের ওয়েবসাইটে নজর রাখুন।

Leave a Comment