চাকরি থেকে অবৈধ ভাবে বের করলে শেষ সেলারি কিভাবে পাবেন?

Way to Recover Due Salary After Illegal Termination in Bengali: চাকরি থেকে অবৈধ ভাবে বের করে দিয়েছে? এবার কি করবেন? কিভাবে নিজের শেষ টাকা ফেরত পাবেন? | আসুন জেনে নিন চাকরি থেকে অবৈধ ভাবে যদি আপনাকে বের করে দেওয়া হয় তাহলে শেষ সেলারি কিভাবে পাবেন? এর জন্য আইনি নিয়ম ও পদক্ষেপ।

কর্ম ক্ষেত্রে এমন অনেক ঘটনা চোখে পড়ার মতো, যেখানে কোনো রকম কারণ ছাড়াই অবৈধ ভাবে কোন কর্মচারীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়ে থাকে। সেখানে কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা বা কোম্পানির ক্ষতি এ বিষয়ে অনেকটা বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

অবৈধ ভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা আসলে কি?

এমন পরিস্থিতি তখনই হয়, যখন বিনা কারণে বলতে গেলে পর্যাপ্ত পরিমাণ কারণ ছাড়াই সামান্য ভুলের জন্য কোন কর্মচারীকে সেই কোম্পানি থেকে অথবা চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়, বা বের করে দেয়া হয়।

সে ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত শত্রুতা এমনকি সেই কোম্পানি যদি ক্ষতির মুখে পড়ে থাকে, যে ব্যক্তি দ্বারা কোন কর্মচারী নিযুক্ত হয়ে থাকেন, সেই ব্যাক্তি কিন্তু হঠাৎ করেই কোন কর্মচারীকে কাজ থেকে ছাড়িয়ে দিতে পারেন।

চাকরি থেকে অবৈধ ভাবে বের করলে শেষ সেলারি কিভাবে পাবেন?
চাকরি থেকে অবৈধ ভাবে বের করলে শেষ সেলারি কিভাবে পাবেন?

তবে এ ক্ষেত্রে আইন অনুসারে সাধারণ জনগণকে জাগ্রত হতে হবে আর এই রকম বিনা কারণে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার বিরুদ্ধে আপনি প্রতিবাদ করতে পারেন। তাই আইন অনুসারে অবৈধ চাকরি থেকে বের করে দেওয়ার বিষয়টিকে আপনি নিয়ন্ত্রিত করতে পারবেন।

ভারতে এরকম ঘটনা নেহাত কম নয়। রোজগার এর ক্ষেত্রে প্রতি বছর বহু কর্মচারী ভুল এবং অবৈধভাবে তাদের কাজ হারিয়ে থাকেন। তার সাথে সাথে তাদের শেষ বেতন টুকু পর্যন্ত নিয়ে তারা চিন্তিত থাকেন। কেননা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা তাদের শেষ মাসের বেতন তাও পান না।

একটি কর্মচারীকে চাকরি থেকে কি কি বিষয়ের উপর অবৈধ ভাবে এবং ভুল অনুযায়ী বরখাস্ত করা যেতে পারে?

একজন কর্মচারী চাকুরী অনুচিত আধারের ওপর নির্ভর করে সমাপ্ত করা যেতে পারে। যেমন ধরুন প্রদর্শন, যোগ্যতা অথবা অনুভব এর সম্বন্ধে বেইমানি, যৌন আচরণ, ইচ্ছাশক্তির অবজ্ঞা, কোম্পানির মালিকের সম্পত্তির ক্ষতি, ইত্যাদি এই ক্ষেত্রে শামিল রয়েছে।

এছাড়া আরও বেশ কিছু কারণ রয়েছে এই অবৈধ ভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা সেগুলি নিয়ে আলোচনা করা হলো: 

১) বৈষম্য: 

জাতি, ধর্ম, বয়স, লিঙ্গ, রাষ্ট্রায়াত্ত ইত্যাদির উপর নির্ভর করে চাকরি থেকে যেকোন কর্মচারীকে বের করে দেওয়া যেতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে, যেমন ধরুন যদি কোন ব্যক্তি তার কোম্পানি কোন কর্মচারীকে কাছজ থেকে ছাড়িয়ে দিতে পারেন, সে ক্ষেত্রে কর্মচারী এইচ আই ভি, এডস রোগের পীড়িত হয়ে থাকেন তো।

কোন ব্যক্তিকে বৈষম্যের উপর ভিত্তি করে চাকরি থেকে বের করে দেওয়ার ভারতের সংবিধান দ্বারা সংরক্ষিত এক কর্মচারীর মৌলিক অধিকারের বিরুদ্ধে অথবা এই নিয়মকে লংঘন করা হয় বলতে গেলে।

২) চুক্তি / বোঝাবুঝি লংঘন করা: 

যে ব্যাক্তি কর্মচারী নিযুক্ত করে থাকেন সেই ব্যাক্তি এবং কর্মচারীদের মধ্যে রোজগার সম্পর্কিত বিভিন্ন শর্ত এবং চুক্তি হয়ে থাকে। আর যদি সেই কর্মচারীর মালিক অথবা যিনি নিযুক্ত করেছেন তিনি যদি এই চুক্তি ভঙ্গ করেন বা তার বিরুদ্ধে যান এবং তার সাথে সাথে সেই কর্মচারীকে চাকরি থেকে বের করে দেন, তাহলে সেটাও অবৈধ সমাপ্তি অথবা চাকরি থেকে বরখাস্ত করা মনে করা হয়।

তাছাড়া যদি আগে থেকে পরিকল্পিত ভাবে, জেনে বুঝে, কোন কর্মচারীকে কাজ থেকে ইস্তফা দেওয়া হয়ে থাকে। সেটাও কিন্তু এই অবৈধ সমাপ্তি অথবা অবৈধ চাকরি থেকে বরখাস্ত করার মধ্যে পড়ে থাকে।

৩) ব্যক্তিগত বিবাদ এবং অন্যান্য কারণ:

কোম্পানির কর্মচারী এবং কর্মচারী নিযুক্ত করা ব্যক্তির মধ্যে যদি কোনরকম বিবাদ থেকে থাকে আর সামান্য ভুলের কারণে চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হয়।

সেটাও কিন্তু বলতে গেলে একেবারে অবৈধ বলে মনে করা হয়। কেননা এখানে যথেষ্ট প্রমাণ অথবা ভুল না থাকার পরেও সেই কর্মচারীকে কাজ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

অবৈধ ভাবে এবং ভুল অনুযায়ী এই রকম চাকরি থেকে বরখাস্ত করার বিরুদ্ধে আইন:

তবে কোন কর্ম ক্ষেত্রে কর্মচারীকে চুক্তি পত্রে সই করিয়ে নেয়া হয়। এর সাথে সাথে কর্মচারীর আইনি অধিকার সম্পর্কেও কিন্তু সমাপ্তি টানা হয়ে যায় অর্থাৎ আইন অনুসারে সেই কর্মচারী বেশি দূর পর্যন্ত যেতে পারেন না।

তাছাড়া ভারতে বিভিন্ন শ্রম এবং রোজগার আইন এমন রয়েছে সেখানে অত্যাচারের বিরুদ্ধে কর্মচারীদের রক্ষা ও কিন্তু করে থাকে এইরকম আইন।

যেমন ধরুন শিল্প বিবাদ অধিনিয়ম 1947, মহিলা ক্ষতিপূরণ অধিনিয়ম 1923, রাজ্য দোকান আর স্থাপনা অধিনিয়ম 1872, মাতৃত্ব লাভ অধিনিয়ম 1961, ইত্যাদি কর্মচারীর সুরক্ষার জন্য জারি করা হয়েছে।

আইনি উপায় আর বেতন প্রাপ্ত করা:

এমন অনেক আইনি উপায় রয়েছে যা কিনা যেকোন কর্মচারীকে চাকরি থেকে অবৈধ ভাবে বা বেআইনি ভাবে বের করে দেওয়ার মামলাতে কাজে লাগানো যেতে পারে।

ন্যায় পাওয়ার জন্য অথবা আপনার বেতন পাওয়ার জন্য আপনার কোম্পানি এবং যে ব্যক্তি আপনাকে নিযুক্ত করেছেন তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আইন অনুসারে বেশ ভালো উপায় আপনাকে নির্বাচন করতে হবে।

এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সে বিষয়ে এমন কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন যার মধ্যে দিয়ে এই ক্ষেত্রে অনেকখানি সাহায্য পেতে পারেন। নিচে দেওয়া হল বেশ কিছু উপায়:

১) কোম্পানি / নিযুক্ত কারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা:

এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে এটা হল আপনার জন্য প্রথম পদক্ষেপ। আর এটা করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ আপনার জন্য। নিজের কোম্পানির এইচ আর বিভাগ অথবা আপনার নিযুক্ত কারী ব্যক্তির অপরাধমূলক বিষয়ের উপরে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।

সেক্ষেত্রে একটি অভিযোগ পত্র লিখতে হবে সুন্দরভাবে। তবে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যে, অভিযোগ পত্রে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলি সুন্দরভাবে উল্লেখ থাকতে হবে, যা কিনা আপনার সমস্যার বিষয়ে সম্পূর্ণরূপে যেন ব্যক্ত করতে পারে, সেই অভিযোগ পত্রের লেখাটি।

এছাড়া তিনি, ব্যক্তিগত বিবাদ থাকে, তাহলে তাকে কিছুটা সময় দেওয়া হবে, এই বিষয়ে বোঝাবুঝি এবং মূল্যায়ন করার জন্য। তাকে বোঝানোর জন্য আপনি বেশ কিছুটা সময় দিতে পারেন, এই বিবাদ মিটিয়ে ফেলার জন্য।

২) আইনি নোটিশ:

হঠাৎ করে কোনো চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর আপনার যে ক্ষয় ক্ষতি হবে সে ক্ষেত্রে কোম্পানির বিরুদ্ধে এবং নিযুক্ত কারী ব্যাক্তির বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠাতে পারেন। আদালত এ বিষয়ে আপনাকে সম্পূর্ণরূপে সাহায্য করবে।

সেক্ষেত্রে যদি সেই কোম্পানির সাথে আপনার স্বাস্থ্য বীমা ভবিষ্য নিধি, আরো অন্যান্য লাভ থেকে বঞ্চিত করা হয়, ক্ষতিসাধন করা হয় তাহলে কিন্তু এই আইনি নোটিশ অনেকখানি সহযোগিতা করবে আপনাকে। তবে সেই নোটিসে অথবা অভিযোগ পত্রে যেন আপনার ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ বিবরণ উল্লেখ করা থাকে।

৩) উকিল নিযুক্ত করা:

দ্বিতীয়ত আপনি এই বিষয়ের বিরুদ্ধে একা সম্পূর্ণ রূপে বিষয়টি সামাল দিতে যদি না পারেন, তাহলে একজন অভিজ্ঞ উকিলের সহায়তা নিতে পারেন। তিনি তার অভিজ্ঞতা দিয়ে আপনাকে সব দিক থেকে সহযোগিতা করবেন এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য।

এছাড়া যদি আপনার এই বিবাদ অভিযোগ দায়ের করার ৪৫ দিনের ভিতরে সমাধান না হয়ে থাকে, তাহলে শিল্প বিচারালয় যোগাযোগ করতে পারেন।

শ্রম আইন অনুসারে আপনি যদি শ্রমিকের শ্রেণীতে পড়েন, তাহলে কিন্তু আপনি শ্রম বিচারালয়ের দরজার কড়া নাড়তে পারেন অনায়াসেই। আর যদি না হয়ে থাকেন, তাহলে এই সমস্যার সমাধান করার জন্য দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন।

আইনি নোটিশ আর মামলার জন্য কর্মচারীর যে সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অথবা ডকুমেন্টস প্রয়োজন পড়বে:

এমন কিছু কাগজপত্র রয়েছে যা কিনা একটি আইনি নোটিশ পাঠানোর জন্য অথবা মামলা দায়ের করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, সেগুলি নিচে দেয়া হল:-

  • রোজগার এর চুক্তিপত্র।
  • ঠিকমতো বেতন না দেওয়ার জন্য প্রয়োজন পড়বে সাক্ষ্য হিসাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট এর কপি।
  • নিযুক্তি পত্র।
  • সমস্ত রকম অতিরিক্ত লাভ আর আর অন্যান্য বিষয়ে বিবরণ দেওয়ার আরো অন্য কাগজপত্র।

এই জটিল পরিস্থিতিতে আপনার একটি উকিলের প্রয়োজনীয়তা কেন পড়তে পারে? 

এই ক্ষেত্রে একজন উকিলকে নিযুক্ত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি একজন শ্রমিক এবং সেবা আইন এর উকিল আপনার এই কাজের জন্য নিযুক্ত করতে পারেন। কেননা আইন অনুসারে ভুল এবং অবৈধভাবে কাজ থেকে বের করে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন মামলার বিষয়ে বেশ ভালো ভাবেই অভিজ্ঞতা রাখেন।

তাই কেবল মাত্র একজন উকিল কিন্তু আপনাকে সঠিক রাস্তায় নিয়ে গিয়ে সঠিকভাবে সিদ্ধান্ত করা এবং step-by-step পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সঠিকভাবে উপদেশ দিতে পারেন। কেননা সেই উকিলের কাছে এমন ধরনের মামলার সমাধান করার জন্য অপেক্ষাকৃত অনুভব আর বিশেষ জ্ঞান থাকে।

একজন উকিল আপনার আইনি নোটিশ আর আপনার মামলার বিভিন্ন বিষয়ের উপরে প্রমাণপত্র এবং আইনি অধিকার সঠিক ভাবে তৈরি করে আদালতে জমা করতে পারবেন।

একজন উকিল সেবা আর শ্রম আইন এর বিশেষজ্ঞ হওয়ার কারণে আপনার এই রকম পরিস্থিতিতে আপনার জন্য উপলব্ধ বিকল্পের মধ্যে দিয়ে বিষয়টি সঠিকভাবে বোঝার জন্য সহযোগিতা করতে পারেন।

আর অবৈধ সমাপ্তি অথবা অবৈধভাবে কাজ থেকে বের করে দেওয়ার পর আপনার বাকি টাকা, বেতন প্রাপ্ত করার ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে সহযোগিতা পাবেন এবং আপনি আপনার বেতন প্রাপ্ত করতে পারবেন।

তো এই ভাবে যদি আপনি কোন ভুল অথবা যথাযথ কারণ ছাড়াই কোন চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়ে থাকেন, তাহলে এভাবে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবেন। তার সাথে সাথে একজন অভিজ্ঞ উকিলের সহযোগিতা নিতে পারবেন অনায়াসেই। আপনার অধিকার এবং প্রাপ্ত বেতন পাওয়ার জন্য আইনি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ রূপে সহযোগিতা করবে।

Leave a Comment