জগদ্ধাত্রী পূজা 2023: জগদ্ধাত্রী পূজায় শুভ ফল পেতে করুন এই কাজগুলি

জগদ্ধাত্রী পূজা এক প্রকার দুর্গাপূজাই বলা যায়, দুর্গাপূজা করতে না পারার দুঃখ থেকেই এই জগদ্ধাত্রী পূজার প্রচলন। হাতে শঙ্খ, চক্র, বান এবং ধনুক নিয়ে সিংহ বাহিনী মা দুর্গা আবির্ভূত হন এই মর্ত্যে জগদ্ধাত্রী রূপে। জগদ্ধাত্রী পূজা চলাকালীন এমন কিছু নিয়ম রয়েছে যেগুলি মেনে চললে শুভ ফল লাভ করা যায়।

জগদ্ধাত্রী পূজায় শুভ ফল পেতে করুন এই কাজগুলি
জগদ্ধাত্রী পূজায় শুভ ফল পেতে করুন এই কাজগুলি

প্রতিটি পূজা পার্বণের মতো জগদ্ধাত্রী পূজাতেও আপনি এমন কিছু শুভ আচার অনুষ্ঠান মানতে পারেন, যার ফলে আপনার সংসারে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি আসবে এবং মনের অনেক ইচ্ছা পূর্ণ হবে।

তো চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক সেই সমস্ত নিয়ম গুলি সম্পর্কে, যেগুলি জগদ্ধাত্রী পূজার সময় আপনাকে মেনে চলতে হবে:

১) বস্ত্র অর্পণ করুন:

জগদ্ধাত্রী পূজার সময় নবমীর দিন কোন জগদ্ধাত্রী মন্দিরে গিয়ে আপনার সাধ্যমত পূজা অর্চনা করে আসতে পারেন। এছাড়াও যদি আপনার পক্ষে সম্ভব হয় তাহলে দেবী মাকে নতুন বস্ত্র অর্পণ করতে পারেন।

যেহেতু দুর্গাপুজোর মতোই এই জগদ্ধাত্রী পূজা সেই কারণে এখানে পঞ্চমী থেকে দশমী পর্যন্ত শুভ তিথি উপলক্ষে পূজা করা হয়।

২) সিঁদুরের কৌটো:

হিন্দু বিবাহিত মহিলাদের কাছে সিঁদুর অনেকখানি পবিত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। জগদ্ধাত্রী পুজোর দশমীর দিন একটা সিঁদুরের কৌটো নিয়ে পুরোহিতকে দিয়ে পূজা করিয়ে মায়ের কাছে কিছুটা সিদুর অর্পণ করে বাকি সিদুর বাড়িতে রেখে দিতে পারেন। এটা আপনি দুর্গাপুজোর সময়ও করতে পারবেন।

তবে যারা সেই সময় করতে পারেন নি তারাই জগদ্ধাত্রী পূজার সময় টাকে কোনমতেই হাতছাড়া করবেন না। বাড়ির সদস্যের উপর যদি কোন সমস্যা থাকে তাহলে সেই সিঁদুর তিলক হিসেবে লাগাতে পারেন। এতে অনেক সমস্যার সমাধান হবে।

৩) অতিথি নারায়ণ:

জগদ্ধাত্রী পূজার সময় শুভ তিথি চলাকালীন যদি বাড়িতে কোন গরিব, দুঃখী মানুষ আসেন, তাহলে তাকে কোন ভাবে আপনি ফিরিয়ে দেবেন না। আপনার সাধ্যের মধ্যে যা রয়েছে তাই তাকে দান করতে পারেন অথবা ক্ষুধার্ত থাকলে অন্ন দান করতে পারেন।

শাস্ত্র অনুসারে ঘরেতে আসা প্রতিটি মানুষ নারায়ন বলাই যায়। সেই কারণে “অতিথি দেব ভব” কথাটা অনেকেই শুনে থাকবেন। ঘরের দুয়ারে আসা গরিব ভিখারিকেও কোনমতেই আপনি তাড়িয়ে দেবেন না।

৪) নিরামিষ আহার গ্রহণ করুন:

পূজা চলাকালীন নিরামিষ খাবার খেতে হয় তা তো আমরা সকলেই জানি। আর সেই জন্যই জগদ্ধাত্রী পূজার দুই দিন অর্থাৎ অষ্টমী এবং নবমীর দিন বাড়িতে নিরামিষ রান্না করার রীতি রয়েছে। তার সাথে সাথে নিরামিষ খাবার খাওয়ারও নিয়ম রয়েছে।

৫) কুমারী মেয়েকে উপহার প্রদান:

জগদ্ধাত্রী পুজোর সময় ১৪ বছরের নিচে কোন কিশোরীকে তার ইচ্ছামত অথবা তার পছন্দের কোন উপহার দান করতে পারেন অথবা তাকে খাবার খাওয়াতে পারেন।

এক কথায় এমন কোন কুমারী মেয়েকে খুশী রাখলে আপনি দেবী জগদ্ধাত্রীর আশীর্বাদ পাবেন।

৬) লাল বস্ত্র ও আলতা, সিঁদুর দান করুন:

প্রতিটি পূজায় শুভ তিথিতে লাল কাপড়, আলতা, সিঁদুর, এগুলি শুভ জিনিস।

তাই পূজা চলাকালীন এই শুভ তিথি গুলিতে কোন সধবা মহিলাকে একটা লাল বস্ত্র অথবা আলতা, সিঁদুর দান করুন। সেটা কোন পরিবারের মানুষ হতে পারে অথবা কোন গরীব দুঃখীনি।

৭) নতুন শাঁখ:

জগদ্ধাত্রী পূজার সময় নতুন শাঁখ কিনে সেটি জগদ্ধাত্রী মায়ের কাছে পুজো করে বাড়ির নিত্য দিনের পূজোর জায়গায় রেখে দিন। এর ফলে অনেক শুভ ফল পাবেন আপনি। শঙ্খ যেমন ঠাকুর ঘরের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস, তেমনি এই শঙ্খ আপনার সংসারে সমস্ত সমস্যা সমাধান করতে সাহায্য করবে।

দেবী দুর্গার অপর রূপ হল দেবী জগদ্ধাত্রী, তবে মা দুর্গা সিংহ বাহিনী দশভূজা, আর জগদ্ধাত্রী হলের সিংহবাহিনী চতুর্ভূজা। তিনি জগতের ধাত্রী অর্থাৎ বলতে গেলে জগতের পালিকা।

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় পুজো হলেও বিশেষ করে চন্দননগর এবং কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পূজা সবচেয়ে জনপ্রিয় সকলের কাছে। নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় তার রাজধানী কৃষ্ণনগরে এই পূজার প্রচলন করেছিলেন বহুকাল আগে।

তারপর থেকে জগদ্ধাত্রী পুজোর জনপ্রিয়তা সারা দিকে বৃদ্ধি পেতে থাকে। তার পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় জগদ্ধাত্রী পূজার প্রচলন বেড়ে যায়। রাজবাড়ির পূজো দেখে হুগলী জেলার ইন্দ্রনারায়ণ চন্দননগরের এই পূজা শুরু করেছিলেন। যা কিনা আজও সকলের কাছে খুবই জনপ্রিয়। এই সমস্ত জায়গায় জগদ্ধাত্রী পূজা খুবই ধুম ধাম ভাবে পালন করা হয়।

শাস্ত্র মতে জগদ্ধাত্রী পূজার সময় নবমীর দিনটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই দিন আপনি যত বেশি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ভাবে মায়ের পূজা করতে পারবেন ভক্তিভরে, তাহলে আপনি অনেক শুভফল লাভ করতে পারবেন।

যাদের সামর্থ্য রয়েছে তারা গরীব দুঃখীদের অন্ন বিতরণ করার পাশাপাশি বস্ত্র বিতরণ করে থাকেন। বিভিন্ন জায়গায় এই পূজা উপলক্ষে মেলাও বসে আর উৎসব আনন্দে গা ভাসিয়ে দেন স্থানীয় মানুষজন। সম্পূর্ণ শীতের আমেজে এই জগদ্ধাত্রী পুজো সকলের কাছে খুবই জনপ্রিয় আনন্দ উৎসবের দিন।

Leave a Comment