সৈয়দ আহমেদ খান জীবনী 2022 – ইতিহাস, পরিবার এবং বিভিন্ন কার্যক্রম

সৈয়দ আহমেদ খান কোথায় জন্মগ্রহণ করেন? সৈয়দ আহমেদ খান দেশের জন্য কি কি করেছিলেন? ওনার বাবা-মা কে? ওনার জীবন কেমন ছিল? এছাড়াও সৈয়দ আহমেদ খান সম্পর্কে জানা-অজানা তথ্য জানুন (Biography of Syed Ahmad Khan in Bengali)।

ভারত বর্ষ ব্রিটিশদের শাসনে থাকাকালীন ভারতীয়দের অনেক অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। ব্রিটিশ শাসিত ভারতের একজন মুসলিম সমাজ সংস্কারক হিসেবে যিনি ছিলেন তিনি হলেন সৈয়দ আহমেদ খান।

সৈয়দ আহমেদ খান জীবন পরিচয় - Syed Ahmad Khan Biography in Bengali
সৈয়দ আহমেদ খান জীবন পরিচয় – Syed Ahmad Khan Biography in Bengali

তিনি উনবিংশ শতকে ভারতীয় মুসলমানদের আধুনিক ও পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে তিনি মুসলিম জাতীয়তাবাদ এর অগ্রদূত হিসেবেই পরিচিত হন।

তো চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক, সৈয়দ আহমেদ খানের জীবনী সম্পর্কে: 

সৈয়দ আহমেদ খানের জীবনী:

  • সম্পূর্ণ নাম: সৈয়দ আহমেদ তাকভী বিন সৈয়দ আহমদ মুত্তাকি অথবা তিনি সৈয়দ আহমেদ খান নামেই পরিচিত হন।
  • জন্ম: ১৮১৭ সালের ১৭ ই অক্টোবর, তৎকালীন মুঘল সাম্রাজ্যের রাজধানীর দিল্লিতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন
  • পিতার নাম: সৈয়দ আহমেদ মুত্তাকী
  • মাতার নাম: আজিজ – উন – নিসা
  • স্ত্রীর নাম: পারসা বেগম ওরফে মোবারক বেগম
  • সন্তান: দুটি পুত্র সন্তান, সৈয়দ হামিদ এবং সৈয়দ মাহমুদ  এবং একটি কন্যা সন্তান আমিনা
  • পরিচিতির কারণ: আলীগড় আন্দোলনের পথিকৃৎ ছিলেন তিনি
  • মৃত্যু: ১৮৯৮ সালের ২৭ শে মার্চ, ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

সৈয়দ আহমেদ খানের জন্ম ও পরিবার: 

১৮১৭ সালের ১৭ই অক্টোবর তৎকালের মুঘল সাম্রাজ্যের রাজধানী দিল্লিতে সৈয়দ আহমেদ খানের জন্ম হয়। তার পিতার নাম ছিল সৈয়দ আহমেদ মুত্তাকী এবং মায়ের নাম ছিল আজিজ উন নিসা। এছাড়া সৈয়দ আহমেদ খানের পরিবারটি ছিল ভীষণভাবে রাজ পরিবার ঘনিষ্ঠ।

সৈয়দ আহমেদের বাবা ব্যক্তিগতভাবে তৎকালীন মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর শাহ কে চিনতেন এবং তার ব্যক্তিগত সচিব ও তিনি ছিলেন। তিন ভাই বোনের মধ্যে সৈয়দ আহমেদ ছিলেন সব থেকে ছোট। তার বড় ভাই এর নাম ছিল সৈয়দ মোহাম্মদ বিন মুত্তাকী খান এবং বড় দিদির নাম ছিল সাফিয়াত উন নিসা।

সৈয়দ আহমেদ খানের ব্যক্তিগত জীবন: 

পরবর্তীতে তিনি পারসা বেগম ওরফে মোবারক বেগম নামক এক মহিলার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তাদের সৈয়দ হামিদ এবং সৈয়দ মাহমুদ নামে দুটি পুত্র সন্তান আর আমিনা নামে একটি কন্যা সন্তান ছিল। তবে দুঃখের বিষয় হলো এটা যে, তিন ভাই বোনের মধ্যে কন্যা সন্তান আমিনা খুব ছোটবেলাতেই মারা যায়।

সৈয়দ আহমেদ খানের শিক্ষা জীবন:

১৮২২ সালে তার বাবার আধ্যাত্মিক গুরু শাহ গোলাম আলী কর্তৃক আহমেদের শিক্ষার সূচনা হয়েছিল। তাকে একজন মহিলা গৃহ শিক্ষিকার দ্বারা কোরান পড়তে এবং বুঝতে শেখানো হয়েছিল।

তিনি দিল্লিতে মুসলিম আভিজাত্যের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং তার পৈতৃক বাড়ির সংলগ্ন একটি বাড়িতে একজন শিক্ষিত পন্ডিত মৌলভী হামিদ উদ্দিন দ্বারা পরিচালিত মক্তবে যোগদান করেন এবং সেখানে ফারসি ও আরবি ভাষা শিখতে শুরু করেন।

এছাড়া তিনি সাহাবী, জাউক এবং গালিবের মত মুসলিম পন্ডিত এবং লেখকদের রচনাবলী পড়েছিলেন। তার পাশাপাশি আরও অন্যান্য শিক্ষকেরা তাকে জ্যোতির্বিজ্ঞান, গণিত এবং বীজগণিতের বিষয়ে শিক্ষা দান করেছিলেন।

এছাড়া সৈয়দ আহমেদ হাকিম গোলাম হায়দার খানের অধীনে অনেক বছর ধরে ঔষধবিদ্যা এর ক্ষেত্রে পড়াশোনা করেন। সৈয়দ আহমেদ শুটিং, সাঁতার এবং আরো অন্যান্য খেলাধুলাতে খুবই পারদর্শী ছিলেন। তিনি মুঘল আদালতের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং বিভিন্ন উৎসব, পার্টি এবং আবৃত্তিতে অংশগ্রহণ করতেন। সৈয়দ আহমেদের বড় ভাই দিল্লি থেকে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা “সৈয়দুল আকবর” চালু করেন যা ছিল উত্তর ভারতের প্রথম দিকের উর্দু সংবাদপত্র।

এরপর ১৮৩৮ সালে তার পিতার মৃত্যুর আগে পর্যন্ত সৈয়দ আহমেদ একটি ধনী তরুণ মুসলিম সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির মতো স্বাভাবিকভাবে জীবন যাপন করতেন, কিন্তু পিতার মৃত্যুর পর তিনি তার দাদা এবং বাবার উপাধি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলেন এবং সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর দ্বারা “আরিফ জং” উপাধিতে ভূষিত হন। পরবর্তীতে আর্থিক সমস্যার কারণে সৈয়দ আহমেদের প্রথাগত শিক্ষার অবসান ঘটে, যদিও তিনি বিভিন্ন বিষয়ে বই ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ভাবে পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছিলেন।

সৈয়দ আহমেদ খানের কর্মজীবন: 

পিতার মৃত্যুর পর তাদের আর্থিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে, তাছাড়া মুঘল রাজনৈতিক শক্তির ক্রমাগত পতনের আভাস পেয়ে সৈয়দ আহমেদ খান ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে চাকরি করার জন্য সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ঐ উপনিবেশিক সিভিল সার্ভিসে প্রবেশ করতে পারেননি, কারণ শুধু ১৮৬০ এর দশকের ভারতীয়দের ভর্তি করা হয়েছিল সেই কারণে। তার প্রথম নিয়োগ ছিল ফেরেস্তাদার বা দিল্লিতে সদর আমিনের কার্যালয়ে ফৌজদারি বিভাগের কেরানি হিসাবে। তার কাজ ছিল রেকর্ড রাখা এবং আদালত বিষয়ক ব্যবস্থাপনা গুলি করা।

এরপর ১৮৪৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাকে আগ্রায় বদলি করে দেওয়া হয়, এবং কমিশনার অফিসের নায়ক মুন্সী বা ডেপুটি রিডার পদে উন্নীত করা হয়। ১৮৪১ সালে তিনি ফতেপুর সিক্রির মুন্সিফ বা সাব জজ হিসেবে নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে ১৮৪৬ সালের দিল্লিতে বদলি হয়ে যান, তিনি ১৮৫০ সাল থেকে ১৮৫৩ সাল পর্যন্ত সদর আমিনের দায়িত্ব পালন করার সময় দুটি স্বল্পমেয়াদি বদলি ছাড়া ১৮৫৪ সাল পর্যন্ত দিল্লিতেই ছিলেন।

সৈয়দ আহমেদ খানের অবদান:

তারপর ১৮৫৫ সালে তিনি বিজনোরে সদর আমিন পদে অধিষ্ঠিত হন, উচ্চপদস্থ ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের সাথে পরিচিত সৈয়দ আহমেদ আদালতে চাকরির সময় উপনিবেশিক রাজনীতি সম্পর্কে ঘনিষ্ঠ জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। ভারতীয় বিদ্রোহের আবির্ভাবের সময় ১৮৫৭ সালের ১০ ই মে সৈয়দ আহমেদ খান বিজনোর আদালতে প্রধান মূল্যায়ন কর্মকর্তা হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

তাছাড়া তিনি ব্রিটিশ অফিসারদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং বিদ্রোহী সৈন্যদের থেকে অনেক অফিসার এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের জীবন রক্ষা করেছিলেন। সংঘর্ষের পরে বিপুল সংখ্যক অসামরিক মানুষ মারা গিয়েছিল।

এরপর লখনও আগ্রা দিল্লি এবং কানপুরের মতো মুসলিম শক্তির পূর্ববর্তী কেন্দ্রগুলি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। সৈয়দ আহমেদ ও সিপাহী বিদ্রোহের হানাহানিতে বেশ কয়েকজন কাছের আত্মীয় কে চিরদিনের জন্য হারান।

তবে এতকিছুর মধ্যে দিয়েও তিনি তার মাকে উদ্ধার করতে সফল হয়েছিলেন, তবে তার মা যে আঘাত পেয়েছিলেন তার কারণে তিনি মিরাটে মারা যান। ১৮৫৮ সালে তিনি মুরাদাবাদের আদালতে সাদার – উস –  সুদূর নামে একটি উচ্চ পদে নিযুক্ত হন।

আর যেখানে তিনি তার সবচেয়ে বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম “দ্য কজ অফ দি ইন্ডিয়ান রিভোল্ট” এর কাজ শুরু করে দেন। ১৮৬২ সালে তিনি গাজীপুরে এবং পরবর্তীতে ১৮৬৪ সালে আলীগড়ে স্থানান্তরিত হয়ে যান। ১৮৬৪ সালে তাকে বেনারসে পাঠানো হয় এবং সেখানে সাব জজ পদে অধিষ্ঠিত হন।

পরবর্তীতে ১৮৬৯ সালের এপ্রিল মাসে তিনি তার দুই পুত্রের সঙ্গে বিদেশ পাড়ি দেন। তার পুত্র সৈয়দ মাহমুদ ইংল্যান্ডের পড়াশোনার জন্য বৃত্তি পেয়েছিলেন এবং সৈয়দ হামিদ ও একই সাথে ইংল্যান্ডে গিয়েছিলেন। সৈয়দ আহমেদ ১৮৭৬ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং আলীগড়েই স্থায়ীভাবে থেকে যান।

১৮৭৭ সালে তিনি ইম্পেরিয়াল লেডিস লেটিভ কাউন্সিলর এর অতিরিক্ত সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন। ১৮৭৮ সালের জুলাই মাস থেকে ১৮৮০ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব দায়িত্বের সাথে পালন করেন।

সমাজ সংস্কারে সৈয়দ আহমেদ খানের ভূমিকা: 

তিনি ১৮৮৭ সাল থেকে ১৮৯৩ সাল পর্যন্ত ২ টি মেয়াদে উত্তর-পশ্চিম প্রদেশের লেফটেন্যান্ট গভর্নরের আইন পরিষদের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ভারতের পিছিয়ে পড়া মুসলমানদের সার্বিক উন্নতি ঘটানোর জন্য অনেক কাজ করেছিলেন।

তার নেতৃত্বে ভারতীয় মুসলিমরা আলীগড় আন্দোলনে সামিল হয়। তিনি মুসলমানদের শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়। এই শিক্ষায়তনে ইংরেজ শিক্ষকরা মুসলিম যুবকদের বিজ্ঞান ও কলা বিষয়ে শিক্ষা দিতেন।

আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ থিওডোর বেকের চেষ্টায় আহমেদ ভারতে জাতীয় কংগ্রেসের প্রভাব বিস্তার আটকাতে “এডুকেশনাল কংগ্রেস”, “ইউনাইটেড পেট্রিয়াটিক অ্যাসোসিয়েশন”, “মহামেডান অ্যাসোসিয়েশন” নামে কংগ্রেসের প্রতিদ্বন্দ্বী তিনটি সংস্থা গঠন করেছিলেন। তার পাশাপাশি মুসলিম সমাজের প্রাশ্চাত্য শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আহমেদতাহজিব – উল – আকলার্ক” এবং “পাইওনিয়ার” নামে দুটি পত্রিকা ও প্রকাশ করেছিলেন।

আবার অন্যদিকে দেখতে গেলে দেখা যায় যে, বিজ্ঞান শিক্ষার জন্য গড়ে তোলেন বিজ্ঞান সমিতি”, “অনুবাদ সমিতি”, “কমিটি ফর এডভান্সমেন্ট অফ লার্নিং অ্যামং দ্য মহামেডান অফ ইন্ডিয়া” এই সমস্ত সংস্থাগুলি। গাজীপুরে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল, মুসলিম সমাজের শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি নারী মুক্তি আন্দোলনেও সৈয়দ আহমেদের ভূমিকা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিজ্ঞানের আলোতে মুসলিমদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ “কোরান শরীফ” এর ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। তিনিই প্রথম মুসলিম মেয়েদের শিক্ষার জগতে আনার জন্য আওয়াজ তুলেছিলেন।

তাছাড়া মুসলমান সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের কুকথা যেমন ধরুন তিন তালাক প্রথা, বহুবিবাহ প্রথা, বাল্যবিবাহ, পর্দা প্রথা  এই সমস্ত প্রথার বিরুদ্ধে তিনি সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। এই সমাজের রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানান। সমাজ সংস্কারের পাশাপাশি সৈয়দ আহমেদ খান একজন খুবই ভালো লেখকও ছিলেন।

সৈয়দ আহমেদ খানের লেখা গ্রন্থ: 

ভারতীয় সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ে তিনি অনেক গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। তার লেখা কয়েকটি বইয়ের নাম হল “এ ভয়েস টু মর্ডার্নিজম”, “দ্য কজেস অফ দি ইন্ডিয়ান রেভল্ট”, “আসর-উস-সানাদিদ”, “দ্য মহামেডান কমেন্ট্রি অন দ্য হোলি বাইবেল”, “অ্যান অ্যাকাউন্ট অব দ্য লয়াল মোহামেডান অফ ইন্ডিয়া”, ইত্যাদি।

সৈয়দ আহমেদ খান আবুল ফজল রচিত সম্রাট আকবরের জীবন চিত্র “আইন-ই -আকবরী” এর একটি সঠিক এবং সচিত্র সংস্করণ রচনা করেছিলেন। মুসলিম ধর্মের প্রবক্তা হযরত মুহাম্মদ এর জীবনের উপরেও তিনি বেশ কিছু প্রবন্ধ রচনা করেছিলেন।

সৈয়দ আহমেদ খান তিনি তার কৃতিত্বের জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের “ফেলো” হিসেবে নির্বাচিত হন। এর পাশাপাশি তাকে “অর্ডার অফ দ্য স্টার অফ ইন্ডিয়া” এর একজন সদস্য হিসেবে ও নির্বাচিত করা হয়েছিল।

সৈয়দ আহমেদ খানের সম্মান: 

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রতি শর্তহীন আনুগত্যের জন্য এলিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানিত করেছিল, “এল এল ডি ডিগ্রী” প্রদান করে। তিনি খান বাহাদূর” পদবীও লাভ করেন এবং ব্রিটিশ সরকার দ্বারা “নাইট” উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। তাছাড়া ভারতীয় এবং পাকিস্তানের ডাক বিভাগ সৈয়দ আহমেদ খানের সম্মানে তার ছবি  দেওয়া ডাকটিকেট চালু করেছিল।

সৈয়দ আহমেদ খানের মৃত্যু: 

সৈয়দ আহমেদ খান ১৮৯৮ সালের ২৭ শে মার্চ মাসে, ৮০ বছর বয়সে ব্রিটিশ অধ্যুষিত ভারতের উত্তর-পশ্চিম প্রদেশের অন্তর্গত আলীগড়েতে মৃত্যুবরণ করেন।

তার মৃত্যুতে আরো সমস্ত ভারতবাসীর পাশাপাশি মুসলমান সমাজে নেমে আসে শোকের ছায়া। মুসলিমদের জন্য তিনি করে গিয়েছেন অনেক কিছুই। বিশেষ করে মেয়েদেরকে বিভিন্ন রকম কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে উদ্ধার করে শিক্ষার আলোতে প্রবেশ করাতে পেরেছিলেন তিনি। তার লেখা গ্রন্থগুলোতে তিনি সমাজকে অনেক কিছুই শিখিয়ে গিয়েছেন। আর এই সমস্ত কাজের মধ্যে দিয়ে তিনি আজও চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছেন।

Leave a Comment