ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা কতটা? উচ্চতম আদালতের ক্ষমতা জানুন

আপনি কি জানেন ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা কতটা? সুপ্রিম কোর্ট কি কি করতে পারে? সংবিধানের রক্ষক সুপ্রিম কোর্টের আইনি ক্ষমতা ও বিশেষ ক্ষমতা সম্পর্কে জেনে নিন।

ভারতের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট কে সংবিধানের রক্ষক বলা হয়ে থাকে, তথা সময় সময় এর উপর নির্ভর করে সুপ্রিম কোর্ট দ্বারা সংবিধানের রক্ষা করা হয়েছে। সাংবিধানিক ব্যবস্থার মাধ্যমে উচ্চতম বিচারালয় এর গুরুত্ব আর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কোন অপরাধের বিচারের দিক থেকে সর্বোচ্চ আদালতের দিক থেকে সুপ্রিম কোর্টের সর্বোচ্চ স্থান দেওয়া হয়েছে।

সংবিধানের অনুচ্ছেদ 124 এর অন্তর্গত ভারতের উচ্চতম আদালতে স্থাপনা করা হয়েছে। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার এর সংরক্ষক হিসেবে উচ্চতম বিচারালয় অথবা সুপ্রিমকোর্টকে সকলেই কমবেশি চেনেন।

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা কতটা? উচ্চতম আদালতের ক্ষমতা জানুন
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা কতটা? উচ্চতম আদালতের ক্ষমতা জানুন

দেশের সর্বোচ্চ আদালত যাকে দেশের সাধারন বিধানের ব্যাখ্যা সম্বন্ধে অন্তিম অথবা শেষ নির্ণয় দেওয়ার অধিকার প্রাপ্ত করা রয়েছে। এটি সিভিল অথবা ক্রিমিনাল মামলার সর্বোচ্চ আদালতে বলা যেতে পারে।

সংবিধানে প্রদত্ত সুপ্রিম কোর্ট (উচ্চতম আদালত) এর ক্ষমতা:

বিচারপতি অথবা জজ-এর নিযুক্তি:

সংবিধানের অনুচ্ছেদ 124 (2) এর অনুসারে উচ্চতম বিচারালয়ের বিচারপতির রাষ্ট্রপতি দ্বারা নিযুক্ত করা হয়। কিন্তু এই মামলাতে রাষ্ট্রপতি কোনরকম স্বাধীন অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত থাকেনা। রাষ্ট্রপতি বিচারপতি নিযুক্তির ক্ষেত্রে বিচারপতি আর ভারতের মুখ্য বিচারপতির পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।

এটি বলা যেতে পারে যে, বিচারপতি নিযুক্ত করার জন্য রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কেবলমাত্র একটি সাধারণ ক্ষমতা হয়ে থাকে। কেননা বিচারপতির নিযুক্তিতে বিচারপতিদের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে।

রাষ্ট্রপতি এই প্রকারের পরামর্শ কে মানার জন্য বাধ্য থাকেন। বিচারপতির নিযুক্তির মামলাতে সংবিধানের কার্যকারিতা ও ক্ষমতা প্রদান করা হয় না। বিচারপতি নিযুক্তির মামলাতে সংবিধানে টাস্কফোর্সের শক্তি প্রদান করা হয় না অথবা ক্ষমতা প্রদান করা হয় না।

টাস্কফোর্স বিচারপতি নিযুক্তির মামলাতে এমন ব্যক্তিদের থেকে পরামর্শ করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে যা কিনা এই বিষয়ের উপরে পরামর্শ দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণরূপে যোগ্য হয়ে থাকেন। যেমন উচ্চতম আর উচ্চ আদালতের বিচারপতি।

মহা অভিযোগ দ্বারা বিচারপতিদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া:

সংবিধানের অনুচ্ছেদ 124 (4) (5) এর অনুসারে বিচারপতিদের তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য সংসদে মহা অভিযোগ চালাতে হবে। অভিযোগ ছাড়াও অন্য বিধানের দ্বারা বিচারপতিদের তাদের পদ থেকে কখনোই সরানো যাবে না।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের তাদের নিজের পদ থেকে সরানোর জন্য সংসদের লোকসভা ও রাজ্যসভা দুটি সদন এর মহা অভিযোগ এর মাধ্যমে কম করে দুই-তৃতীয়াংশ বহুমত প্রাপ্ত হওয়ার পর উচ্চতম বিচারালয়ের বিচারপতিদের তার পদ থেকে সরানো যেতে পারে। পদ থেকে সরানোর জন্য সিদ্ধ অসমর্থ তার আধারের উপরে মহা অভিযোগ চালানো যাবে।

অভিলেখ / রেকর্ড: সর্বোচ্চ আদালত রেকর্ড আদালত হয়ে থাকে। এটি অনুচ্ছেদ 129 এর মাধ্যমে বলা হয়েছে। উচ্চতম বিচারালয়ের যেকোনো কার্যকারিতার লিখিত ভাবে হয়ে থাকে। তথা এরপর সেই কাজের সুরক্ষা প্রদান করা হয় এই কাজের অধীনস্থ বিচারালয় অথবা এটা বলা যেতে পারে যে, সম্পূর্ণ ভারতের আদালতের আদালত গুলির তে এর কার্যকারিতা বিশেষরূপে প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রারম্ভিক অধিকারীতা:

সংবিধানের অনুচ্ছেদ 137 এর অন্তর্গত উচ্চতম বিচারালয় এর তিন ধরনের মামলার ক্ষেত্রে প্রারম্ভিক অধিকারপ্রাপ্ত মামলা গুলি হল:-

১) সংঘ তথা এক রাজ্যের মধ্যে,

২) সংঘ আর কোন একের অধিক রাজ্যের মধ্যে,

৩) দুই অথবা দুইয়ের অধিক রাজ্যের মধ্যে।

তবুও এইভাবে বিবাদ আসতে পারে উচ্চতম বিচারালয়ের প্রারম্ভিক অধিকারপ্রাপ্ত হতে পারে। কোন রাজ্য বনাম ভারত সংঘের মামলাতে কেন্দ্র সরকার অনুসন্ধান এর ধারা 3 এর অধীনে কর্ণাটক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আর কিছু অন্যান্য মন্ত্রীদের ভোটার ভাই ভাতিজা বাদ পক্ষপাত সরকারি ক্ষমতার দুর্ব্যবহারের অপরাধে অনুসন্ধান করার জন্য কমিশন নিযুক্ত করা হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত দ্বারা সময় সময়ের উপরে এমন প্রারম্ভিক ক্ষমতার প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।

মূল অধিকার এর সম্বন্ধে প্রারম্ভিক অধিকারীতা:

সংবিধানের অনুচ্ছেদ 32 এর অন্তর্গত অধিকারের লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে নাগরিক দের উপায় অথবা প্রতিকার প্রদান করার জন্য সর্বোচ্চ আদালতের প্রারম্ভিক অধিকার প্রদান করে থাকে। এর অন্তর্গত প্রত্যেক নাগরিককে নিজের অধিকারের প্রবর্তনের জন্য সর্বোচ্চ আদালতের অধিকার দেওয়া হয়েছে, নাগরিকদের ভালোর জন্য কোন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার।

আপিলিয় অধিকারীকতা:

অনুচ্ছেদ 132 এর অন্তর্গত সর্বোচ্চ আদালতের অপিলিয় মামলাতে আধিকারিকতা প্রাপ্ত হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত দেশের সর্বোচ্চ আপিল আদালতও বলা যায়।তাকে সমস্ত রাজ্যের সর্বোচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে তার নির্ণয়ের বিরুদ্ধে আপিল শোনার অধিকার প্রাপ্ত রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল এর ক্ষমতা কে চার ভাগে আপিলের মধ্যে ভাগ করা হয়েছে, যা কিনা নিম্নে দেওয়া হল:-

১) সাংবিধানিক মামলা

২) সিভিল মামলা

৩) দণ্ডনীয় মামলা

৪) বিশেষ আজ্ঞা থেকে আপিল

এই চার প্রকার আপিল কে অধিকারী সর্বোচ্চ আদালতের অনুচ্ছেদ 132 এর অন্তর্গত দেওয়া হয়েছে।

তথা সর্বোচ্চ আদালতের ক্ষমতা ও শামিল করা হয়েছে যা কেন একটি খুবই বড় ক্ষমতা। শেষ আদেশ অথবা অন্তিম নির্ণয় দিয়ে থাকে এই সর্বোচ্চ আদালত অথবা সুপ্রিম কোট।
 

সুপ্রিমকোর্টের থেকে যে রায় ঘোষণা করা হয় তা আপিলের গ্রহণ নাও হতে পারে কেননা সর্বোচ্চ আদালতের শেষ নেই নয় অথবা শেষ আদেশ যদি কোন ব্যক্তিকে ব্যথিত করে থাকে তাহলে এর জন্য সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করতে হবে।

মামলার অন্তরণ এর ক্ষমতা:

অনুচ্ছেদ 1391 যেখানে সংবিধানের 42 সংশোধন 1974 দ্বারা যুক্ত করা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদের একটি উচ্চ আদালত অথবা হাইকোর্টকে দ্বিতীয় উচ্চ আদালতে অথবা হাইকোর্টে কিছু মামলার অন্তরার তথা উচ্চ আদালত থেকে মামলা কে সরিয়ে নিয়ে স্বয়ং সুপ্রিম কোর্ট দ্বারা শোনার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্ট কে প্রদান করে থাকে। ভারতের যে কোন আদালত হাই কোর্ট দ্বারা ঘোষিত বিধান মেনে থাকবে আর এই কথা অনুচ্ছেদ 141 এ অন্তর্গত করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ আদালত বিধান নির্মাণ করে না, কিন্তু তার দ্বারা দেওয়া নির্ণয় বিধান তৈরি হয়ে যায়। সেই নির্ণয়ের উপরে বিধানের যে পয়েন্টের ওপরে প্রশ্ন রাখা হয়, সেগুলিতে ভারতের কোন আদালত দ্বারা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সুপ্রিম কোর্ট নিজের দ্বারা দেওয়া নির্ণয় কেও বদলে দিতে পারে।

সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের judicial review এর ক্ষমতা রয়েছে:

সংবিধানের অনুচ্ছেদ 137 এর অন্তর্গত ভারতের সর্বোচ্চ আদালত অথবা সুপ্রিম কোট এই ক্ষমতা পেয়ে থাকে। এই ক্ষমতার মাধ্যমে আদালত সংসদ দ্বারা কোন বিধানের ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু সর্বোচ্চ আদালত কে এই ক্ষমতা সংসদ দ্বারা বানানো বিধানের অধীনে মিলে থাকে। ক্ষমতার প্রয়োগ অনুচ্ছেদ 145 এর অধীনে আদালত দ্বারা বানানোর নিয়ম অনুসারে করা যেতে পারে।

সর্বোচ্চ আদালত / সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম বানানোর ক্ষমতা:

আইনের দিক থেকেও সর্বোচ্চ আদালত অথবা সুপ্রিম কোর্টের আদালতের নিয়ম বানানোর ক্ষমতা ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ 145 এ দেওয়া হয়েছে। এর অনুচ্ছেদ এর অন্তর্গত বিধানের ব্যবস্থা সম্পর্কে নিয়ম, আপিল শোনার জন্য প্রক্রিয়া, আদালতের আনুষঙ্গিক খরচ, অফিসের সম্পর্কে নিয়ম, তাছাড়া বিচারপতিদের নূন্যতম সংখ্যা নির্ধারণ করা ইত্যাদি শামিল রয়েছে।

বিচার বিভাগ একটি স্বতন্ত্র সংস্থা:

ভারতের সংবিধানের অন্তর্গত বিচার বিভাগকে একটি স্বতন্ত্র সংস্থা হিসেবে মনে করা হয় এবং সর্বোচ্চ আদালত সর্বোচ্চ হয়ে থাকে। একটি স্বতন্ত্র নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ, নাগরিকদের অধিকার সংরক্ষণ করার জন্য যথেষ্ট হয়। এর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় যে সর্বোচ্চ আদালত তার নিজের কর্তব্য পালন করার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণরূপে স্বতন্ত্র এবং সমস্ত রকমের রাজনৈতিক প্রেসার থেকে মুক্ত হয়ে থাকবে।

এর জন্য বিচার বিভাগকে খুবই নিষপক্ষ হয়ে কাজ করতে হবে। যার ফলে জনসাধারণ আইনের উপরে ভরসা করে তাদের সাথে হওয়া অন্যায়ের অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য, আইনের কাছে সরাসরি সমস্ত কিছু অভিযোগের মাধ্যমে জানাতে পারেন। আর সমস্ত রকমের সমস্যার সমাধান করতে পারেন।

Leave a Comment