শ্রী অরবিন্দ ঘোষ জীবনী 2022 – ইতিহাস, পরিবার এবং বিপ্লবী কার্যক্রম

অরবিন্দ ঘোষ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন? শ্রী অরবিন্দ ঘোষ কিভাবে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন? ওনার বাবা-মা কে? ওনার জীবন কেমন ছিল? এছাড়াও শ্রী অরবিন্দ ঘোষ সম্পর্কে জানা-অজানা তথ্য জানুন (Biography of Sri Aurobindo in Bengali)।

অরবিন্দ ঘোষ, যিনি হলেন স্বাধীনতা সংগ্রামে একজন উল্লেখযোগ্য চরিত্র। সারা বিশ্বে তিনি শ্রী অরবিন্দু নামে বিখ্যাত হয়েছেন। ভারতীয় এই বিখ্যাত বাঙালির প্রথম জীবনের ছিলেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও দেশপ্রেমিক। পরবর্তীকালে তিনি হয়ে ওঠেন আধ্যাত্মসাধক ও দার্শনিক শ্রী অরবিন্দ।

শ্রী অরবিন্দ ঘোষ জীবন পরিচয় - Sri Aurobindo Ghose Biography in Bengali
শ্রী অরবিন্দ ঘোষ জীবন পরিচয় – Sri Aurobindo Ghose Biography in Bengali

তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন খুবই ছোটবেলায়, পড়াশোনার উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ড চলে গিয়েছিলেন। তিনি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ট্রাইপস পাস করেন। তারপর পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরে তিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

অরবিন্দের জীবনী:

  • সম্পূর্ণ নাম: শ্রী অরবিন্দ ঘোষ
  • জন্মতারিখ: ১৫ই আগস্ট ১৮৭২
  • জন্মস্থান: কলকাতা
  • জাতীয়তা: ভারতীয়
  • রাশি: সিংহ রাশি।

পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন:

  • পিতার নাম: কৃষ্ণ ধন ঘোষ
  • মাতার নাম: স্বর্ণলতা দেবী
  • স্ত্রীর নাম: মৃণালিনী দেবী
  • পুত্র-কন্যা: এ সম্পর্কে জানা নেই।

শিক্ষা ও স্কুল, কলেজ জীবন:

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: আই সি এস (ICS)
  • বিদ্যালয় ও কলেজ: লোরেটো কনভেন্ট স্কুল, লন্ডনের সেইন্ট পলস কলেজ, কেমব্রিজ
  • মৃত্যুর তারিখ: ৫ ডিসেম্বর ১৯৫০
  • মৃত্যুর স্থান: পন্ডিচেরি।

শ্রী অরবিন্দের প্রথম জীবন: 

১৫ই আগস্ট ১৮৭২ সালে অরবিন্দ ঘোষ জন্মগ্রহণ করেছিলেন কলকাতায়। তিনি ছিলেন হুগলি জেলার গঙ্গা তীরবর্তী কোন্নগরের প্রাচীন ঘোষ বংশের একজন সুযোগ্য বংশধর। বংশ পরম্পরা অনুযায়ী তাদের পরিবার ছিল খুবই সুশিক্ষিত এবং সম্ভ্রান্ত।

অরবিন্দ এর পিতার নাম ছিল কৃষ্ণ ধন ঘোষ এবং মায়ের নাম ছিল স্বর্ণলতা দেবী। আর মা ছিলেন এবং সমাজ সংস্কারক শ্রী নারায়ণ বসুর কন্যা। তবে জানা যায় যে অরবিন্দ তার জীবনের প্রথম পাঁচটি বছর তার পিতার কর্ম ক্ষেত্রে রংপুরে বড় হয়েছেন।

তবে ইতিহাস ঘাটলে জানা যায় যে, বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে ১৯০৫ থেকে ১৯১১ তিনি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তার রাজনৈতিক জীবন ছিল খুবই তীক্ষ্ণ আর ঘটনাবহুল। আধ্যাত্ম্য সাধনার জীবনে হয়ে ওঠে অনেক বড় বড় স্বাধীনতা সংগ্রামের পথপ্রদর্শক এবং গুরু।

শ্রী অরবিন্দর স্কুল শিক্ষা জীবন ও বিলেত শিক্ষা জীবন: 

লোরেটো কনভেন্টে দুই বছর পর্যন্ত পড়াশোনা করার পর অরবিন্দের পিতা তার ২ ভাই সহ তাদেরকে ইংল্যান্ডে পড়াশোনা করতে পাঠিয়ে দেন। সেখানে তারা রেভারেন্ড ও শ্রীমতি  ড্রিউইটের তত্ত্বাবধানে ব্যক্তিগত ভাবে ইংরেজি অধ্যায়ন করতে শুরু করেন ১৮৮৪ সালে। অরবিন্দ লন্ডনের সেইন্ট পলস স্কুলে ভর্তি হন।

এখান থেকে তিনি গ্রীক, ল্যাটিন এবং শেষ তিন বছরে সাহিত্য বিশেষত ইংরেজি কবিতা অধ্যায়ন করেছিলেন। ডঃ কেডি ঘোষ ভেবেছিলেন তার তিন পুত্রই সম্মানসূচক ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় পাস করবেন। কিন্তু ১৮৮৯ সালে দেখা গেল একমাত্র সবার ছোট ছেলে অরবিন্দই বাবার আশা পূরণ করতে পারবেন।

বাকি ভাইয়েরা ইতিমধ্যে ভিন্ন দিকে নিজেদের ভবিষ্যতের পথ বেছে  নিয়েছেন। আই সি এস কর্মকর্তা হওয়ার জন্য ছাত্রদেরকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পাশ করতে হতো এবং ইংরেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বছর অধ্যয়নের অভিজ্ঞতাও থাকার প্রয়োজন ছিল।

তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বৃত্তি অর্জন ছাড়া ইংরেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া করা অরবিন্দের পক্ষে সম্ভব ছিলো না, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কিংস কলেজের বৃত্তি পরীক্ষায় পাস করায় তা আবার সম্ভবপর হয়ে ওঠে। তারপর তিনি কয়েক মাস পর লিখিত পরীক্ষায় পাশ করেন, ২৫০ জন প্রতিযোগিতার মাঝখানে ১১ তম স্থান অধিকার করেন।

এরপর দুই বছর প্রবেশনের শেষ দিকে অরবিন্দ নিশ্চিত হন যে ব্রিটিশদের সেবা করার ইচ্ছা তার নেই অর্থাৎ আই সি এস পরীক্ষার অংশ হিসাবে অশ্ব আরোহন পরীক্ষায় হাজির না হয়ে তিনি অকৃতকার্য হয়ে পড়েন। সেই একই সময়ে মহারাজ তৃতীয় সায়াজিরা ও গায়েকোয়াড় বিলেত ভ্রমণ করছিলেন।

স্যার হেনরি করটনের ভাই জেমস করটন যিনি কিছুদিন বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্নর ছিলেন এবং সাউথ কেন্সিংটন লিবারেল ক্লাবের সচিব ছিলেন। অরবিন্দ ও তার বাবার পূর্ব পরিচিতর কারণে বারোদা স্টেট সার্ভিসে অরবিন্দের চাকরির ব্যবস্থা করেন এবং যুবরাজের সাথে অরবিন্দের দেখা করার ব্যবস্থা করে দেন। ভারতের দিকে যাত্রা করেন ১৮৯৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।

ভারতে অপেক্ষারত অরবিন্দর বাবা বোম্বের এজেন্টের কাছ থেকে ভুল সংবাদ পান যে, পর্তুগালের উপকূলে অরবিন্দর জাহাজ ডুবি ঘটেছে। এত বড় দুঃখের সংবাদ ডক্টর ঘোষ নিতে পারেননি, কেননা তিনি আগে থেকেই অনেক অসুস্থ ছিলেন। এই দুঃসংবাদের ধাক্কা সামলাতে না পেরে তিনি সাথে সাথেই মৃত্যুবরণ করেন।

অরবিন্দ ঘোষের ব্যক্তিগত জীবন: 

ব্যক্তিগত জীবন বলতে, তিনি ১৯০১ সালে ২৮ বছর বয়সে অরবিন্দ ঘোষ ভূপালচন্দ্র বসুর কন্যা মৃণালিনী দেবীকে বিয়ে করেন। মৃণালিনী দেবী ১৯১৮ সালে ডিসেম্বর মাসে ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারী চলাকালীন মৃত্যুবরণ করেন।

শ্রী অরবিন্দ ঘোষের মহাপ্রয়াণ: 

তিনি ১৯৫০ সালের ৫ ই ডিসেম্বর পন্ডিচেরিতে ৭৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। অরবিন্দ ঘোষ তার দার্শনিক এবং রাজনৈতিক রচনার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরু এবং তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদের কাছ থেকে অনেক প্রশংসা পেয়েছিলেন।

এছাড়া অরবিন্দ ঘোষ ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার মানুষ। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, কবি, পন্ডিত, যোগী, এবং মহান দার্শনিক ছিলেন। তিনি তার জীবনে ভারতের স্বাধীনতা এবং পৃথিবীতে জীবন উন্নয়নের দিকে উৎসর্গ করেছিলেন।

শ্রী অরবিন্দ রচিত গ্রন্থ: 

শ্রী অরবিন্দ ঘোষের রচিত ৩২ শে গ্রন্থের মধ্যে বাংলা গ্রন্থের সংখ্যা ছিল মাত্র ছয়টি, তার উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থের নাম নিচে দেওয়া হল:- 

  • The Life Divine
  • Essays on Gita
  • Savitri, Mother India
  • The Hero and the Nymph Urvasie
  • Song of Myrtilla and Other Poems
  • The Age of Kalidasa
  • A System of National Education
  • The Renaissance in India
  • Speeches of Aurobinda

বাংলা গ্রন্থ গুলির মধ্যে  উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ গুলি হল:- 

  • ধর্ম ও জাতীয়তা
  • কারা কাহিনী
  • অরবিন্দের পত্র  ইত্যাদি।

অরবিন্দের কিছু উল্লেখযোগ্য বাণী: 

১) “চলার পথে হঠাৎ হোঁচট খাওয়ার মানে হলো, সুষ্ঠুভাবে, সঠিকভাবে হাঁটতে শেখার রহস্যটা জেনে নেওয়া।”

২) “শান্তি ছাড়া কোন কিছুই সম্ভব নয়, আর শান্তিতেই রয়েছে সমস্ত জিনিসের স্থিতিশীলতা।”

৩) “দেশকে ভালোবাসি, তাতে যদি কোন অপরাধ হয়, তাহলে আমি অপরাধী।”

তাঁর কর্মজীবন, তাঁর সু -দক্ষতা, আধ্যাত্মিকতা সবকিছু মিলিয়ে তাকে করে তুলেছে শ্রী অরবিন্দ। ঋষি হওয়ার আগে তিনি এই নামেই পরিচিত ছিলেন, আর শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে তিনি জনসাধারণকে অনেক কিছুই দিয়ে গেছেন। অনেক স্বাধীনতা সংগ্রামী তাকে ধর্মগুরু, শিক্ষাগুরু হিসেবে মানতেন।

Leave a Comment