শাহরুখ খানের জীবনী 2023: শিক্ষা, কেরিয়ার, পরিবার, ইনকাম এবং অন্যান্য বিবরণ

শাহরুখ খানের জীবনী ( Shah Rukh Khan Biography in Bengali) শাহরুখ খান কে? কি করেন? কোথায় বাড়ি? জীবনে কিভাবে সফল হয়েছেন? শাহরুখ খান এর জীবন পরিচয়, পরিবার, শিক্ষা, মোট ইনকাম, পুরস্কার ও অনান্য বিবরণ জানুন।

বিনোদন জগত আমাদের আনন্দ প্রদান করে, কিছুটা সময়ের জন্য সমস্ত খারাপ লাগা গুলি উধাও হয়ে যায়। হিন্দি চলচ্চিত্রের ভক্ত আছেন এমন অনেকেই, তবে এই চলচ্চিত্রের অভিনেতা শাহরুখ খান একজন প্রযোজক এবং টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব যিনি সকলের কাছে কিং খান নামে পরিচিত।

তাছাড়া তাঁকে স্নেহের সাথে বলিউডের বাদশা, বলিউডের রাজা কিং খান, রোমান্সের রাজা ইত্যাদি নামে অনেকেই অভিহিত করেন। তাঁর জীবন কাহিনী কষ্টে ভরা হলেও তিনি আজ সফলতার শিখরে পৌঁছতে পেরেছেন শুধুমাত্র নিজের প্রচেষ্টা ও সকলের ভালোবাসায়।

Shah Rukh Khan Biography in Bengali | শাহরুখ খানের জীবন পরিচয়
Shah Rukh Khan Biography in Bengali | শাহরুখ খানের জীবন পরিচয়

তাঁর  সিনেমাতে রোমান্স, কমেডি, ড্রামা, অ্যাকশন সবকিছু মিলিয়ে যেন এক সুন্দর আকর্ষণীয় সিনেমা তৈরি হয়। ভারতের পাশাপাশি বিদেশেও তার ভক্তের সংখ্যা বিপুল। লস এঞ্জেলেস টাইমস শাহরুখ খানকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র তারকা হিসেবে অভিহিত করেছে।

এছাড়া লন্ডনের মাদাম তুসোতেও শাহরুখ খানের মোমের মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। এত কিছুর পিছনে নিশ্চয়ই তার অবদান কম ছিল না, না হলে সকলের মনে এত সুন্দর জায়গা করে নিতেনই বা কিভাবে, তাই না !

জীবনের ওঠা পড়ার মধ্য দিয়েও তিনি সফলতা পেয়েছেন নিজের পরিশ্রম, বুদ্ধিমত্তা আর নিজের কাজের প্রতি ভালবাসার মধ্যে দিয়ে। মুক্তি পেতে চলেছে তার সম্পূর্ণ অ্যাকশনে ভরপুর সিনেমা পাঠান (Pathan)। এই সিনেমাতে শাহরুখ খানকে নতুন রূপে নতুনভাবে পেতে চলেছেন তার সমস্ত ভক্তরা।

শাহরুখ খানের জীবনী:

একজন ভারতীয় অভিনেতা, টেলিভিশন উপস্থাপক এবং মানবসেবি, প্রযোজক, গণমাধ্যমের বলিউডের বাদশা, বলিউডের কিং এবং শাহরুখ খান নামে পরিচিত সকলের কাছে। তবে তিনি “শাহ রুখ খান” এভাবে লিখতে পছন্দ করেন। অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে ১৪ টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার এবং আটটি শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার।

এছাড়া হিন্দি চলচ্চিত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য ২০০২ সালে ভারত সরকার শাহরুখ খানকে পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত করে এবং ফ্রান্স সরকার তাকে “অর্দ্র দে আর্ত এ দ লেত্র”“লেজিও দনর” সম্মাননায় ভূষিত করে। হলিউড বলিউড সমস্ত ধনী অভিনেতাদের মধ্যে তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সফল চলচ্চিত্র তারকা বলে অভিহিত করা হয়।

শাহরুখ খান সম্পর্কিত কিছু বিষয়ে সংক্ষেপে জানা যাক:

ডাক নাম: এসআরকে (SRK), কিং খান, বাদশাহ
জন্ম তারিখ: ২ রা নভেম্বর ১৯৬৫
জন্মস্থান: নয়া দিল্লি
বাবার নাম: মীর তাজ মোহাম্মদ
মায়ের নাম: লতিফ ফাতিমা
স্ত্রীর নাম: গৌরী চিব্বার খান
পেশা: অভিনেতা, প্রডিউসার
বয়স: ৫৮ বছর, (২০২৩ অনুসারে)
স্কুল: দিল্লীর সেন্ট কলম্বা
কলেজ: হংসরাজ কলেজ, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় BA (hons)
পুত্র/কন্যা: আরিয়ান খান, সুহানা খান, আব্রাম খান
উচ্চতা: ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি
ওজন: ৭৫ কেজি
চোখের রং: গাঢ় বাদামি
চুলের রং: কালো
রাশি: বৃশ্চিক
শখ: গেজেট, গেমস খেলা, ক্রিকেট
প্রিয় অভিনেতা: অমিতাভ বচ্চন, দিলীপ কুমার
প্রিয় অভিনেত্রী: মমতাজ
প্রিয় খাবার: তান্দুরি চিকেন
প্রিয় রং: সাদা, কালো, নীল
প্রিয় গাড়ি: BMW

শাহরুখ খানের পরিবার ও শৈশব জীবন:

শাহরুখ খানের জন্ম হয়েছিল দিল্লিতে ১৯৬৫ সালের ২ রা নভেম্বর, একটি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পিতা ভারতের নতুন দিল্লি পাঠান বংশোদ্ভুত, তার পিতার নাম ছিল মীর তাজ মোহাম্মদ খান এর পাশাপাশি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের কর্মী ছিলেন তিনি, এছাড়া তিনি খান আব্দুল গাফফার খান এর অনুসারী ছিলেন। এর পাশাপাশি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সাথে যুক্ত ছিলেন।

শাহরুখ খানের মায়ের নাম ছিল লতিফ ফাতিমা, তিনি ছিলেন ঊর্ধ্বতন সরকারি প্রকৌশলী ইফতেখার আহমেদের কন্যা। তার মায়ের পরিবার ব্রিটিশ ভারতের রাওয়াল পিন্ডি থেকে এসেছিলেন। ১৯৫৯ সালে শাহরুখ খানের মাতা পিতা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

শাহনাজ লাল রুখ নামে তার একটি বড় বোনও রয়েছে এবং তিনি শাহরুখ খানের সাথে মুম্বাইতে থাকেন। এছাড়া শাহরুখ খান টুইটার এর তথ্য দিতে গিয়ে বলেছিলেন তার “বাবা পাঠানি এবং মা হায়দ্রাবাদি”।

শাহরুখ খানের শিক্ষাজীবন:

প্রাথমিক শিক্ষা দিল্লির সেন্ট কলম্বাস স্কুল থেকে শেষ করেন। তিনি তার স্নাতক শেষ করার জন্য হংসরাজ কলেজে যোগদান করেছিলেন কিন্তু দিল্লি থিয়েটার অ্যাকশন গ্রুপে তার বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছিলেন। যেখান থেকে তিনি থিয়েটার পরিচালক ব্যারি জন এর অধীনে অভিনয় দক্ষতা দেখিয়েছিলেন।

এরপর শাহরুখ খান জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া থেকে গণযোগ যোগাযোগ এর মাধ্যমে তার স্নাতকোত্তর অধ্যায়ন শুরু করেন। কিন্তু অভিনয় জীবনের জন্য তিনি সেই অধ্যায়ন ছেড়ে দেন।

শাহরুখ খানের অভিনয় জীবন:

অভিনয় দিক থেকে তিনি যে কতটা দক্ষ তা তার সিনেমা দেখলেই বোঝা যায়। কমেডি, অ্যাকশন, রোম্যান্স, সবকিছুতে তিনি সকলের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন। বিশেষ করে সকল মেয়েদের কাছে তিনি একজন রোমান্সের হিরো বলা যায়।

শাহরুখ খানের ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল টেলিভিশন দিয়ে। দিল দরিয়া, সার্কাস, ফৌজি, এই সমস্ত সিরিয়ালের মাধ্যমে তিনি তার দক্ষতা দেখিয়েছেন এবং চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেছিলেন “দিওয়ানা” এই চলচ্চিত্রটি দিয়ে।

যার জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ নবাগত অভিনেতার জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও পেয়েছিলেন। সেই সময় এই ছবিটি সুপারহিট হয়ে যায় এবং এই ছবি শাহরুখ খানকে হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিষ্ঠিত করতে অনেকখানি সাহায্য করে।

প্রতিটি সফলতার পিছনে থাকে অনেক সমালোচনা, তাই শাহরুখ খানও কিন্তু ব্যতিক্রম নন, সমালোচকদের পাশাপাশি জনসাধারণের পছন্দ হয়ে ওঠেন এবং মেয়েদের মধ্যে বেশ বিখ্যাত হয়ে ওঠেন তিনি।

দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে সিনেমাটি কতদিন ধরে যে সিনেমা হলে চলেছে তার খবর নিশ্চয়ই ভক্তরা রাখেন, এই সিনেমা আজও দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন অনেকেই।

শাহরুখ খানের বিবাহ:

আমরা সকলেই জানি শাহরুখ খান মুসলিম হলেও তিনি বিয়ে করেছেন একটি হিন্দু মেয়েকে যার নাম গৌরী চিব্বার। গৌরী পাঞ্জাবি হিন্দু ধর্মাবলম্বী এবং তারা ছয় বছর প্রেম করার পর ১৯৯১ সালের ২৫ শে অক্টোবর ঐতিহ্যগত হিন্দু রীতিতে বিবাহ করেন।

শাহরুখ খান কে অনেকেই ছোট নাম এস. আর. কে. (SRK) হিসেবে ডাকেন। যখন তিনি বিবাহ করেন তখন না ছিল তার কোন থাকার ঘর, না কোন সম্পদ।

আর এই সময় গৌরীর সঙ্গে চলছিল তার প্রেম। ধর্মবিচ্ছেদ ও খানের শর্তের কারণে গৌরীর পরিবারের সদস্যরা বিয়েতে রাজি হননি। এ কারণে গৌরীর পরিবার তাকে মুম্বাইয়ে তার মামার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

কিন্তু প্রেম তো কোন বাধা মানে না, তাই গৌরীকে অনুসরণ করে মুম্বাই চলে যান কিং খান এবং সেখানে গৌরীকে খুঁজতে থাকেন। কোনভাবে একদিন গৌরীর সাথে তার দেখা হয় এবং তিনি তিন মাস পর হিন্দু রীতি অনুযায়ী বিবাহ করেন। এমন পরিস্থিতিতেও তিনি কিন্তু অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন।

তবে তাদের ভালোবাসা আজও অটুট এবং সফলতার সাথে দুজনে একই সাথে ধনী হয়েছেন। তবে একটা কথা বলে রাখা জরুরী যে, শাহরুখ খান কিন্তু অভিনয় জগতে আসার আগেই গৌরী কে বিবাহ করেছিলেন।

এরপর ১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বাজিগর ছবিটি সুপারহিট হয়। যেখানে তিনি একটি খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর একের পর এক হিট ছবি উপহার দিয়েছেন সকল ফ্যানদের জন্য। এরপর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

খুবই কম বয়সে বাবা-মাকে হারিয়ে যখন তিনি মুম্বাইতে আসেন তখন পকেটে ছিল  মাত্র ৫০ টাকা। আজ তিনি অনেকখানি সফল যার জন্মদিন এবং ছবির প্রমোশন ব্রুস খলিফা তেও প্রদর্শিত হয়।

শাহরুখ খান ও গৌরী খানের সন্তান:

শাহরুখ খান একজন দক্ষ অভিনেতা এবং ও গৌরী খান একজন ডিজাইনার এবং চলচ্চিত্র প্রযোজক। তাদের আরিয়ান খান, সুহানা খান দুটি ছেলে মেয়ের পাশাপাশি তৃতীয় ছেলে সারোগেসি এর মাধ্যমে জন্ম নেয় যার নাম আব্রাম। শাহরুখ এবং তার পরিবার মুম্বাইতে সমুদ্রের কাছাকাছি মান্নাত নামে একটি বাংলোতে থাকেন।

শাহরুখ খান সম্পর্কে কিছু তথ্য:

শৈশবে শাহরুখ খান খেলাধুলা একাডেমীর জীবন এবং নাট্যশিল্পের ক্ষেত্রে খুবই দক্ষ ছিলেন। তিনি বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে “সোর্ড অফ অনার” পুরস্কার পেয়েছিলেন। যা প্রতিবছর সবচেয়ে যোগ্য এবং প্রতিশ্রুতিশীল ছাত্র এবং ক্রীড়াবিদকে দেওয়া হতো।

শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান ও মেয়ে সুহানা খান বর্তমানে বিদেশে পড়াশোনা করছেন। শাহরুখ খানের মোট ২৯৭ টি পুরস্কার রয়েছে যা তিনি নিজের দক্ষতায় জিতেছেন।

শাহরুখ খানের পুরস্কার গুলি:

⭐ শাহরুখ খান ২০০৫ সালের ‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কারে সম্মানিত হন।

⭐ ২০১২ সালে তিনি “এশিয়া নেট ফিল্ম আওয়ার্ডস দ্বারা লাইফটাইম achievement awards” দিয়ে সম্মানিত হন।

⭐ শাহরুখ খান ২০১৪ সালে তিনি “এশিয়ানেট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস দ্বারা ইন্টারন্যাশনাল আইকন অফ ইন্ডিয়ান সিনেমা” পুরস্কারের সম্মানিত হন।

⭐ ২০১১ সালে ফিল্মফেয়ারের সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছিলেন মাই নেম ইজ খান সিনেমার জন্য।

⭐ ২০০৭ সালে ফিল্মফেয়ারের সেরা অভিনেতা পুরস্কার পান চক দে ইন্ডিয়া এর জন্য।

⭐ এরপর ২০১৫ সালে তিনি ‘দা এশিয়ান অ্যাওয়ার্ডস দ্বারা আউটস্ট্যান্ডিং কনট্রিবিউশন সিনেমা’র জন্য পুরস্কারের সম্মানিত হন।

⭐ ২০০৫ সালে ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান স্বদেশ সিনেমার জন্য।

⭐ ২০০৩ সালে ফিল্মফেয়ার্স সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান দেবদাস এর জন্য।

⭐ ১৯৯৮ সালে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছিলেন ফিল্মফেয়ার এ দিল তো পাগল হে এর জন্য।

⭐ এছাড়া ১৯৯৯ সালে কুছ কুছ হোতা হে, এই জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছিলেন ফিল্মফেয়ারে।

দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছিলেন এই সিনেমাতে ১৯৯৬ সালে।

⭐ এছাড়া ১৯৯৪ সালে ফিল্মফেয়ারের সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান বাজিগর সিনেমার জন্য।

শাহরুখ খান সম্পর্কিত কয়েকটি অজানা তথ্য সম্পর্কে জানা যাক:

১) মীর তাজ মোহাম্মদ খান এবং লতিফ ফাতিমার পরিবারে ১৯৬৫ সালে ২ রা নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন শাহরুখ খান, পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি তার নানির সঙ্গে প্রথমে ম্যাঙ্গালোর তারপরে ব্যাঙ্গালোরে থাকতেন। নানি (দিদা) তার দেখাশোনা করতেন, শাহরুখের নানা (দাদু) ম্যাঙ্গালোর বন্দরের মুখ্য প্রকৌশলী ছিলেন।

২) বাড়িতে শাহরুখ খানের বাবা ‘হিন্দকো’ ভাষায় কথা বলতেন, এ ভাষা পাকিস্তানে ব্যবহৃত পাঞ্জাবি কথ্য ভাষা।

৩) শাহরুখ খানের বাবা পাকিস্তানের পেশোয়ারের মানুষ, মা ভারতের হায়দ্রাবাদের আর দিদা ছিলেন কাশ্মীরের।

৪) পাকিস্তানের পেশোয়ারের সঙ্গে শাহরুখ খানের যোগাযোগ ছিল নিয়মিত। ১৯৭৮ থেকে ১৯৭৯ সালের মধ্যে তিনি গিয়েছিলেন বাবার ফেলে আসা শহরে। সেই প্রথমবার শাহরুখ বাবার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ভারতে শুধু তার মায়ের দিকের আত্মীয়-স্বজন ছিলেন, বাবার গোটা পরিবারটাই পেশোয়ারে থাকতেন।

৫) স্কুলে পড়ার সময়ও হিন্দিতে খুব একটা কথা বলতে পারতেন না তিনি। তবে একবার হিন্দি পরীক্ষায় দশে ১০ পেয়েছিলেন তিনি। পুরস্কার হিসেবে তার মা সিনেমা দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন।

৬) একটু বড় হওয়ার সাথে সাথে শাহরুখের পরিবার দিল্লিতে চলে আসেন। সেন্ট কলম্বাস স্কুলে পড়াশোনা করতেন তিনি। খেলাধুলায় খুব আগ্রহী ছিলেন, তার জন্য তিনি পুরস্কারও পেতেন স্কুল থেকে।

৭) শাহরুখ খানের শ্রী গৌরীর বাবা একজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন, স্কুলে পড়ার সময় গৌরীর সাথে প্রথম চেনা পরিচিতি হয় তাঁর। একটা পার্টিতে দুজনের মধ্যে বেশ অনেকক্ষণ গল্প চলে তখন থেকেই শুরু হয় তাঁদের প্রেম পর্ব।

৮) দিল্লির হংসরাজ কলেজে থেকে অর্থনীতিতে বিএ পাস করেন এবং জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া তে মাস কমিউনিকেশন নিয়ে এমএ পড়তে ভর্তি হন। তবে সেটা শেষ করা হয়নি তার এই অভিনয় জীবনের জন্য।

৯) ১৯৮৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ৯ তারিখ। এই দিনটি শাহরুখ খানের মনে থাকবে আজীবন, কেননা এই দিন শাহরুখ খান ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়েছিলেন।

১০) গৌরী চিব্বার খান আর শাহরুখের বিয়ে হয় ১৯৯১ সালের ২৫ শে অক্টোবর।

১১) শাহরুখ খানের প্রথম রোজগার ছিল ৫০ টাকা। গায়ক পঙ্কজ উদাসের একটি কনসার্টে কাজ করে সেই টাকা পেয়েছিলেন। প্রথম রোজগারের টাকা দিয়ে ট্রেনের টিকিট কেটে শাহরুখ আগ্রা গিয়েছিলেন।

১২) শাহরুখ খানের বয়স যখন ১৫ বছর তখনই তার বাবা মারা যান ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে। পেশায় উকিল ছিলেন আবার স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন শাহরুখ খানের বাবা মীর তাজ খান। অল্প বয়সে একবার জেলও খেটেছেন। পরে মৌলানা আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ভোটেও দাঁড়িয়েছিলেন মীর তাজ মহম্মদ খান।

১৩) শাহরুখ খানের প্রথম টেলি সিরিয়াল শুরু হয় ১৯৮৯ সালে। কর্নেল কাপুরের পরিচালনায় ফৌজি নামের সেই ধারাবাহিক খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। সেখানেই প্রথমবার ভারতের দর্শক দেখলেন পরের কয়েক বছরের স্টার থেকে সুপারস্টার হয়ে ওঠা শাহরুখ খানকে।

১৪) ১৯৮৯ থেকে ১৯৯০ সালের রেনুকা সাহানের সঙ্গে সার্কাস সিরিয়ালে কাজ করতে শুরু করেন শাহরুখ খান। সেই সময় তার মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। মাকে ধারাবাহিক টার একটা পর্ব দেখানোর জন্য বিশেষ অনুমতি নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার মা তখন এতটাই অসুস্থ ছিলেন যে ছেলে কেও চিনতে পারেন নি। ১৯৯১ সালের এপ্রিল মাসে মৃত্যু হয় শাহরুখ খানের মায়ের।

১৫) ছোট থেকে শাহরুখ খানের ইচ্ছা ছিল সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার। কলকাতার আর্মি স্কুলে ভর্তি ও হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ছেলেকে ছাড়তে রাজি হয়নি তার মা। তাই সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া তাঁর আর হয়ে ওঠেনি।

১৬) মায়ের মৃত্যুর শোক থেকে দূরে সরে যেতে এক বছরের জন্য শাহরুখ দিল্লি থেকে মুম্বাই গিয়েছিলেন কিন্তু  ফেরা আর হয়নি।

১৭) স্ত্রী সন্তান ছাড়া শারুখের সঙ্গে তার বাড়িতে থাকেন বড় বোন লালারুখ।

১৮) কঠোর পরিশ্রম করতে পারেন শাহরুখ খান, মাত্র চার পাঁচ ঘন্টা ঘুমান তিনি, তার প্রিয় উক্তি হলো “ঘুমানো মানে জীবন নষ্ট করা”

১৯) শাহরুখ খানের টুইটার একাউন্টে প্রায় তিন কোটি ফলোয়ার রয়েছে।

২০) দিওয়ানা ছবিতে দেখা গিয়েছিল নায়ক হিসাবে শাহরুখ খানকে ১৯৯২ সালের ২৫শে জুন।

৮০ টির ও বেশি সিনেমাতে তিনি অভিনয় করেছেন। তার মধ্যে বেশিরভাগটাই হয়েছে হিট ও সুপারহিট। সেই কারণে তিনি সকলের কাছে বাদশা ও কিং খান নামে অভিহিত। অনেক নায়িকার সাথেই তিনি জুটি বেঁধেছেন।

প্রতিটি সিনেমাতে তার রোমান্টিক চরিত্র প্রতিটি মেয়েদের মন কেড়েছে। তাই তিনি শুধু সিনেমাতেই নন বাস্তব জীবনেও একজন জেন্টলম্যান। এছাড়া তিনি মঞ্চে পরিবেশনা করেন খুবই সুন্দরভাবে, যা সকলকে আকৃষ্ট করে।

জীবনের সমস্ত প্রতিকূলতা জয় করে তিনি আজ সফল অভিনেতা। দেশ থেকে বিদেশে তাকে সবাই এক নামেই চেনেন এস আর কে। খুবই কম বয়সে বাবা মাকে হারানো কতটা কষ্টকর, যারা হারিয়েছেন তারা এই কষ্ট ভালোভাবে বুঝতে পারবেন।

তার মধ্যে দিয়েও জীবনের সমস্ত প্রতিকূলতা জয় করে পছন্দের জীবনসঙ্গিনী বেছে নেওয়া যে কিনা অন্য ধর্মের। এই সবকিছুর মধ্যে দিয়ে আজ তিনি সফল অভিনেতা, তার সিনেমা আসার অপেক্ষায় থাকেন বহু ভক্তরা।

তার শান্ত স্বভাব, নমনীয় আচরণ, সকলকে সম্মান জানানো, এই সবকিছু এক অনন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছে তাঁকে। তার জীবন কাহিনী একজন হতাশাগ্রস্থ মানুষকে সত্যিই অনেকখানি আশা জোগাতে পারে।

তার জন্মদিন কবে সেটা তো নিশ্চয়ই জানেন। সেই দিন উপলক্ষে তার মান্নাতের  সামনে ভক্তদের ভিড় সবাইকে চমকে দেয়। সমস্ত দুঃখ, কষ্ট, সহ্য করার পরেও নিজের জীবনের সমস্ত স্বপ্ন পূরণ করার পাশাপাশি তিনি সকল ভক্তদের কাছে বাদশাহ।

Leave a Comment