সরস্বতী পূজায় নিজেকে অপরূপা করে তুলতে করুন এই ছোট্ট কাজগুলি

সরস্বতী পূজার সরল ও আকর্ষণীয় মেকআপ টিপস: পৃথিবীতে যা কিছু সুন্দর তা সবকিছুই কিন্তু আকর্ষণীয়। সেই জন্যই নিজের রূপ, সৌন্দর্য, ত্বক এই সবকিছুকে আরো বেশি সুন্দর করে তোলার জন্য কত কিছুই না করতে হয়। তবে এই কর্মব্যস্ত জীবনে অনেকখানি সময়ের অভাব হয়েছে। টাইমে খাওয়ারও কোন ফুরসত নেই।

এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে সুন্দর রাখা যায় কিভাবে এমন ভাবনা অনেকের মাথায় আসতেই পারে। তাছাড়া যে কোন উৎসবে নিজেকে মোহময়ী করে তুলতে সামান্য কিছু কাজ করতে পারলেই তাতেই বাজিমাত।

সরস্বতী পূজায় নিজেকে অপরূপা করে তুলতে করুন এই ছোট্ট কাজগুলি
সরস্বতী পূজায় নিজেকে অপরূপা করে তুলতে করুন এই ছোট্ট কাজগুলি

সামনে আসতে চলেছে সরস্বতী পূজা, বলতে গেলে বাঙালির ভ্যালেন্টাইন। এই উৎসবে নিজেকে আরও বেশি সুন্দর, মোহময়ী, অদ্বিতীয়া ও আকর্ষণীয় করে তুলতে ঘরেতেই সমস্ত ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে এমন কিছু ছোট্ট কাজ করতে পারেন, যেগুলি খুবই সহজ ও সাধারণ, আর উপকরণ গুলি হাতের কাছেই পাবেন, এমনটা হলে বেশ হয় তাই না !

তো চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক, সামান্য কিছু সময়ের মধ্যে সহজ কিছু টোটকা অবলম্বন করে নিজেকে করে তুলুন আকর্ষণীয় :

যদি মনে করা যায় তাহলে কিন্তু শত ব্যস্ততার মধ্যে দিয়েও একটুখানি নিজের জন্য সময় বের করে নেওয়াই যায়। কথায় আছে “কষ্ট করলে কেষ্ট মেলে” তাই কিছু পেতে গেলে আপনাকে একটু তো কষ্ট করতেই হবে, তাই না ! সুস্থ, উজ্জ্বল ত্বকের ক্ষেত্রেও একই কথা বিশেষভাবে খাটে।

কিন্তু সুন্দর ত্বকের জন্য কষ্ট করার সময় কোথায়, তাই রইল এমন কিছু সহজ টিপস যা আপনি আপনার সমস্ত পরিশ্রম, ব্যস্ততা কাটিয়েও সেগুলি প্রতিফলিত করতে পারেন আপনার জীবনে।

১) লেবুর রস এর ব্যবহার:

আগেই বলেছি এই উপকরণ গুলি নিশ্চয়ই আপনাকে কোন বড় কসমেটিক্স থেকে কিনে আনতে হবে না, আপনার রান্নাঘরেই এগুলি পেয়ে যাবেন। লেবুর রস ত্বকের যত্নে, চুলের যত্নে বিশেষ উপকারী সেটা তো কমবেশি আমরা জানি। ত্বকের কালচে দাগ ছোপের সমস্যা থাকে অনেকেরই।

সর্বদাই কেমিক্যালযুক্ত বিউটি প্রোডাক্ট ব্যবহার না করে যদি ঘরোয়া উপায়ে ভরসা রাখেন তাহলে কিন্তু প্রাকৃতিক উপায়ে ন্যাচারাল বিউটি পেতে পারেন। প্রতিদিন পাতিলেবুর রস ত্বকের যেকোনো জায়গায় যেকোনো দাগের উপরে প্রয়োগ করতে পারেন, তারপর ধুয়ে ফেলুন, যদি নিয়মিত করেন এটা অনেকটাই প্রভাব ফেলবে।

২) হট অয়েল ম্যাসাজ:

শরীরে ম্যাসাজ আমাদের রক্ত সঞ্চালনকে আরো বেশি দ্রুত করে। প্রতিদিন হাত-পা সহ সারা শরীরে হট ওয়েল মেসেজ করাটা হয়তো কষ্টসাধ্য এবং সময় সাপেক্ষ, তবুও যতটা পারবেন ততটা এই নিয়ম পালন করার চেষ্টা করুন।

সামান্য তেল গরম করে সারা শরীরে ম্যাস্যাজ করে নিতে পারেন। আধঘন্টা রেখে তারপর আবার ঈষদ উষ্ণ গরম জলে স্নান করে নিতে পারেন। এর ফলে ত্বক ভেতর থেকে সুন্দর হয় এবং ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় থাকে।

৩) দই মধুর মিশ্রণ:

ত্বকের চাই মশ্চারাইজার, ত্বক এক্সফোলিয়েট করতে ও সমান স্কিনটোন বজায় রাখতে দই ও মধু দিয়ে বানানো ফেসপ্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে। ২ চা চামচ দই ও এক চা চামচ মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখে, ঘাড়ে ও হাতে ব্যবহার করতে পারেন। এর ফলে ত্বক উজ্জ্বল ও নমনীয় হয়ে ওঠে।

৪) হলুদের জাদু:

অনেক প্রাচীনকাল আগে থেকে হলুদ একটি আয়ুর্বেদিক বলা যেতে পারে। যেকোনো রোগ এর চিকিৎসায়, ত্বকের যত্নে, বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়। ত্বকের যত্নে হলুদ একেবারে তুলনাহীন। এক চা চামচ হলুদ গুঁড়োর সঙ্গে ৩-৪ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে একটি প্যাক বানিয়ে নিন।

সেটি সরাসরি ত্বকে প্রয়োগ করুন। শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে তারপর ঠান্ডা জলে মুখ ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন আপনার ত্বক আগের থেকে কতখানি উজ্জ্বল লাগছে।

৫) ডাবের জল:

শরীর কে যত বেশি হাইড্রেট রাখবেন, তত কিন্তু আপনার ত্বক আরো বেশি স্বাস্থ্যউজ্জ্বল থাকবে। সাধারণ জল, মিনারেল ওয়াটার সবকিছু কিন্তু আমাদের শরীরকে বিশেষভাবে হাইড্রেট রাখে। তার পাশাপাশি যদি ডাবের জল নিয়মিত খেতে পারেন সেটা স্বাস্থ্য ও ত্বকের জন্য একেবারে অমৃত সমান।

ডাবের জল স্বাস্থ্য ও ত্বকের বন্ধু হিসেবে পরিচিত বলা যেতে পারে। ত্বকে যেখানে দাগ ছোপ দেখতে পাচ্ছেন, সেখানে ডাবের জল লাগাতে পারেন, তারপর শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৬) শসার ব্যবহার:

খাওয়ার টেবিলে সালাড আমাদের অনেক প্রিয়, তবে তার মধ্যে শসা হলো গুরুত্বপূর্ণ। শসা যেমন শরীরকে হাইড্রেট রাখে, তেমনি ত্বকের যত্নে শসার গুরুত্ব সীমাহীন। ত্বকে ট্যানের সমস্যা সকলেরই থাকে।

কর্মব্যস্ত জীবনে রোদের অতি বেগুনি রশ্মির কারণে ত্বকে ট্যান তৈরি হয়। এক্ষেত্রে শশার রস ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া ডার্ক সার্কেল দূর করতেও এটি বিশেষভাবে সাহায্য করে।

৭) অ্যালোভেরা:

অ্যালোভেরা জেল যেকোনো কসমেটিক্স এর দোকানে আপনি পেয়ে যাবেন। তবে যদি ফ্রেশ এলোভেরা জেল ব্যবহার করেন সেক্ষেত্রে উপকারটা বেশিই পাওয়া যায়। এখন প্রায় বাড়িতে টবে এলোভেরা দেখতে পাওয়া যায়।

ত্বকের বেস্ট ফ্রেন্ড এলোভেরা ব্যবহার করে খুবই সহজে অনেক বেশি উপকার পেতে পারেন। অ্যালোভেরা গাছের উপরের স্তরটি সরিয়ে ভেতরের জেল বের করে নিন, এবার তা সরাসরি ত্বকে প্রয়োগ করুন, কিছুক্ষণ আলতো হাতে ম্যাস্যাজ করার পরে ধুয়ে ফেলুন।

৮) পর্যাপ্ত পরিমাণ জল পান করুন:

শুধুমাত্র বাইরে থেকে ত্বকের যত্ন করলে ত্বক কিন্তু সুন্দর হয়ে ওঠে না। তার জন্য ভেতর থেকে তার যত্ন নিতে হয়। সে ক্ষেত্রে সব থেকে প্রথমে যেটা আসে পর্যাপ্ত পরিমাণ জল পান করা। যা শরীর থেকে সমস্ত টক্সিন বের করে দেয়।

ত্বক যদি হাইড্রেট না থাকে তবে অনেক কিছু করেও কোন ফলাফল মিলবে না। তাই ত্বক হাইড্রেট, নমনীয় রাখতে চেষ্টা করুন প্রচুর পরিমাণে জল পান করার।

৯) কেমিক্যাল যুক্ত প্রোডাক্ট কে না বলুন:

অনেক সময় দেখা যায় চড়া মেকআপ, কেমিক্যাল যুক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহার করার ফলে ধীরে ধীরে আমাদের ত্বক নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে, তার নিজস্ব উজ্জলতা হারিয়ে ফেলে। দামি প্রোডাক্ট মানেই খুবই ভালো ফল দেবে, এমন না কিন্তু নয়।

তাই খুব ভালো ফল পাওয়া যাবে এমন আশা না রেখে কেমিক্যালযুক্ত প্রোডাক্ট একেবারেই ব্যবহার না করাই ভালো। তার পরিবর্তে ঘরোয়া এই উপায় গুলি আপনাকে এনে দেবে দাগ হীন, প্রাণবন্ত, উজ্জ্বল ত্বক।

কোন উৎসব হোক বা না হোক, সমস্ত ব্যস্ততার মধ্যে দিয়েও সামান্য একটু সময় বের করে এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলি আপনার ত্বকে ব্যবহার করেই দেখুন না, আপনার ত্বক কথা বলবে। এই সমস্ত উপাদানে না আছে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, আর না আপনাকে অনেক টাকা দিয়ে কিনতে হবে।

তাই সব দিক থেকে আপনি নিরাপদে তো থাকবেনই, এর পাশাপাশি আপনার অনেকগুলি টাকা কিন্তু খরচ হওয়ার হাত থেকে বেঁচে যাবে। প্রাকৃতিক উপাদানে প্রকৃতির মত সুন্দর হয়ে উঠুন আপনিও।

Leave a Comment