মুসলিম মেয়ে এবং হিন্দু ছেলের মধ্যে বিবাহের আইনি নিয়ম

Marriage Between Hindu Boy and Muslim Girl Law: মুসলিম মেয়ে এবং হিন্দু ছেলের মধ্যে বিয়ের আইনি নিয়ম কি? কিভাবে মুসলিম মেয়ে এবং হিন্দু ছেলের আইনি ভাবে বিয়ে করতে পারে? আসুন জেনে নিন হিন্দু ও মুসলিম ধর্মের মধ্যে বিবাহ সম্পন্ন করার আইনি নিয়ম।

বিবাহকে আমরা একটি পবিত্র বন্ধন বলে জানি। আর তাইতো দুই পরিবার থেকে দুটি মানুষকে একত্রিত করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আয়োজন করা হয় বিবাহের। দুটি মানুষের ভালোবাসার পবিত্র পরিণতি হলো এই বিবাহ বন্ধন। সেটা হতে পারে যে কোনো ধর্ম, যে কোন জাতির। তাছাড়া বর্তমানে এক ধর্মের ছেলে অথবা মেয়ে অন্য ধর্মের মেয়ে অথবা ছেলেকে বিবাহ করছেন ভালোবেসে।

মুসলিম মেয়ে এবং হিন্দু ছেলের মধ্যে বিবাহের আইনি নিয়ম
মুসলিম মেয়ে এবং হিন্দু ছেলের মধ্যে বিবাহের আইনি নিয়ম

আর যদি এই বিবাহের আইন সম্পর্কে বলা হয়, তাহলে আপনি বেশ কিছু বিষয় সম্পর্কে অবগত হতে পারেন। আপনার পর্যাপ্ত বয়স হওয়ার পর নিজের ইচ্ছা অনুসারে যে কাউকে বিবাহ করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আইনি সহযোগিতা পাবেন অনায়াসেই।

একটি হিন্দু ছেলে এবং একটি মুসলিম মেয়ের মধ্যে বিবাহ বন্ধন এর আইন:

একটি হিন্দু ছেলে এবং একটি মুসলিম মেয়ে একে অপরকে বিবাহ করতে পারেন আইন অনুসারে। সেখানে কারো কোনো বাধা দেওয়ার ক্ষমতা নেই। যদি আপনি সেই উপযুক্ত বয়স সীমা পার করে থাকেন, তবে অবশ্যই আইনি দিক থেকে সহযোগিতা পাবেন।

একটি হিন্দু ছেলে ও একটি মুসলিম মেয়ের মধ্যে বিবাহ হিন্দু আইন, মুসলিম আইন আর বিশেষ বিবাহ অধিনিয়ম 1954 এর অধীনে জারি করা হয়েছে। ব্যক্তিগত আইনের রক্ষণাবেক্ষণ, তালাক / ডিভোর্স, উত্তরাধিকার গ্রহণ ইত্যাদি সম্বন্ধিত বিষয়ের উপর এর প্রভাব পড়তে পারে।

হিন্দু আইন অনুসারে:

হিন্দু আইন অনুসারে রূপান্তরিত হওয়ার কোনো রকম বিশেষ প্রয়োজনীয়তা পড়ে না। কেবলমাত্র নামকরণ এর মধ্যে দিয়ে এই বিবাহ সম্পন্ন হতে পারে। যেমন ধরুন কোন মুসলিম মেয়ে কোন হিন্দু ছেলেকে বিবাহ করলে সে ক্ষেত্রে সেই মেয়েকে হিন্দু ধর্মে যেকোন নাম পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে বিবাহ সম্পন্ন করতে পারেন। তবে ধার্মিক সংগঠন আর্য সমাজ, হিন্দু ধর্মের সমস্ত রীতিনীতি বিষয়গুলি প্রদান করা হয়ে থাকে সেই মেয়েকে।

তাছাড়া একটি মুসলিম মেয়ে হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত হতেই পারেন, তার সাথে সাথে হিন্দু সংস্কার অনুসারে বিবাহ সম্পন্ন করতে পারেন। আর তার জন্য সেই বিবাহকে হিন্দু বিবাহ অধিনিয়ম এর মধ্যে ফেলা হবে।

মুসলিম আইন অনুসারে:

মুসলিম আইন অনুসারে একটি মুসলিম মেয়ে আর একটি হিন্দু ছেলের মধ্যে বিবাহ সম্পন্ন করার জন্য সেই হিন্দু ছেলেকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কেননা একটি মুসলিম আর একটি বে – মুসলিম এর বিবাহ ইসলামে কোনভাবেই স্বীকার করা হয় না। মুসলিম আইন অনুসারে এই রূপান্তরণ বিশেষভাবে প্রভাবিত করে অর্থাৎ ছেলেকে অবশ্যই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতেই হবে মুসলিম আইন অনুসারে।

একটি মুসলিম বিবাহের জন্য এক পক্ষ থেকে প্রস্তাব এবং অপর পক্ষের স্বীকৃতি অথবা কবুল যাকে বলা হয়, সেটার অবশ্যই প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কেননা বিশ্বাস, ভালবাসার প্রশ্ন বয়ে নিয়ে আসে। বিবাহের জন্য সম্মতি নিজের থেকে থাকতে হবে, কোন জোরজবরদস্তি করা চলবে না।

তার সাথে কোন রকম ঠকানোর মতো পরিস্থিতি এক্ষেত্রে একেবারে মুক্ত হতে হবে, অর্থাৎ সম্পূর্ণরূপে ক্ষেত্র থেকে অর্থাৎ ছেলের পক্ষ থেকে মেয়ের পক্ষ থেকে সমান ভাবে সহমতি এবং ইচ্ছা অনুসারে এই বিবাহ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

তবে ইসলাম অনুযায়ী যে বিষয়গুলি মাথায় রাখা জরুরী, সেগুলি যেন সেই হিন্দু ছেলেটি বিশেষভাবে গ্রহণ করে থাকেন। তবেই কিন্তু এই বিবাহ আইন অনুসারে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

বিশেষ বিবাহ অধিনিয়ম 1954 অনুসারে:

বিশেষ বিবাহ অধিনিয়ম 1954 কিছু মামলার ক্ষেত্রে বিশেষ রূপের যে বিবাহ সুবিধা প্রদান করা হয়, যেমন ধরুন আলাদা আলাদা ধর্মের মানুষ একে অপরের সাথে বিবাহের জন্য রেজিস্ট্রেশন করাতে পারেন।

এমন ঘটনা ভারতে নেহাত কম নয়। ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে এমন বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে আগেও এবং সম্পন্ন হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে সেটাও আন্দাজ করা যায় এবং সেই কারণে এর জন্য আইন রয়েছে।

তাছাড়া একজন মুসলিম মেয়ে, হিন্দু ছেলে বিবাহ করতে পারেন এবং নিজের মনের সন্তুষ্টির জন্য নিজের নিজের ধর্মের সংস্কার অনুযায়ী বিয়ে করতে পারেন। আর সেখানে কোনরকম রূপান্তরিত হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। যে যার ধর্ম অনুসারে বিবাহ করে একে অপরের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতেই পারেন।

অধিনিয়ম অনুসারে দুই ব্যাক্তির মধ্যে বিবাহের শর্ত

এই অধিনিয়ম অনুসারে যে কোনো দুটি ব্যক্তির মধ্যে বিবাহ দেওয়া যেতেই পারে, যদি বিয়ের সময় নিম্নলিখিত এই শর্ত গুলি খুবই ভালো ভাবে পূরণ করা যায়, যেমন ধরুন:-

১) দুই পক্ষের অর্থাৎ ছেলের পক্ষে এবং মেয়ের পক্ষে কারোরই জীবিত জীবনসাথী যেন না থাকে।

২) মানসিক অসুস্থতার পরিনাম স্বরূপ যে কোনো পক্ষ থেকে এই বিবাহের জন্য মান্য সহমতি দেওয়ার জন্য সক্ষম যদি না থেকে থাকে অথবা সম্মতি দেওয়ার জন্য সক্ষম রয়েছেন কিন্তু কোন রকমের মানসিক রোগে যদি সেই ব্যক্তি জর্জরিত হয়ে থাকেন, তাহলে কিন্তু এই বিবাহের কোনরকম মানেই হয় না।

পরবর্তীতে বাচ্চা প্রজননের ক্ষেত্রে যে সমস্যা তৈরি হবে, সে ক্ষেত্রে এই বিবাহ অযোগ্য হিসেবে গণ্য করা হয়। অর্থাৎ এক কথায় বলতে গেলে দুই পক্ষকে শারীরিকভাবে এবং মানসিকভাবে সুস্থ সবল থাকতে হবে।

৩) ছেলেদের ক্ষেত্রে ২১ বছর বয়স এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ১৮ বছর বয়স সম্পূর্ণ করাটা অবশ্যই প্রয়োজন।

৪) দুই পক্ষের কেউ যেন কোন রকম নিষিদ্ধ সম্পর্কের সাথে জড়িত না থাকেন।

৫) এছাড়া কম পক্ষে ছেলেপক্ষ অথবা মেয়ে পক্ষকে নিয়ন্ত্রিত করার যে রীতিনীতি রয়েছে সেটা সেই দুজনের মধ্যে বিবাহের অনুমতি দিয়ে থাকে। এমন বিবাহ আনুষ্ঠানিকভাবে হতে পারে যদিও সেই সম্পর্ক নিষিদ্ধ সম্পর্কের ভিতরে পড়ে থাকলেও।

৬) যেখানে জম্মু কাশ্মীর রাজ্য তে বিবাহের আয়োজন করা হয়, সেখানে দুই পক্ষই কিন্তু ভারতের নাগরিক আর এই ক্ষেত্রে সেই একই জায়গায় অধিবাসী হয়ে থাকেন, যেখানে এইরকম আইন রয়েছে।

উপরিউক্ত সমস্ত রকম শর্ত গুলি যদি আপনি ভালো ভাবে মেনে চলতে পারেন অথবা পালন করতে পারেন, তাহলে আইন অনুসারে আপনি যে কাউকে বিবাহ করতে পারেন। তবে অবশ্যই দুই পক্ষের সম্মতি থাকাটা প্রয়োজন।

কেননা বিবাহবন্ধন একদিনের নয়, সেটা সারাজীবনের, তাই এই সমস্ত বিষয়গুলি খেয়াল রাখাটা আপনার জন্য অনেকটাই ভালো। আর আগামী দিন গুলি ভালো কাটার জন্য এ শর্তগুলি অনেকখানি সহযোগিতা করবে আপনাকে, আশা করা যায়।

Leave a Comment