বাঙ্কে চেক বাউন্স হলে কি করবেন? জানুন আপনার আইনি অধিকার

Legal Rights in Cheque Bounce Cases: বাঙ্কে চেক বাউন্স হলে কি করবেন? কিভাবে করতে হয় চেক বাউন্সের মামলা? চেক বাউন্সের মামলাতে আপনার আইনি অধিকার কি? জেনে নিন চেক বাউন্সের সমস্ত আইনি অধিকার ও আইনি পরামর্শ

চেক বাউন্স একটি সাধারণ অপরাধ বলতে পারেন। যেটা যে কোন মুহূর্তে যে কোন ব্যক্তির সাথে হওয়াটা সম্ভব। আবার অনেক সময় এই চেক বাউন্স যে কোনো আইনি সমস্যার মধ্যে ফেলতে পারে। এমন ঘটনা ভারতে অনেক লক্ষ্য করা যায়।

Legal Rights in Cheque Bounce Cases - চেক বাউন্সের আইনি অধিকার
Legal Rights in Cheque Bounce Cases – চেক বাউন্সের আইনি অধিকার

আর তখন উচ্চতম বিচারালয় দ্বারা চেক বাউন্স সম্পর্কিত বিভিন্ন ধরনের মামলা খুব তাড়াতাড়ি মেটানোর জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। যেখানে চেক বাউন্স সম্পর্কিত বিভিন্ন রকমের মামলার সংখ্যা ৩৫ লাখ এরও বেশি।

চেক বাউন্স কি ?

একটা চেক তখনই বাউন্স হতে পারে যখন কোন ব্যাংকের ভর পাই এর জন্য প্রস্তুত করা হয়। কিন্তু কোনো কারণবশত যেকোনো ভর পায় ছাড়া সেই চেক ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এছাড়া চেক বাউন্স হতে পারে যখন কোন ব্যক্তি চেক দিয়ে থাকেন এবং সেই ব্যাংক একাউন্টে অপর্যাপ্ত অ্যামাউন্ট  অথবা চেক এর উপর যে সাইন অথবা সই রয়েছে সেটা কোনভাবেই মিল হয় না।

সেক্ষেত্রেও কিন্তু চেক বাউন্স হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তির নামে যদি মামলা করা হয় সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকমের আইনি শাস্তি হতে পারে নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্ট 1881 ধারা 138 অনুযায়ী।

চেক বাউন্স হওয়ার জরিমানা সম্পর্কে জানুন:

যদি কোন চেক ব্যাঙ্ক দ্বারা বাউন্স করা হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে ডিফল্টার এবং ভর পাই কর্তা দু’জনকেই তাদের ব্যাংক একাউন্ট দ্বারা চার্জ করা হতে পারে। তাছাড়া ব্যাংকের থেকে সেই ব্যক্তিকে অতিরিক্ত জরিমানা, তার সাথে আরও অন্যান্য ভর পাই করতে হবে।

চেক বাউন্স এর ক্ষেত্রে মামলার নিয়ম:

১) যদি কোন ব্যক্তি চেক দিয়ে থাকেন কাউকে সেটা যদি বাউন্স হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে যে ব্যক্তিকে চেক দেওয়া হয়েছে সেই ব্যক্তি ৩০ দিনের মধ্যে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে ডিফল্টার এর উপর আইনি ভাবে মামলা চালাতে পারবেন।

২) নোটিশে এই মামলার সমস্ত রকম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গুলি উল্লেখ করতে হবে। এটা খুবই জরুরী এর মধ্যে লেনদেন এর প্রকৃতি, রাশি, চেক জমা করার তারিখ এবং ব্যাংক দ্বারা অপমানিত হওয়ার সমস্ত রকম তথ্য উল্লেখ করতে হবে।

৩) এবং যদি চেক জারি কর্তা অথবা Drawer নোটিশ পাওয়ার এক মাসের ভিতরে প্রথম একটি নতুন ক্ষতিপূরণ দিতে যদি বিফল হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে যে ব্যাক্তি নোটিশ পাঠিয়েছেন সেই ব্যক্তি তার উপরে অপরাধ হিসেবে অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন, সেই অধিকার রয়েছে।

৪) যে ব্যক্তি এই চেক বাউন্স দ্বারা অপমানিত হচ্ছেন সেই ব্যক্তি যদি ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগ দায়ের না করেন তাহলে আদালত মামলা আগে কখনোই এগিয়ে নিয়ে যাবে না। যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি সমস্ত রকম বৈধ কারণ দেখিয়ে চেক বাউন্স সম্পর্কে অভিযোগ দায়ের করেন।

৫) এক্ষেত্রে যে ব্যক্তি চেক জারি করেছেন সেই ব্যক্তি আইন অনুসারে দোষী সাব্যস্ত হয়ে থাকেন। তো এর জন্য দুই বছরের জেলও হতে পারে এবং বিভিন্ন রকমের অ্যামাউন্টের জরিমানা হতে পারে যা সেই চেক এ লেখা এমাউন্টের দ্বিগুণ হতে পারে।

৬) টাকা আদায় এবং অধিকৃত সুদ এর জন্য একটি আলাদা সিভিল সুট তৈরি হতে পারে এবং চেক বাউন্স কেস এ যুক্ত করা হয়ে থাকে। কেননা এই অপরাধমূলক মামলাতে যে টাকা পাওয়ার যোগ্য রাখা হয় সেটা কিন্তু পেতে কোনরকম সাহায্য পাওয়া যায় না।

৭) চেক বাউন্স এর ক্ষেত্রে যে ব্যক্তিকে এই চেক বাউন্সের জন্য নাজেহাল হতে হয়েছ অর্থাৎ যে ব্যক্তি কে চেক দেওয়া হয়েছে সেই ব্যক্তি ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী ৪২০ ধারা অনুসারে জালিয়াতির মামলা দায়ের করতে পারবেন।

কিন্তু নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্ট (সংশোধন) অধিনিয়ম অনুসারে অভিযোগ কারি সেই শহরে অভিযোগ করতে পারবেন যেখানে এই চেক জমা করেছিলেন। এতে কিন্তু সেই ব্যক্তির জন্য আইনি ব্যবস্থা খুবই ভালভাবে নেওয়া সম্ভব হবে।

নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্ট, ধারা 138:

যদি কোন ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে কোনো ঋণ অথবা পেমেন্ট হিসেবে চেক তৈরি করে রাখেন এবং সেখানে টাকার অ্যামাউন্ট নিজের সই দিয়ে কোন চেক তৈরি করেন, আর সেই চেক কোন ব্যাংক যদি অবৈধ হিসেবে ফিরিয়ে দেয়, এর মানে হলো চেক এর মধ্যে যে অ্যামাউন্ট আছে সেটা সেই ব্যক্তির ব্যাংক একাউন্টে অপর্যাপ্ত আছে।

সে ক্ষেত্রে চেক বাউন্স হতে পারে এবং যখন জরিমানা হবে, তখন কিন্তু ব্যাংক অ্যাকাউন্টের চেক তে যে অ্যামাউন্ট রয়েছে সেই অ্যামাউন্টের দুগুণ অ্যামাউন্ট জরিমানা দিতে হতে পারে।

চেক বাউন্স: ধারা 138 অনুসারে অপরাধ এর শর্ত:

১) ডিসচার্জ এর জন্য চেক জারি হওয়া অবশ্যই জরুরি।

২) চেক ছয় মাসের মধ্যে অথবা তার বৈধতা পর্যন্ত তৈরি করতে হবে।

৩) Drawer এর একাউন্টে অ্যামাউন্ট কম হতে হবে।

৪) চেক বাউন্স এর সম্বন্ধে সমস্ত রকম আইনি সহযোগিতা পাওয়ার জন্য ৩০ দিনের ভিতরে ব্যক্তিকে আইনি নোটিশ পাঠাতে হবে।

৫) সেই নোটিশ প্রাপ্ত করার পরও যদি ব্যক্তি নোটিশ প্রাপ্ত করার ১৫ দিনের ভিতরে সেই চেকের ভর পাই করার ক্ষেত্রে বিফল হয়ে থাকেন, তো মামলা দায়ের করতে পারেন।

৬) চেক বাউন্স এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পূর্ব প্রয়োজনীয় দস্তাবেজ অথবা কাগজপত্র আপনাকে তৈরি করে রাখতে হবে।

চেক বাউন্সের মামলা করার কাগজপত্র:

চেক বাউন্সের মামলা করার আগে নিম্নলিখিত কাগজপত্র গুলি অবশ্যই প্রয়োজন পড়তে পারে:

১) মূল চেক এবং রিটার্ন মেমো।

২) নোটিশ এর ফটোকপি এবং মূল ডাক রশিদ।

৩) সাক্ষ্য শপথ পত্র।

এক্ষেত্রে চেক বাউন্সের মামলার থেকে যদি দূরে থাকতে চান, তাহলে কিন্তু আপনার সই / স্বাক্ষর সমান ভাবে রাখুন এবং ব্যাংক একাউন্টে পর্যাপ্ত পরিমাণ নগদ টাকা রাখুন। যেখানে আপনি যে চেক লিখবেন সেখানে যেন কোনরকম সমস্যা তৈরি না হয়।

নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে কার্য সম্পাদন করলে এ ক্ষেত্রে এই রকম সমস্যা কখনোই আসবে না। যদি আপনি চান আপনার ব্যাংক একাউন্টে অপর্যাপ্ত টাকা রয়েছে তো আপনি ভারপাই করা ব্যক্তিকে লিখিতভাবে জানাতে পারেন এবং চেক ব্যাংকের তারিখ এর আগে আপনার একাউন্টে টাকা আটকাতে পারে অথবা আপনার একাউন্টে টাকা দিয়ে দিতেও পারে।

এমন অবস্থায় চেক বাউন্সের মামলাতে আইনের বিষয়গুলি মাথায় রাখাটা জরুরী। অন্যের সাথে সাথে নিজের হয়রানি ও অনেকটাই হয়। এই বিষয়ের ক্ষেত্রে তো সব দিক খেয়াল রেখে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

Leave a Comment