লকডাউন পরিস্থিতিতে ঘর ভাড়া না দিতে পারলে কি করবেন? আইনি নিয়ম জানুন

লকডাউনের কারণে ঘর ভাড়া দিতে পারছেন না? বাড়ি মালিক কি ঘর খালি করতে বলছে? এমন পরিস্থিতিতে কি করবেন? আসুন জেনে নিন লকডাউনে ঘর ভাড়া দেওয়া জরুরি না কি? জানুন ঘর ভাড়া না দিতে পারলে কি করবেন আইনি নিয়ম অনুসারে।

বেশিরভাগ মানুষ থাকার জন্য ভাড়া ঘরের উপরেই নির্ভর করে থাকেন। প্রতি মাসের বেতন থেকে অল্প কিছু টাকা ঘর ভাড়া দিয়ে বেশ সুখে শান্তিতে বসবাস করেন বেশিরভাগ মানুষ। যতদিন না পর্যন্ত নিজের বাসস্থান তৈরি হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত ভাড়া ঘরে থাকেন, এমন মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়।

তবে করোনা পরিস্থিতিতে সমস্ত রকম কাজকর্ম বন্ধ হওয়ার মুখে, হাজার হাজার মানুষ কাজ হারিয়ে একেবারে ঘরে বসে থাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এমন অবস্থায় প্রতি মাসের বেতন তো দূরে যাক, প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করার মতো পরিস্থিতি অনেক সময় হয়ে ওঠে না বলতে গেলে।

এমন অবস্থায় ঘর ভাড়া দেওয়া অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয়নি বলে অনেকেই গ্রামের বাড়িতে চলে গিয়েছেন অথবা ভাড়া ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে ঘর মালিক এবং ভাড়াটিয়ার মধ্যে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

লকডাউন পরিস্থিতিতে ঘর ভাড়া না দিতে পারলে কি করবেন? আইনি নিয়ম জানুন
লকডাউন পরিস্থিতিতে ঘর ভাড়া না দিতে পারলে কি করবেন? আইনি নিয়ম জানুন

সেটা হল ভাড়াটিয়া বলতে চাইছেন যে লকডাউন এর মধ্যে কাজকর্ম হারিয়ে তারা ভাড়া দিতে পারবে না অর্থাৎ ঘর ভাড়া দেওয়া কোন মতেই সম্ভব হয়ে উঠছে না।

অন্য দিকে দেখা যাচ্ছে ঘর মালিক বলতে চাইছেন যে, এমন অবস্থায় অনেকেই চাকরি ক্ষেত্রে ঘরে বসেই বেতন পেয়েছেন, তাহলে ঘর ভাড়া দিতে কেন পারবেন না ভাড়াটিয়া ?

এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে এর উপর বিচার এবং রায় কি হতে পারে তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মতবিরোধের সীমা নেই।

ঘর ভাড়া দেওয়ার জন্য ভাড়াটিয়ার উপরে কোনরকম আইনি বাধ্যবাধকতা আছে কি?

কেন্দ্র সরকার লকডাউন চলাকালীন ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে শুধুমাত্র এক মাসের ভাড়া নেওয়ার কথা বলেছে। এক মাস পর দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন যে সেই সমস্ত ঘর মালিক কে, যাদের ঘরে ভাড়াটিয়া রয়েছেন যে, ভাড়াটিয়ার থেকে দুই তিন মাসের জন্য ভাড়া দেওয়ার জন্য কোন রকম জোর করতে পারবেন না।

তাছাড়া তিনি আরো বলেন যে, যদি কোন ভাড়াটিয়া লকডাউন পরিস্থিতিতে ভাড়া দিতে অক্ষম হয়ে থাকেন, তাহলে তার ভাড়া সরকার দ্বারা দেওয়া হয়ে যাবে।

যদি আপনি লকডাউন পরিস্থিতিতে ঘর ভাড়া দিতে অক্ষম হয়ে থাকেন তাহলে কি হবে?

লকডাউন পরিস্থিতিতে যদি কোন ভাড়াটিয়া ঘর ভাড়া দিতে না পারেন এবং করোনা ভাইরাসের কারণে কোন রকম ক্ষয়ক্ষতি যদি হয়ে থাকে তার পরিবারে এমন অবস্থায় কোন ভাড়াটিয়া ঘর মালিকের ঘর ভাড়া দিতে সক্ষম কখনোই থাকবেন না।

এছাড়া ঘর মালিক ও ভাড়াটিয়ার বোঝাপড়ার মধ্যে দিয়ে খুবই কম ভাড়া দিয়ে আশ্রয় নিয়ে থাকতে পারবেন সেই ঘর মালিকের ঘরে।

লকডাউন পরিস্থিতিতে যদি আপনার ঘর মালিক ঘর খালি করে চলে যাওয়ার কথা বলেন তাহলে কি করবেন?

এমন ঘটনা নেহাত কম নয়, এমনও হয়েছে যে, এমন পরিস্থিতিতে যখন মানুষ কাজ হারা হয়ে ঘরে বসে রয়েছেন, সেই মুহূর্তে কোন ঘর মালিক তার ভাড়াটিয়াকে বলেছেন ঘর খালি করে চলে যাওয়ার জন্য। যদি এমনটা কারও সাথে হয়ে থাকে তাহলে সে ক্ষেত্রে কী করবেন। এমন অবস্থায় আপনি পুলিশ স্টেশন অথবা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।

সেখানে ঘর মালিকের নাম এবং যিনি অভিযোগ করছেন সেই অভিযোগকারীর নাম, ঠিকানা, সম্পূর্ণ বিবরণ অভিযোগের সারাংশ সবকিছু লিখে থানায় জমা দিতে হবে। তাছাড়া এমন মামলার ক্ষেত্রে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ভালো উকিলের সাথে পরামর্শ করতে ভুলবেন না।

এমন পরিস্থিতিতে একজন উকিল আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারে?

করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন চলাকালীন যদি আপনার ঘর মালিক আপনাকে ঘর ভাড়া দেওয়ার জন্য জোর করে থাকেন এবং আপনি সেটা দিতে কখনোই সক্ষম হয়ে না থাকেন, তাহলে ঘর মালিক আপনাকে ঘর ছেড়ে দেয়ার কথা বলতে পারেন।

এমন অবস্থায় আপনার অধিকার অনুযায়ী থানায় অভিযোগ দায়ের করে কোনো ভালো উকিলের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। সেখানে সমস্ত রকম বিবরণ জানিয়ে পরামর্শের মাধ্যমে ঘর মালিকের সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে পারেন।

আবার এমন পরিস্থিতিতে আপনি কোথায় যাবেন, কেমন ভাবে থাকতে পারেন সেটাও ভালোভাবে বুঝিয়ে বলতে পারেন উকিল এর মাধ্যমে সেই ঘর মালিক কে।

তার সাথে সাথে আইন-কানুন অনুসারে একজন ভালো উকিল কিন্তু আপনার এই সমস্ত রকম সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে পারবেন খুবই সহজ ভাবে।

একটা ঘর খালি করে চলে যাওয়ার কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সেটা কখনো সম্ভব হয়ে ওঠে না। তার জন্য বেশ কিছুটা সময় লাগে এবং অন্য ঘর দেখার জন্য মানসিক পরিস্থিতি, টাকা-পয়সা সব কিছুরই প্রয়োজন পড়ে।

তাই হঠাৎ করে লকডাউন পরিস্থিতিতে যদি কোনো ঘর মালিক আপনাকে ঘর ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে সে ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা অবশ্যই গ্রহণ করতে পারেন।

তবে সবকিছু প্রমাণ পত্র সহকারে উকিলের সাথে যোগাযোগ করে তবেই এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। তবে তার আগে ঘর মালিক কে আপনি ভালোভাবে বুঝিয়ে বলতে পারেন যে, এমন পরিস্থিতিতে আপনি কোথায় যাবেন।

যদি ঘর মালিক আপনার এই বোঝানোর মধ্যে দিয়ে আপনাকে থাকতে দেন, তাহলে কখনই আইনের পথে না যাওয়া টাই বাঞ্ছনীয়। তবে যদি একেবারেই আপনাকে ঘর থেকে তুলে দেওয়ার জন্য তিনি নাছোড়বান্দা হয়ে থাকেন, সে ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা অনায়াসেই নিতে পারেন।

একজন উকিল সমস্ত রকম আইন ও নিয়ম অনুসারে ভাড়াটিয়ার সপক্ষে যুক্তি দিয়ে এই মামলা খুবই সহজ ভাবে সামলাতে পারবেন। যা কিনা একটা ঘর মালিক ও ভাড়াটিয়ার সকল সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে

আপনি যদি ভাড়াটিয়া হয়ে থাকেন, তাহলে ঘর মালিকের সাথে এমন পরিস্থিতিতে আগে থেকে বোঝাপড়া করতে পারেন। যদি ভালোভাবে বাড়ির মালিক ব্যাপারটি বুঝতে পারেন, তাহলে কিন্তু আর কোন সমস্যাই থাকলো না।

তবে হ্যাঁ, আইনের পথ বেছে নেওয়াটা অনেক সময় আপনার জীবনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই আইনি পথে যাওয়ার আগে একাধিকবার ভেবে দেখবেন, তারপর এই পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

যেটা সহজভাবে বোঝালে হয়তো হয়ে যেত সেটা আইন পথে গেলে সেটা আরো বেশি জটিল হয়ে ওঠতে পারে। এমন পরিস্থিতি থেকে বাঁচার জন্য অবশ্যই একের অধিক বার ভেবে দেখাটা জরুরি।

Leave a Comment