মহিলাদের জন্য ভারতীয় আইন কানুন যা সকল মহিলাদের জানা দরকার

Indian law for women in Bengali: ভারতের মহিলাদের আইন ও কানুন কি? মহিলাদের জন্য ভারতে কি কি আইনি নিয়ম রয়েছে মহিলাদের জন্য যা সকল মহিলাদের জেনে রাখা প্রয়োজন।

আমরা সবাই কমবেশি জানি যে, পৃথিবী জুড়ে কখনো কখনো মহিলাদের অধিকার নিয়ে আওয়াজ তোলা হয়। আর তাছাড়া ভারতের মহিলারা সামাজিক রীতি-নীতি দ্বারা শোষিত, নিপীড়িত এবং দমিত হয়ে আসছে।

স্বাধীনতা প্রাপ্ত হওয়ার আগেও মহিলাদের উপরে অত্যাচারের সংঘাতে কোনরকম কমতি ছিল না। তার সাথে সাথে স্বাধীনতার পরও মহিলা দের ক্ষেত্রে অত্যাচার আর অপরাধ প্রতি নিয়ত ঘটে চলেছে।

মহিলাদের জন্য ভারতীয় আইন কানুন যা সকল মহিলাদের জানা দরকার
মহিলাদের জন্য ভারতীয় আইন কানুন যা সকল মহিলাদের জানা দরকার

আর এ সমস্ত অপরাধ নিবারন করার জন্য এবং কম করার জন্য বিধি-বিধান, আইন-কানুন তথা ভারতীয় সংসদে মহিলাদের সম্বন্ধে এমন বিধান বানানো থেকে তাদের অধিকার সম্পর্কে নির্ণয় নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবিধানে মহিলাদের অধিকার কে সুনিশ্চিত করার জন্য সম্পূর্ণ প্রচেষ্টা করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবিধান আর মহিলারা:

সুচিপত্র

উদ্দেশিকা প্রস্তাবনা তে মহিলাদের স্থান:

উদ্দেশ্য প্রস্তাবনাতে বর্ণিত ন্যায় স্বাধীনতা সমান অধিকার আর বন্ধুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভারতীয় সংবিধান নির্মাতাদের দ্বারা কল্যাণকারী রাজ্যের স্থাপনাতে অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়েছে।

এই উদ্দেশ্য সকলের ভালো, সকলের জন্য প্রাপ্ত করা যেতে পারে। উদ্দেশ্যে প্রকাশ হওয়া বিচার সমস্ত নাগরিকদের সম্পর্কে জারি করা হয়েছে বলে মনে করা হয়। এখানে স্ত্রী আর পুরুষের মধ্যে কোনরকম বিভেদ সৃষ্টি করেনি।

প্রাথমিক অধিকারের মধ্যে মহিলাদের স্থান:

ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ চৌদ্দ (14) তে পদাবলী বিধির সমক্ষে সমতা তথা বিধি গুলোর সমান সংরক্ষণের প্রয়োগ করা হয়েছে, দুটি বাক্যের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে প্রধান করে থাকে।

সর্বোচ্চ বিচারালয় এর পূর্ব মুখ্য বিচারপতি পতঞ্জলি শাস্ত্রীর মত অনুসারে বিনির্মাণ সংরক্ষন বিধির সমক্ষে সমতার উপসিদ্ধান্ত তথা ব্যবসায়িক রূপে দুটি একই।

অনুচ্ছেদ 15 (3):

অনুচ্ছেদ 15 (3) তে স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, অনুচ্ছেদ পনেরো (15) তে বর্ণিত প্রধান থেকে প্রভাবিত হওয়া রাজ্যের মহিলাদের জন্য বিশেষ উপপাদ্য রয়েছে।

যা কিনা তাদের জন্য খুবই লাভ দায়ক অর্থাৎ এমন বিধি বানানো হয়েছে অথবা বানানো যেতে পারে যেখানে মহিলাদের সম্বন্ধে ভালো এবং তাদের লাভের দিকটা খেয়াল রাখা হয়েছে।

পরবর্তীতে যেখানে মহিলাদের জন্য বিশেষ বিধান কে সংবিধানিক স্বীকার করা হয়েছে:

কেবলমাত্র স্ত্রীদের জন্য শিক্ষণ সংস্থা এর স্থাপনা তথা অন্যান্য শিক্ষণ সংস্থা তাদের জন্য স্থান সংরক্ষণ কে মুম্বাই উচ্চবিচারালয় দ্বারা দত্তাত্রেয় বনাম স্টেট এর পরে সংবিধানের ঘোষিত করা হয়েছে। যা কিনা অনুচ্ছেদ 15 (3) এ সংরক্ষিত রয়েছে।

ভারতের দন্ড প্রক্রিয়া সংহিতা 1973 এর ধারাতে 1258 ধারা 128 অনুসারে স্ত্রীর ভরণ পোষণ এর দায়িত্ব পুরুষদের উপর বর্তায়। আর এটা একজন মহিলার অধিকার বলা যেতে পারে। এই অধিকার কেবল মাত্র স্ত্রী রাই পাবেন। সেটা বিবাহিত অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও হোক, তা ছাড়া বিবাহ বিচ্ছেদের পরেও। তবে অবশ্যই সেই বিবাহ বৈধ হতে হবে।

মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ এবং ভারতীয় দণ্ড সংহিতা:

ভারতীয় দণ্ড সঙ্গীতা 1860 তে অশ্লীলতা কে পরিচিত করা হয়নি। অশ্লীলতা সম্বন্ধিত ধারা 292, ধারা 293, 1969 সালে সংশোধিত করা হয়েছিল। এই সংশোধনের মাধ্যমে থেকে বিজ্ঞান, সাহিত্য, কলা এর উদ্দেশ্য অনুযায়ী এই সমস্ত ধারা গুলি কে উদার বানানো হয়েছে।

এই ধারাকে বানানোর উদ্দেশ্য সমাজে মহিলাদের প্রতি সেই বিচার দূর করা যায়, যা কিনা মহিলাদের সাথে লিঙ্গ আধারিত ভেদাভেদ কে জন্ম দিতে পারে। মহিলাদেরকে সেক্স অবজেক্ট এর মত উপস্থাপন করার বিচার কে এই ধারার অন্তর্গত পূর্ণতা প্রতিবন্ধীত করা হয়েছে।

অশ্লীল কার্য করা এবং অশ্লীল কথা বলা:

ভারতীয় দণ্ড সংহিতা তে মহিলাদের প্রতি অশ্লীল কথা বলা এবং কোন অশ্লীল কাজ করা দুটোই কিন্তু দণ্ডনীয় অপরাধ বলে মনে করা হয়। ধারা 294 অনুসারে কোন ব্যক্তি যদি কোন জনবহুল জায়গাতে কোন রকম অশ্লীল কাজ করে থাকে, তাহলে এমন অশ্লীল কাজ করার জন্য অথবা কোনো অশ্লীল কথা বলার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা যেতে পারে।

কেননা এই সমস্ত বিষয়ের জন্য অন্যান্য ব্যক্তির বিরক্তির কারণ হতে পারে। এর শাস্তি অনুসারে সাধারণ অথবা সশ্রম কারাদণ্ড তিন মাস পর্যন্ত হতে পারে সেই অপরাধীর।

স্ত্রীদের লজ্জা সম্বন্ধিত ভারতীয় দণ্ড সঙ্গীতা এর অন্যান্য প্রাবধান:

ধারা 354 তে স্ত্রীদের লজ্জা ভঙ্গ করার ক্ষেত্রে অথবা তার ওপর আক্রমণ করার বিষয়টি অপরাধ বলে মনে করা হয়। যে ক্ষেত্রে সেই স্ত্রী অথবা মহিলার লজ্জা ভঙ্গ হয়ে থাকে।

দুটি ক্ষেত্রেই কিন্তু দুই বছর পর্যন্ত কারাবাস তার সাথে জরিমানা আছে। এই ধারার লক্ষ্য হলো স্ত্রীদের অস্তিত্ব রক্ষা করা তথা তাদের আত্মসম্মান রক্ষা করা ও বটে।

আই এ পি সি ধারা 376, ধর্ষণ:

এই অপরাধের জন্য ভারতীয় দণ্ড সংহিতা তে ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত দেওয়া যেতে পারে। কেননা এটি অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ হয়ে থাকে, যা কিনা সমাজের একটি বড় সমস্যা

প্রকৃতির বিরুদ্ধে অপরাধ ধারা 377:

এই অপরাধের জন্য আজীবন কারাবাস থেকে এই কারাবাসের সময়সীমা 10 বছর পর্যন্ত হতে পারে, এর সাথে সাথে জরিমানা ও রয়েছে।

যৌতুক সম্বন্ধিত অপরাধ:

আইপিসি ধারা 304 বি:

যৌতুক প্রথা সমাজে একটি খুবই জঘন্যতম প্রথা। যার কারণে অনেক মেয়ের বাবার পরিবার নিঃস্ব হয়ে যায়, আবার এই যৌতুকের কারণেই অনেক মেয়েকে অকালে প্রাণ হারাতে হয়।

এই সমস্যার সমাধান করার জন্য ভারতীয় দণ্ড সংহিতা যৌতুক নিষেধ অধিনিয়ম 1986 তৈরি হওয়ার পর ধারা 304b যৌতুক মৃত্যুকে নতুন অপরাধ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া 304b তথা ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম এর ধারা 113 বি ও যুক্ত করা হয়েছে। যেখানে শাস্তি হিসেবে আজীবন কারাবাস হতে পারে অপরাধীর।

আইপিসি ধারা 498 এ / A:

এই ধারার অন্তর্গত স্বামী তার স্ত্রীর প্রতি নিষ্ঠুরতা কে রাখা হয়েছে। এই নিষ্ঠুরতা মানসিক এবং শারীরিক দুইভাবেই হতে পারে। যদি কোনো স্বামী তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মানসিক এবং শারীরিক নিষ্ঠুরতা, অত্যাচার করে থাকে তাহলে এই ধরার অন্তর্গত দণ্ডনীয় অপরাধ হয়ে থাকে, যার শাস্তি জেল এবং জরিমানা দুটোই হতে পারে।

দ্বিতীয় বিবাহ:

আইপিসি ধারা 494 অনুসারে যেকোনো স্বামী তার স্ত্রী বেঁচে থাকা সত্বেও দ্বিতীয় বিবাহ করতে পারবে না। যেখানে এই বিবাহকে অথবা এই দ্বিতীয় বিবাহ কে অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

আর এমন অপরাধ করার জন্য যদি প্রথম স্ত্রী অভিযোগ দায়ের করে থাকে, তাহলে সাত বছর পর্যন্ত সাজা / শাস্তি, তার সাথে জরিমানাও তো রয়েছেই।

ঘরোয়া অত্যাচার অধিনিয়ম এবং মহিলারা:

ঘরোয়া অত্যাচার থেকে মহিলাদের সংরক্ষণ করার জন্য 2005 তে ভারতীয় সংসদ দ্বারা ঘরোয়া অত্যাচার থেকে মহিলাদের সংরক্ষণ অধিনিয়ম 2005 তৈরি করা হয়েছে। এই নিয়মের উদ্দেশ্য হলো মহিলাদের সাথে হওয়া অত্যাচার কে সম্পূর্ণরূপে সমাপ্ত করা।

এই অধীনিয়মের অন্তর্গত যদি কোনরকম স্ত্রীর প্রতি অত্যাচার করা হয় অথবা ঘর থেকে বার করে দেওয়া হয় সে ক্ষেত্রে মহিলাদের ঘরে প্রবেশ করার অধিকার দেওয়া হয়েছে এই অধীনিয়মে। তাছাড়া বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়া স্ত্রীর ভরণপোষণ, তাদের সন্তানের ভরণপোষণ এবং তাদের সমস্ত খরচ বহন করার দায়িত্ব স্বামী দের উপরে দেওয়া হয়েছে।

কর্ম ক্ষেত্রে মহিলাদের যৌন হয়রানি:

আজকাল এই বিষয়টি খুবই চর্চায় রয়েছে, যেখানে ঘর থেকে বাইরে বের হলেই মহিলাদের সর্বত্রই যৌন হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

এছাড়া কোন কর্ম ক্ষেত্রে যদি কোন পুরুষ দ্বারা মহিলাদের যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়, তাহলে সেটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আর এই ক্ষেত্রে মহিলাদের সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে সেই পুরুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা এবং তাকে যথোপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা।

মহিলা অভিযুক্তকে দন্ড প্রক্রিয়া সঙ্গীতা 1973 এর অন্তর্গত সুরক্ষা:

যদি কোন মহিলা অপরাধী হয়ে থাকে তাহলে দন্ড প্রক্রিয়া সংহিতার অন্তর্গত আখ্যা দেওয়া হয়েছে। সেখানে ধারা 46a গ্রেপ্তারের নিয়ম বলা হয়েছে।

যেখানে মহিলা অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার জন্য মহিলা আধিকারিকদের গ্রেফতার করতে হবে। তার সাথে সাথে মহিলা চিকিৎসক দ্বারা সেই মহিলাকে চেকআপ করতে হবে। আর সূর্যাস্তের পর এবং সূর্যোদয়ের আগে তাকে গ্রেপ্তার করা যাবে না।

গর্ভের চিকিৎসা সমাপন অধিনিয়ম 1971:

এই অধিনিয়ম এর মাধ্যমে এবশন এর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অর্থাৎ গর্ভপাত কোন ডাক্তার দ্বারা করা হবে অথবা বাস্তবিক রূপে এই অধিনিয়ম কে সম্পূর্ণরূপে বলা হয়েছে, আর এটি একটি অপরাধমূলক অধিনিয়ম যেখানে বেআইনিভাবে কোন চিকিৎসক দ্বারা গর্ভপাত করা দন্ডনীয় অপরাধ বলে মনে করা হয়।

ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ নিষেধ অধিনিয়ম 1956:

এই অধিনিয়ম এর মূল উদ্দেশ্য হলো মহিলাদের বেশ্যাবৃত্তি থেকে বাঁচানো এবং যে মহিলারা আগে থেকেই বেশ্যাবৃত্তিতে যুক্ত রয়েছে তাদেরকে সেখান থেকে সরিয়ে আনা। এই অধীনের অন্তর্গত সংশোধন গৃহ এবং সংরক্ষণ গৃহ বানানো হয়েছে। সেখানে এমন বেশ্যাবৃত্তি থেকে নিস্তার পাওয়ার জন্য অথবা সম্পূর্ণরূপে এই কাজ বন্ধ করার জন্য সম্পূর্ণ বন্দোবস্ত করা হয়েছে।

এই অধিনিয়ম তৈরি হওয়ার পর থেকে সমগ্র ভারতবর্ষে বেশ্যবৃত্তি এবং মুজরা ঘরের নির্মাণ অনেকখানি কমে এসেছে। ভারতের সীমার মধ্যে কোনরকম মানব শরীরের সম্ভোগ এর জন্য দেহ কেনাবেচা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করার প্রয়াস করা যেতে পারে এই অধীনিয়ম অনুসারে। অর্থাৎ এমন বেআইনি কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকা যাবে এই আইন অথবা অধিনিয়ম এর জন্য।

আইন অনুসারে মহিলাদের অধিকার সবথেকে বেশি বলা যেতে পারে। তাই এই অধিকারকে কখনোই ভুল কাজে ব্যবহার না করাই ভালো। সেটা সমাজের জন্য, দেশের জন্য, দশের জন্য ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। তাছাড়া ভারতীয় আইন মহিলাদের অভিযোগ সবার আগে গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

Leave a Comment