সুখি বৈবাহিক জীবন পেতে চান? এই উপায়গুলি সাহায্য করবে

সামনা সামনি তো অনেকেই নিজেদের সুখি প্রমাণ করার চেষ্টা করেন, কিন্তু সবার আড়ালে হয়তো দুজনের মধ্যে ভালো করে কথা পর্যন্ত হয় না, কিছু বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে দেখুন জীবন অনেক সুন্দর হবে –

সুখি বৈবাহিক জীবন পেতে চান? এই উপায়গুলি সাহায্য করবে
সুখি বৈবাহিক জীবন পেতে চান? এই উপায়গুলি সাহায্য করবে

1 . জেদ ত্যাগ করা :

ভালো কাজে জেদ করা নিশ্চয় ভালো, তবে যদি সেই জেদের কারনে যদি অনেক ক্ষতি করে, তবে জেদ ছেড়ে দেওয়া অনেক ভালো।

জেদের কারণে অনেক ভালো সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছে। পরে ভুল বুঝতে পারলেও অনেক দেরি হয়ে যায়।

2 . ক্ষমা চাওয়া :

স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ছোট ছোট ঝগড়া, ভুল বোঝাবুঝি আগেও ছিল, বর্তমানে আছে আর  ভবিষ্যতেও থাকবে। তা বলে দুজনে দুদিকে  চললে তো আর কোনো সমস্যার সমাধান হবে না।

দোষ যার থাকুক না কেন ছোট ব্যপার টাকে বড়ো না করে, বাইরে না জানিয়ে দুজনের মধ্যে সমাধান করে নেওয়া উচিত।

যে আগে ক্ষমা চাইতে পারে সে খুব ভালো মনের  পরিচয় দেয়। ক্ষমা চাইলে কেউ ছোট হয়ে যায় না, বরং সম্পর্কে নতুন মোড় আসে। ভুল করলে মন খুলে ক্ষমা চাইতে ভুলবেন না যেন। 

3 . পছন্দ :

একে অপরের পছন্দ জানাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পছন্দের খাবার, পোষাক, আরো অন্য বিষয়ের উপর খেয়াল রাখাটাই সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখে। প্রিয় মানুষটার  পছন্দের খাবার বানান, সে ভীষণ খুশি হবে। 

4 . বিশ্বাস :

সম্পর্কের মাঝে বিশ্বাস থাকাটা অনেক খানি ভূমিকা পালন করে। ছোট ছোট বিষয়ে, অকারণে সন্দেহ করতে থাকলে আপনার প্রতি একটা বিরক্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হবে, যা পরে বিচ্ছেদ পর্যন্ত গড়াতে পারে।

বিশ্বাস রাখুন, ভালোবেসে অনেক সমস্যার সমাধান খুব সহজেই করা যায়। 

5 . জানানো প্রয়োজন :

সবাই একরকম হয় না, তাই সবার চিন্তাধারা এক নয়। যা হয়তো কোনো কাজ ঠিক করতে পারে আবার ভুলও হতে পারে।

কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুজনের মধ্যে আলোচনা করা অবশ্যই প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে ভালো মন্দের বিচার টা সহজেই বুঝতে পারবেন।

পরে কোনো অসুবিধা হলে দুজনে মিলে সমস্যার সমাধান করতে পারবেন। কারণ, আগে থেকেই জানা ছিলো বিষয়টা দুজনেরই।

6 . পাশে থাকা :

এমনটা নয় যে আপনি ভালো সময়ে সাথে থাকলেন, আর কোনো সমস্যা, বিপদ, অসুখে ছেড়ে চলে গেলেন।

এটা তো প্রকৃত ভালোবাসার পরিচয় নয়। দুঃখ না থাকলে সুখের গুরুত্ব কেউ বুঝতো না, তাই দুঃসময়ে পাশে থাকুন।

কোনো বিপদে একসাথে লড়াই করুন, দেখবেন খারাপ সময় খুব তাড়াতাড়ি চলে গেছে। 

7 . স্বাধীনতা :

বিশ্বাস ও ভরসা অটুট থাকলে  স্বাধীনতা দেওয়া কোনো ব্যাপার না, অনেকেই বিয়ের পর নিজেকে বন্দী দশায় পরিণত হতে দেখে। এটা উভয়ের ক্ষেত্রে হতে পারে। সবেতেই না না শুনতে শুনতে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে যায়।

তাই ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য যতটা স্বাধীনতা প্রয়োজন তাকে দেওয়া দরকার। সবার অধিকার আছে নিজের মতো বাঁচার, তাই প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা দিতে ভুলবেন না। এতে সম্পর্ক আরো মজবুত হয়। 

8 . স্বপ্নপূরনে সাহায্য করা :

সবার জীবনে কিছু স্বপ্ন থাকে, বিয়ের পর অনেকের স্বপ্ন, স্বপ্নই থেকে যায় আর যারা ভালো জীবন সঙ্গী পায় তাদের স্বপ্ন গুলো পুরন হতে  অসুবিধা হয় না।

আপনার দ্বারা যতটা সম্ভব সাহায্য করুন, উৎসাহ দিন, সম্পর্কের সাথে সাথে কেরিয়ার টাও সুন্দর হবে। 

9 . লোক দেখানো :

সুন্দর সম্পর্কের মূল কথা হল সুন্দর মন, সুন্দর চিন্তা ভাবনা। আপনার কি আছে তার উপর ভিত্তি করেই চলা ভাল।

পাশের বাড়িতে আজ ইলিশ মাছ রান্না হচ্ছে বলে কাল নিজের বাড়িতে ইলিশ আনতে হবে এমন কোন কথা নেই। এ নিয়ে বাড়িতে ঝগড়া অশান্তি করাটাও বোকামি। 

কে কি খেলো, কি পরলো, কোথায় ঘুরতে গেলো তাতে ধ্যান না দিয়ে নিজের হিসাবে বাঁচুন, অনেক ভালো থাকবেন। নিজের সাধ্যমত সখ আহ্লাদ পূরণ করা ভালো। তাহলে অসময়ে কারো কাছে হাত পাততে হবে না। 

10 . পরিস্থিতি বুঝে কথা বলুন :

সবকথা সবসময় বলা যায় না, হাসিখুশি থাকুন সারাদিন কাজের শেষে যখন কষ্ট করে ঘরে  ফিরবে, কোনো ঘটনার কথা সঙ্গে সঙ্গে বলতে যাবেন না, সময় নিন, অবসর সময়ে ধীরে সুস্থে কথাটা বলুন।

কোনো বিষয়ে খারাপ লাগলে তা বুঝিয়ে বলুন, লোক জানাজানি  করতে যাবেন না। মেজাজ বুঝে কথা বলুন। 

যতই লোক আপনাদের হয়ে কথা বলুক না কেন সবশেষে আপনাদের দুজনকেই চলতে হবে একসাথে, তাই নিজেদের কমতি, খামতি, ব্যক্তিগত ব্যাপার সবার সামনে না আনাটাই ভালো।

অনেক মানুষ সুযোগের অপেক্ষায় থাকে, ওদের সুযোগ দেবেন না। দুজন দুজনকে বুঝলে কারো রায় অথবা বিচারের প্রয়োজন হয় না। সারাজীবন সুখে থাকা যায়। 

Leave a Comment