নিজের স্বামী বা স্ত্রী কে ডিভোর্স কিভাবে দেবেন? আইনি পদ্ধতি জানুন

How to divorce your spouse: নিজের স্বামী কে ডিভোর্স দেবেন কিভাবে? নিজের স্ত্রী কে ডিভোর্স কিভাবে দেবেন? জানুন স্ত্রী বা স্বামী ডিভোর্সের জন্য সঠিক আইনি পদ্ধতি এখানে।

সমাজে ডিভোর্স অথবা বিবাহ বিচ্ছেদ বেশ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। কেননা এখন আর কোনরকম সহ্য ধৈর্য করার মত সময় অথবা মানসিকতা কারোরই মধ্যেই নেই, যদি সেটা সীমাহীন হয়ে পড়ে।

তবে যদি মনে করেন যে নিজে থেকেই স্বামী অথবা স্ত্রী কে ডিভোর্স দেবেন সে ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয়ের উপরে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে।

যেহেতু ডিভোর্স একটি জটিল মামলা, সে ক্ষেত্রে যে কোন মুহূর্তে মত পরিবর্তন হতে পারে অথবা সেই বিষয়টি যেকোনো রাস্তায় যেতে পারে। তার জন্য একজন সুদক্ষ উকিল না হলে আপনি এই ডিভোর্স সংক্রান্ত বিষয়টি মধ্যে এমনভাবে জড়িয়ে পড়বেন যে গোলকধাঁধার মতো রাস্তা খুঁজে পাবেন না।

How to divorce your spouse - স্বামী বা স্ত্রী কে ডিভোর্স কিভাবে দেবেন?
How to divorce your spouse – স্বামী বা স্ত্রী কে ডিভোর্স কিভাবে দেবেন?

1955 ধারা অনুসারে হিন্দু বিবাহ এর জন্য যে ডিভোর্স নিয়ম রয়েছে, তার মধ্যে যদি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোন কিছুই ভালো সম্পর্কের মধ্যে পড়ে না সে ক্ষেত্রে দুজনেই আইন অনুসারে আলাদা আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, সে ক্ষেত্রে ডিভোর্সের জন্য আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন।

যদি আপনি এবং আপনার স্ত্রী বা স্বামী ডিভোর্সের জন্য একেবারে তৈরি:

মিউচুয়াল সহমতি ডিভোর্স ধারা অনুসারে হিন্দু বিবাহ অধিনিয়ম 1955 দ্বারা উপলব্ধ। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ডিভোর্সের আগে দুজনেই আলাদা আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে বছরের পর বছর রয়েছেন এবং শেষে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে একেবারে আইনি হিসাব অনুসারে তারা আলাদা হবেন।

স্বামী-স্ত্রী পরিচয় থেকে মুক্ত হবেন, সে ক্ষেত্রে ডিভোর্স তাদের জন্য একটি উপযুক্ত রাস্তা বলতে পারেন। তখন দুজনেই কিন্তু নিজের সম্মতি থাকা সত্ত্বে এই ডিভোর্স দিতে পারবেন।

এমন পরিস্থিতিতে এমনও হতে পারে যে দুজনকে আদালত কিছুটা সময় দেবে আরো কয়েকবার চিন্তাভাবনা করার জন্য। তখন কিছু সময় পর আপনাদের মত জানবেন বিচারক তারপর সেই অনুসারে ডিভোর্স এগোবে।

দ্বিতীয় কোন ব্যক্তি এই ডিভোর্স হতে দিচ্ছেন না:

যদি আপনি অথবা আপনার স্ত্রী অথবা স্বামী এই ডিভোর্সের জন্য একেবারে তৈরি কিন্তু দ্বিতীয় কোন ব্যক্তি এই ডিভোর্স হতে দিচ্ছেন না:

যদি আপনি হিন্দু বিবাহ অধিনিয়ম 1955 অনুসারে যেতে চান, তাহলে আপনার কাছে আইন-কানুন দ্বারা যে ডিভোর্সের নিয়ম কানুন গুলো রয়েছে সেগুলি দেওয়া হবে। যেখানে ধারা 13 তে উল্লেখিত সমস্ত রকম শর্ত গুলির উপর চর্চা করা হবে। কি আপনি আপনার স্বামী অথবা স্ত্রী কে ডিভোর্স দেওয়ার জন্য মামলা করতে রাজি কিনা।

আপনি ডিভোর্সের জন্য ফাইল করতে পারেন:

বিবাহের পর যে সমস্ত বিষয় গুলির উপর আলোকপাত করে আপনি ডিভোর্সের জন্য ফাইল করতে পারেন সেগুলি হল:-

১) যদি কোন মানুষের দ্বারা সাত বছর অথবা তার বেশি অব্দি জীবিত অবস্থায় থাকা সম্বন্ধে যদি না শুনে থাকেন, সেক্ষেত্রে অবশ্যই সেই ব্যক্তির সম্বন্ধে যা শুনেছেন সেই ব্যক্তি টি জীবিত ছিলেন।

২) এছাড়া যদি বিবাহের পর তার সাথে অন্য কোনো তৃতীয় ব্যক্তির শারীরিক সম্পর্ক থাকে তো।

৩) যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রী অথবা স্বামীকে খুবই কঠোর হবে অত্যাচারিত করে থাকেন।

৪) আর যদি আপনার স্বামী অথবা স্ত্রী কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই কম করে দুই বছর সময় অবদি আপনাকে আলাদা রেখেছে অথবা ছেড়ে দিয়েছে বলতে পারেন সে ক্ষেত্রে।

৫) যদি অন্য ধর্ম তে রূপান্তরিত হয়ে হিন্দু হয়ে গেছেন।

৬) দুজনের মধ্যে কেউ যদি অসুরক্ষিত মন অথবা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে থাকেন, তাহলে ডিভোর্সের জন্য ফাইল করতে পারেন। কেননা সঠিকভাবে যেটা মনে করা হয়, সে ক্ষেত্রে কিন্তু আপনি সেই ব্যক্তির সাথে সারাজীবন কখনোই থাকতে পারবেন না।

৭) যদি আপনার স্বামী অথবা স্ত্রী কুষ্ঠ রোগ এর কারণে জর্জরিত, তাহলে ডিভোর্স দিতে পারেন।

৮) আবার যদি আপনার স্বামী অথবা স্ত্রী ধার্মিক কোন আদেশ শোনার পর সেই প্রবাহে প্রবাহিত হয়ে সম্পূর্ণ দুনিয়া অথবা পরিবার, সংসার ছেড়ে দিয়ে থাকে, বলতে গেলে এক রকম সন্ন্যাস নিয়ে থাকেন, তাহলে কিন্তু ডিভোর্স দিতে পারেন।

ডিভোর্সের জন্য ফাইল কোথায় করবেন ?

ডিভোর্সের জন্য ফাইল পারিবারিক আদালতে করতে পারেন, যারা মহিলা রয়েছেন তারা পারিবারিক আদালতে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন যাদের কাছে শশুর বাড়ির কাছাকাছি কোন পারিবারিক আদালত থেকে থাকে, সেখানে গিয়ে অনায়াসেই এই ডিভোর্সের জন্য অভিযোগ করতে পারেন।

ডিভোর্স বিষয়টি বিভিন্ন রকমের রূপ নিতে পারে, কিছু মামলার ক্ষেত্রে খুবই সুন্দর ও সরলভাবে হয়ে যায় কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেটা জটিল সমস্যা তৈরি করে, আপনি কেমন ধরনের পরিনাম চাইছেন সেগুলি নিম্নলিখিত বিষয়গুলির উপরে বিচার করতে পারেন:

১) আপনার কাছে অথবা আপনার স্বামী / স্ত্রী এর কাছে সম্পত্তি অথবা আরো অন্যান্য যে সম্পত্তি সেগুলি কি রয়েছে, যেটা ভাগাভাগি করার জন্য এই পরিকল্পনা করেছেন ?

২) আপনার স্বামী অথবা স্ত্রীর কাছে আপনার সন্তান রয়েছে, সেই সন্তানকে নিজের কাছে আনার জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ?

৩) যদি আপনি সন্তানের অধিকার নিয়ে কথা বলেন তাহলে আপনার স্বামী অথবা স্ত্রী সেই বিষয়টিকে সমর্থন করবে কি ?

৪) একটি ডিভোর্স অনেক সময় অনেকের জীবন সংশোধন অথবা পরিবর্তন করেছে বলতে পারেন। যদি আপনি আপনার স্বপ্ন, লক্ষ্য এবং ইচ্ছার জন্য এই ডিভোর্স দিতে চান, সে ক্ষেত্রে বিচার-বিবেচনা করে তবেই পদক্ষেপ নেবেন।

নিজের ডিভোর্সের জন্য একজন ভালো উকিল সিলেক্ট করা:

অবশ্যই যে কোন বিষয়ে বিশেষ করে আইন অনুযায়ী একজন ভালো উকিল না হলে আপনি সেই মামলা কখনোই ভালোভাবে সমাধান করতে পারবেন না। তাই ডিভোর্স একটি জটিল সমস্যা। এক্ষেত্রে একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ উকিল নির্বাচন করাটা আপনার জন্য একটা কর্তব্য অথবা দায়িত্ব বলতে পারেন।

এক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয়ের উপরে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে:

১) নিজের লক্ষ্য অথবা বঞ্চিত পরিনাম এর সম্বন্ধে কথা বলার জন্য একেবারে তৈরি থাকুন। আপনার উকিলকে আপনার সমস্ত রকম সমস্যা বলতে দ্বিধাবোধ করবেন না, কোন বিষয় যদি উকিলকে না বলে লুকিয়ে রাখেন, তাহলে সেই মামলাটি অনেকটা জটিল সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।

২) নিজের সম্পত্তি এবং ঋণের ওপর একত্রিত দস্তাবেজ রাখতে হবে।

৩) যে সমস্ত প্রশ্ন গুলি আপনি করবেন উকিলকে আপনার ইচ্ছা অনুসারে ডিভোর্স সম্পর্কে। সেগুলির একটি লিস্ট বানাতে পারেন। যেটা পরবর্তীতে কোনো রকম পয়েন্ট বাদ যাবে না। এতে উকিলের অনেকটা সুবিধা হবে এই সমস্যাটি সমাধান করতে।

তাহলে বুঝতেই পারছেন যে, নিজে থেকেই স্বামী অথবা স্ত্রী কে ডিভোর্স দিতে পারবেন যদি আপনি তার সাথে সারা জীবন না থাকতে পারেন। তবে অবশ্যই আইন অনুসারে ভালো উকিল নির্বাচন করুন এবং খুবই কম সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক ভাবে কোন সমস্যা ছাড়াই ডিভোর্স সম্পন্ন হতে পারে।

Leave a Comment