ভারতে জন্ম সনদের নাম পরিবর্তন কিভাবে করবেন? জানুন প্রক্রিয়া

যদি আপনার জন্ম সনদ পত্রে নামে ভুল থাকলে কি করবেন? জন্ম সনদ পত্রে নাম পরিবর্তন কিভাবে করা যায়? আসুন জেনে নিন জন্ম সনদপত্রে পরিবর্তন করার পদ্ধতি।

জন্ম সনদ হল পৌরসভা কর্তৃক জারিকৃত প্রথম অফিসিয়াল ডকুমেন্ট যাতে কোনও ব্যক্তির জন্ম তারিখ, সময়, নাম এবং অন্যান্য বিবরণ থাকে। তবে, অনেক সময় সনদপত্রে ভুল নাম এন্ট্রি হয়ে যেতে পারে।

জন্মসনদে এন্ট্রি করা নাম ঠিক করানো সম্ভব এবং এটি পরিবর্তন করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কিন্তু জন্মসনদে যদি নামের ক্ষেত্রে কোন ভুল হয়ে থাকে তাহলে তা সংশোধনের জন্য আপনাকে কিছু নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

আপনাকে একটি আবেদন জমা দিতে হবে যার প্রেক্ষিতে নামের ভুল সংশোধন করে সঠিক নাম এন্ট্রি করা হবে
ভারতে জন্ম সনদ সংরক্ষণ করে রাখার জন্য পূর্বে দুর্বল ট্র্যাক রেকর্ড পদ্ধতি চালু ছিল তবে জন্ম ও মৃত্যুর নিবন্ধন আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন শিশুর জন্ম সনদ তৈরি এবং জন্মের রেকর্ড সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক।

ভারতে জন্ম সনদের নাম পরিবর্তন কিভাবে করবেন? জানুন প্রক্রিয়া
ভারতে জন্ম সনদের নাম পরিবর্তন কিভাবে করবেন? জানুন প্রক্রিয়া

এই জন্ম সনদপত্রগুলি তৈরি করা হয় ভারত সরকার বা পৌর কর্পোরেশন বা গ্রাম পঞ্চায়েত দ্বারা। বর্তমানে অনলাইনে জন্ম সনদ তৈরি করার সুযোগও রয়েছে।

সুপ্রিয় পাঠক আমাদের আজকের আলোচনায় থাকছে ভারতে জন্ম সনদের নাম পরিবর্তন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা। ভারতে জন্ম সনদের নাম পরিবর্তন প্রক্রিয়া-

জন্ম সনদপত্রের গুরুত্ব

জন্মের সনদপত্র যে কোনও ভারতীয় নাগরিকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি তাদের বয়স, পরিচয়, নাগরিকত্ব এবং জন্মস্থান প্রমাণ করতে সহায়তা করে।

এটি উত্তরাধিকার প্রমাণ হিসাবে একটি শিশুকে শিক্ষাগত সুবিধা, চিকিৎসা সহায়তা পেতে সহায়তা করে এবং একটি শিশুর নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে স্বীকৃতি প্রদান করে। দুর্ভাগ্যক্রমে, আপনার জন্ম সনদপত্রে কোনও বানান ত্রুটি বা অন্য ধরণের ভুল হওয়াটা খুব সাধারণ।

এই জাতীয় ক্ষেত্রে, আপনি যদি সনাক্ত করতে পারেন যে কি কি ভুল রয়েছে আপনার জন্ম সনদে তাহলে তা পরিবর্তন করে সঠিক তথ্য ইনপুট দেওয়া সম্ভব। সম্পূর্ন নির্ভুল জন্ম সনদ পেতে কোন ভুল থাকলে দ্রুত তা সংশোধন বা আপডেট করে নেওয়াটা অপরিহার্য বিষয়।

ভারতে জন্ম সনদের নাম পরিবর্তন করার পদক্ষেপগুলি নিম্নরূপ

প্রথমত- অনলাইনে আপনার জন্ম সনদপত্রের নাম পরিবর্তন করতে, অনলাইন ফর্মটি ডাউনলোড করুন।

যেখানে আপনার জন্ম হয়েছে বা নিকটস্থ পৌর কর্পোরেশন অফিস বা গ্রাম পঞ্চায়েতের কাছ থেকে জন্ম সনদপত্র আপডেট বা সংশোধন ফর্মটি সংগ্রহ করুন।

এরপর জন্ম সনদপত্রের নাম পরিবর্তন করতে একটি হলফনামা তৈরি করতে হবে তার জন্য, আপনাকে স্থানীয় নোটারি অফিসারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে যারা আপনাকে বর্তমান নাম এবং পছন্দসই নতুন নাম উল্লেখ করতে সহায়তা করবে এবং আপনাকে হলফনামায় নাম পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে সংক্ষেপে উল্লেখ করতে হবে।

হলফনামায় নির্ধারিত মূল্যের স্ট্যাম্প সংযোজন করে তারপর সেটা তৈরি করতে হবে। এরপর সংশোধন ফর্মটি পূরণ করতে হবে এবং তারপরে প্রশাসকের আসল স্বাক্ষর সহ একটি এফিডেভিট বা প্রত্যায়িত অনুলিপি সহ একজন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তা আপনার জেলা আদালতে জমা দিন।

নাম পরিবর্তনের বিজ্ঞাপনটি দুইটি সংবাদপত্রে প্রকাশ করা উচিত – একটি স্থানীয় ভাষার সংবাদপত্রে এবং অন্যটি ইংরেজি ভাষার সংবাদপত্রে। আপনার সংশোধিত সঠিক নাম সংশ্লিষ্ট রাজ্যের অফিসিয়াল গেজেটে প্রকাশ করুন।

তার জন্য, আপনি নিজ রাজ্যের সরকারী প্রেসে যোগাযোগ করতে পারেন। এর জন্য আবেদন ফর্মটি পূরণ করুন এবং প্রয়োজনীয় ফি প্রদান করুন।

রাজ্যের অফিসিয়াল গেজেট আপনার নাম পরিবর্তন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে। আপনার দেওয়া ঠিকানায় তারা আপনাকে নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত কপিগুলি প্রেরণ করবে।

ভেরিফিকেশন

হলফনামার যাচাইকরণ বা ভেরিফিকেশন নোটারি দ্বারা করা দরকার। হাসপাতালের রেকর্ডের মতো পৌর কর্পোরেশনের নির্দিষ্ট কিছু নথি যাচাই করার প্রয়োজন হতে পারে, কারণ এটা জানা প্রয়োজন যে যিনি নাম পরিবর্তন করতে চাইছেন তার দেওয়া তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণাদি সঠিক কিনা।

হলফনামার জন্য যে ফি প্রদান করতে হয় তা হল নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পেপারের জন্য, ২০-১০০ রুপি এজন্য ব্যয় করতে হবে। জন্ম সনদপত্রের নাম পরিবর্তন করার জন্য ফি আলাদা প্রদান করতে হবে।

অনলাইনে রাজ্য সরকার বা পৌর পোর্টালগুলির মাধ্যমে ফী সম্পর্কে আপনারা বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন।

জন্ম সনদপত্রের নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় নথিসমূহ-

প্রকাশনা নিয়ন্ত্রক, প্রকাশনা বিভাগের কাছ থেকে নেওয়া ‘ডিড চেঞ্জিং নেম ফর্ম’-এর একটি অনুলিপি, ঘোষণার একটি চিঠি যা নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে লেখা হয়েছে, প্রকাশিত বিজ্ঞাপনগুলির মূল কপি এবং যে তারিখে প্রকাশিত হয়েছে সেই তথ্য, সত্যায়িত ছবি, ঠিকানা এবং পরিচয় প্রমাণস্বরুপ অন্যান্য দলিল।

অফিসিয়াল গেজেটে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য আপনাকে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা ব্যয় করতে হবে। পাবলিকেশন অফিসের কন্ট্রোলারের কাছে ডিডি এর মাধ্যমে এই ফি প্রদান করতে পারেন।

জন্মের সনদপত্রের জন্য কীভাবে আবেদন করবেন?

জন্ম সনদের জন্য আবেদন করেন মূলত অভিভাবকগণ। তাদের ঠিকানাতেই এই সনদ প্রেরণ করা হয়। ভারতে এখন জন্ম নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক।

যে পৌরসভায় ব্যক্তির জন্ম হয়েছে সেখানে রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে একটি জন্ম সনদপত্রের নিবন্ধকরণ ফর্ম গ্রহণ করুন। জন্মের ২১ দিনের মধ্যে, অথবা ২১ দিনের পরে সম্পূর্ণ ফর্মটি ফাইল করুন, পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য এটা প্রয়োজন।

কারণ নিবন্ধন না কএয়া থাকলে নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবেনা। এরপর নিবন্ধকের দ্বারা যাচাইকরণের পরে, জন্ম সনদের জন্য আবেদনকারী ব্যক্তিতা পেতে পারেন।

সম্পূর্ন প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতে পৌর কর্তৃপক্ষের সাথে ৭ দিনের মধ্যে পুনরায় সাক্ষাত করে বিষয়টি যাচাই করা দরকার।

ব্যক্তি যেখানে অবস্থান করেন তার ঠিকানা অবশ্যই উল্লেখ করা উচিত যাতে জন্মের সনদপত্রটি সরাসরি প্রেরণ করা যায়।

শেষ কথা

ভারতে শিশু জন্মের ২১ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগে এ ব্যাপারে কড়া কোন আইন ছিল না। যদি জন্ম নিবন্ধনে নাম বা অন্য কোন তথ্য ভুল থাকে তবে তা পরিবর্তন করার প্রয়োজন হবে।

আর নাম পরিবর্তনের আবেদনে যে সকল তথ্য, দলিল, প্রমাণাদি থাকবে তা যাচাই করা হবে পূর্বের রেকর্ডকৃত তথ্যের সাথে। তাই সঠিক সময়ে সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করুন।

এখন অনলাইনেও জন্ম নিবন্ধন করা যায়। আর যেকোন ভুল তথ্য আপডেট করতে আপনাকে অনলাইন অথবা নিজ রাজ্য থেকে নাম পরিবর্তন আবেদন ফর্ম, হলফনামা, প্রয়োজনীয় তথ্য, দলিল এবং ফি দিয়ে নিজের নাম অথবা অথবা তথ্য পরিবর্তন করে নিতে হবে। আশা করি ভারতে কিভাবে নাম পরিবর্তন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় তা জানাতে সক্ষম হয়েছি।

সুপ্রিয় পাঠক পোস্টটি পড়ে আপনাদের মতামত জানাতে ভুলবেন না। এরপর কোন বিষয় নিয়ে জানতে চান তা আমাদের কমেন্ট করে জানান। আমরা পরবর্তীতে সে বিষয়ে তথ্য নিয়ে হাজির হব। আজকের মত এখানেই শেষ করছি।

ধন্যবাদ সবাইকে।

Leave a Comment