বাড়িতেই করে ফেলুন ফেসিয়াল তাও আবার একেবারে প্রাকৃতিক উপাদানে

হাতের কাছে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েই ঘরেতেই করে ফেলুন ফেসিয়াল। মন ফ্রেশ হওয়ার সাথে সাথে নিজেকে আরও বেশি সুন্দর করে তুলতে ঘরেতেই করতে পারেন নিজের রূপচর্চা

লকডাউন এর জেরে মানুষ যেমন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, তেমনি কিছু কিছু ক্ষেত্রে কাজ কমে গেলেও, যারা বাড়িতে রয়েছেন তাদের কাজ কিন্তু বেড়ে গিয়েছে অনেক গুণ। বিশেষ করে যেসব নারীরা বাইরে অফিসে কাজ করতেন, এখন বাড়িতে বসেই Work From Home করতে হচ্ছে, কি আর করা যাবে বাড়িতে থাকার জন্য অফিসের কাজের সাথে সাথে বাড়ির কাজ থেকেও রেহাই নেই।

অন্যদিকে যারা হাউস ওয়াইফ তাদেরও কাজ বেড়ে গিয়েছে তিনগুণ। কারণ পরিবারের বেশির ভাগই সদস্যরা বাড়িতে থাকছেন। নানান রকম কাজ লেগেই রয়েছে সারাদিন, তাদের যেন দম নেওয়ারও সময় নেই।

খাটাখাটনি যেন বেড়েই চলেছে। তাই সেক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই ক্লান্তি এবং অবসাদের ছাপ পড়ছে চেহারার এবং মুখে। পার্লার বন্ধ থাকা কালিন একটু যে ফেসিয়াল করে নেবেন সে সুযোগ হয়ে ওঠে না। তার জন্য বাড়িতেই ফেসিয়াল করার কথা ভাবছেন অনেকেই। অতিরিক্ত কাজের চাপে চোখের নিচে চেপে বসেছে কালির ছাপ। দেখা দিচ্ছে ব্ল্যাকহেডস, যার জন্য বিবর্ণ দেখাচ্ছে মুখ।

বাড়িতেই করে ফেলুন ফেসিয়াল তাও আবার একেবারে প্রাকৃতিক উপাদানে
বাড়িতেই করে ফেলুন ফেসিয়াল তাও আবার একেবারে প্রাকৃতিক উপাদানে

আপনার হাতের কাছেই যখন প্রাকৃতিক উপাদান পেয়ে যাচ্ছেন, তাহলে পার্লারে যাওয়ার অপেক্ষা কেন করছেন। বাড়িতেই প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ফেসিয়াল করে নিতেই পারেন। এতটাও কঠিন মনে হবে না এবং ফলাফল পাবেন আপনি খুব সুন্দর।

এতটাও গাদা-গাদা জিনিসের প্রয়োজন হবে না, ঘরেতে ফেসিয়াল করার জন্য। বরং আপনার রান্নাঘরের কিছু উপাদান দিয়ে আপনি করে দিতে পারবেন অনায়াসেই ঘরে বসেই ফেসিয়াল। তার জন্য দরকার শুধুমাত্র সামান্য কিছু প্রাকৃতিক উপাদান। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক –

১. মুখ পরিষ্কার:

ত্বক যতই পরিষ্কার রাখবেন ততই তো উজ্জ্বল লাগবে। এটি হলো ফেসিয়ালের প্রথম ধাপ। আপনার ত্বক অনুযায়ী ক্লিনজার বেছে নিতে পারেন। হালকা গরম জলের ঝাপটা দিয়ে মুখ ভিজিয়ে তারপর ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিতে পারেন।

তবে প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে মুখ পরিষ্কার করতে মধু ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার ত্বক সুন্দর এবং নরম ও নমনীয় হবে। মধু লাগিয়ে দু এক  মিনিট ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন।

২. এক্সফোলিয়েট:

এই সময় ত্বকের মৃত কোষ গুলি তুলে ফেলার সময়। প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে এক চা-চামচ ওটমিল গুঁড়ো করে তার সাথে ১ চা চামচ মধু এবং ১ চা চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে একটা স্ক্রাব বানিয়ে নিন।

আপনার ত্বক যদি শুষ্ক প্রকৃতির হয়ে থাকে তাহলে মধু ও অলিভ অয়েল এর সাথে ১ চা চামচ চিনি মিশিয়ে নিন। চিনি আপনার ত্বকে আর্দ্রতা বজায় রাখবে। আলতো করে ঘষে ত্বকের মৃত কোষ গুলি তুলে ফেলার চেষ্টা করুন। খুব কড়া হাতে ঘষলে আপনার ত্বকের মৃতকোষ ওঠার সাথে সাথে ত্বকের ওপরে খারাপ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

৩. স্ট্রিম নেওয়া:

একটি পাত্রে জল ফুটিয়ে নিন। একটা তোয়ালে মাথার ওপর দিয়ে পাত্র সমেত ঢাকা দিয়ে মুখের সামনে পাত্র টাকে রাখুন। সেই গরম জলের ভাপ যেন সরাসরি আপনার মুখে লাগে। ৫ থেকে ৭ মিনিট এভাবে থাকুন।

আপনার ইচ্ছা হলে আপনার পছন্দমত এসেন্সিয়াল অয়েল এই জলে ব্যবহার করতে পারেন, এর ফলে আপনার ত্বকের লোমকূপের ভিতর জমা ময়লা গুলো বেরিয়ে আসতে সুবিধা হয় এবং আপনার ত্বক আরও বেশি সতেজতা লাভ করে।

৪. ফেস মাস্ক:

আপনার পছন্দ মত যে কোন ফেস মাক্স আপনি ব্যবহার করতে পারেন। ফেস মাক্স হল এমন একটা জিনিস যেটা ত্বকে পুষ্টির যোগান দেয়। তবে স্বাভাবিক ত্বকে মধু এবং টকদই এর ফেসপ্যাক ভীষণ কার্যকরী।

শুষ্ক ত্বকে কলা এবং মধুর ফেসপ্যাক, এটা ত্বকের হাইড্রেশন বজায় রাখতে সাহায্য করে। আর যাদের তৈলাক্ত ত্বক তারা মুলতানি মাটির ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে পারেন কারণ মুলতানি মাটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নিতে পারে।

তবে অবশ্যই মুলতানি মাটির সাথে মধু মিশিয়ে নিতে ভুলবেন না। এক্ষেত্রে চোখের উপর শসা গোল করে কেটে ঢাকা দিয়ে রাখতে পারেন। অথবা চোখ দুটো তুলো গোলাপ জলে ভিজিয়ে ঢেকে রাখতে পারেন। এর ফলে আপনার ত্বক এবং চোখ দুটোই স্নিগ্ধ থাকবে। আধঘন্টা পর ঠান্ডা জল দিয়ে ফেস মাস্ক টি ধুয়ে ফেলুন।

৫. ফেস টোনার:

এতকিছু করার পর মুখের ত্বকের লোমকূপ গুলো সব ওপেন হয়ে গেছে অথবা খুলে গেছে। এবার মুখের খুলে যাওয়া এই ছিদ্রগুলো বন্ধ করার পালা। আর তার জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত টোনার। তো এই ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে ১ চা চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার এ জল মিশিয়ে তুলোয় ভিজিয়ে সারা মুখে মুছে নিতে পারেন।

এক্ষেত্রে বলাই বাহুল্য যে, অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার ত্বক এর পিএইচ লেভেল ব্যালেন্স করে রাখতে সাহায্য করে। তাছাড়া শসার রস ও খুব ভালো একটা টোনার। এগুলো ছাড়াও ঠান্ডা বরফ জলে মুখ ধুয়ে নিতে পারেন।

৬. ময়েশ্চারাইজার:

এতকিছু করার পর ত্বক রুক্ষ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকতেই পারে, তাই মশ্চারাইজার এই ক্ষেত্রে ভীষন জরুরী। তাছাড়া ঘরোয়া ফেসিয়াল এর এই মসরাইজার হলো শেষ ধাপ। এমনিতে আপনার পছন্দমত আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী মশ্চারাইজার আপনি মাখতেই পারেন। তবে স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক ত্বক পেতে আপনারা ব্যবহার করতে পারেন অলিভ অয়েল বা আমন্ড অয়েল।

তেল কিন্তু ত্বক এর পক্ষে ভীষণ উপকারী। আপনার ত্বক যদি শুষ্ক হয়ে থাকে তাহলে নারকেল তেল অথবা অর্গান অয়েল ইউজ করতে পারেন। আর যদি হয় আপনার তেলতেলে ত্বক তাহলে কি করবেন? সে ক্ষেত্রে আপনি ব্যবহার করতে পারেন জোজোবা অয়েল অথবা অ্যালোভেরা জেল।

মনে রাখার বিষয়:

বাড়িতে ফেসিয়াল করলেন বলেই যে অনেক ক্ষেত্রে অনেক কিছু বাদ দিতে পারেন এমন কিন্তু কোন কথা নেই। পার্লারে গিয়ে যেমনটা ফেসিয়াল করেন, তারপরে যা যা নিয়ম পালন করেন সেগুলো কিন্তু ঘরে ফেসিয়াল করার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ফেসিয়াল করার সাথে সাথেই মুখে মেকআপ করার চিন্তা একেবারেই করবেন না। ফেসিয়াল করার সময় সবকিছু হাতের কাছে গুছিয়ে রাখুন আগে থেকেই।

ফেসিয়াল করতে করতে বারবার উঠে গিয়ে জিনিসপত্র আনার চেষ্টা করবেন না। কোন কিছু তে হয়তো কারো এলার্জি থাকতেই পারে। তাই কোন জিনিস মুখে মাখার পর জ্বালা অনুভব হলে সাথে সাথে মুখ ধুয়ে ফেলুন। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ফেসিয়াল করার সময় মনকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন যেমনটা মেডিটেশন করা হয়।

ঠান্ডা এবং শান্ত পরিবেশে ফেসিয়াল করা জরুরি। তাতে আপনার মন শান্ত থাকবে এবং সুন্দর ত্বকের পাশাপাশি আপনি এনার্জি পাবেন ভরপুর। ফেসিয়ালের মাধ্যমে অনেকটা ক্লান্তি কমানো যায়। তাই এই বিষয়গুলোর দিকে অবশ্যই অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। ঘরেতেই ফেসিয়াল এর মাধ্যমে হয়ে উঠুন অনন্যা।

নানান ব্যস্ততায় নিজের জন্য সময় বের করা একেবারেই হয়ে ওঠে না। রূপচর্চা তো দূরের কথা, শরীরের দিকে খেয়াল দেওয়ার মত সময় হয়ে ওঠে না অনেক নারীর। তাই নিজের যত্নে ঘরোয়া উপায়ে একটু হলেও সময় বার করার চেষ্টা করুন নিজের জন্য। নতুন করে এনার্জি ফিরে পেতে, এবং নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলতে নিজের প্রতি খেয়াল রাখাটা অত্যন্ত জরুরী।

সকলের খেয়াল তো আপনিই রাখছেন, তবে আপনার খেয়াল কিন্তু আপনার নিজেকেই রাখতে হবে। সে ক্ষেত্রে নিজের জন্য একটু সময় বার করার চেষ্টা করুন। সেটুকু সময় শুধুমাত্র আপনার। শরীরের খেয়াল এর পাশাপাশি রূপচর্চার দিকে খেয়াল রাখুন ঘরোয়া উপায়ে, সুন্দর থাকুন, সুস্থ থাকুন, হয়ে উঠুন আকর্ষণীয়।

Leave a Comment