দ্রৌপদী মুর্মু জীবনী 2022: স্বামী, শিক্ষা, পরিবার, সম্পত্তি এবং অন্যান্য বিবরণ

দ্রৌপদী মুর্মু কে? কোথায় বাড়ি? জীবনে কিভাবে সফল হয়েছেন? আসুন জেনে নিন দ্রৌপদী মুর্মু এর জীবন পরিচয়, পরিবার, শিক্ষা, মোট সম্পত্তি ও রাজনৈতিক বিবরণ জানুন (Draupadi Murmu Biography in Bangla)।

মনের একাগ্রতা আর অদম্য ইচ্ছা শক্তি থাকলে যে যেকোনো কিছু জয় করা যায়, সেটা প্রমাণ করে দিলেন আদিবাসী সম্প্রদায় এ জন্মগ্রহণ করা ওড়িশা রাজ্যের দ্রৌপদী মুর্মু ।

দ্রৌপদী মুর্মু জীবনী - Draupadi Murmu Biography in Bangla
দ্রৌপদী মুর্মু জীবনী – Draupadi Murmu Biography in Bangla

ভারতীয় জনতা পার্টি দ্বারা ভারতের ১৫তম রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত হয়েছিলেন আর বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। দ্রৌপদী মুর্মু হলেন ভারতের ১৫তম রাষ্ট্রপতি এবং ভারতের প্রথম আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতি। আর সেই কারণে তার সম্পর্কে জানার জন্য ইন্টারনেটে বহু মানুষ আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করে আছেন।

তো চলুন তাহলে আজকের এই লেখাতে জানা যাক, কে এই দ্রৌপদী মুর্মু ? তার জীবন কাহিনী সম্পর্কে একটু হলেও ধারণা করা যাক:

সুচিপত্র

দ্রৌপদী মুর্মু এর জীবনী: 

সম্পূর্ণ নামদ্রৌপদী মুর্মু
জন্ম তারিখ২০ জুনে ১৯৫৮
জন্ম স্থানবাইদাপোসি গ্রাম, ময়ুরভঞ্জ, ওড়িশা
পিতার নামবিরঞ্চি নারায়ণ টুডু
স্বামীর নামশ্যামচরণ মুর্মু
সন্তান২ ছেলে ১ মেয়ে
পেশাশিক্ষক, সমাজসেবক, রাজনীতি
জাতিঅনুসুচিত জনজাতি (আদিবাসী)
শিক্ষাস্নাতক
শিক্ষা স্থানরমা দেবী মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়
ধর্মহিন্দু
উচ্চতা৫ ফুট ৪ ইঞ্চি
রাজনৈতিক দলভারতীয় জনতা পার্টি
ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান১৯৯৭ সালে
পুরস্কারনীলকন্ঠ পুরস্কার (২০০৭ সালে)

 দ্রৌপদী মূর্মুর পরিবার: 

দ্রৌপদী মুর্মু হলেন ভারতের ১৫তম রাষ্ট্রপতি এবং ভারতের প্রথম আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতি। দ্রৌপদী মুর্মুর পিতার নাম বিরঞ্চি নারায়ণ টুডু আর তিনি সাঁওতাল আদিবাসী ফ্যামিলি থেকে এসেছেন। বাইদাপোসি গ্রাম, ময়ুরভঞ্জ, ওড়িশা নিবাসী দ্রৌপদী মুর্মুর জন্ম ১৯৫৮ সালের ২০ জুন।

ঝাড়খন্ড রাজ্য তৈরি হওয়ার পরে পাঁচ বছরের কার্যকাল সম্পূর্ণ করা এই দ্রৌপদী মুর্মু প্রথম মহিলা রাজ্যপাল ছিলেন, তার স্বামীর নাম ছিল শ্যামচরণ মুর্মু। দ্রৌপদী মূর্মুর সন্তান রুপে ২ ছেলে ও ২টি মেয়ে পেয়েছিলেন কিন্তু খুবই দুর্ভাগ্যে মাত্র ৩ বছর বয়সের এক মেয়ে এবং একের পর এক ২ ছেলেকে হারিয়ে ফেলেন।

প্রথম সন্তান (মেয়ে মাত্র ৩ বছর বয়স)মৃত্যু ১৯৮৪
লক্ষণ মূর্মূ (বড় ছেলে বয়স ২৫ বছর)মৃত্যু ২০১০
বিরঞ্চি মূর্মূ (ছোট ছেলে বয়স ২৮ বছর)মৃত্যু ২০১৩
শ্যাম চরণ মূর্মূ (স্বামী বয়স ৫৫ বছর)মৃত্যু ২০১৪

দ্রৌপদী মূর্মূর শিক্ষা জীবন: 

যখন তিনি একটু বড় হয়েছেন এবং বুঝতে শিখেছেন তখন তার বাবা-মা তাকে তার জন্মস্থানের এলাকাতে একটি বিদ্যালয়ে এডমিশন অথবা ভর্তি করিয়ে দেন। যেখানে তিনি তার প্রাথমিক পড়াশোনা সম্পূর্ণ করেন।

এরপর গ্রাজুয়েশন এর পড়াশোনার জন্য ভুবনেশ্বর শহরে চলে যান। আগে তিনি রমা দেবী মহিলা কলেজে এডমিশন নিয়েছিলেন আর রমাদেবি মহিলা কলেজ থেকেই তিনি গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেছেন।

এরপর গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করার পরে ওড়িশা গভর্মেন্ট এ বিদ্যুৎ ডিপার্টমেন্ট তে জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে তিনি চাকরি পান। এই চাকরি ১৯৭৯ সাল থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত চাকরি করেন। এরপরে তিনি ১৯৯৪ সালে রায়গঞ্জে অবস্থিত অরবিন্দ ইন্টিগ্রাল এডুকেশন সেন্টারে শিক্ষক হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন, আর এই কাজ তিনি ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত করেন।

দ্রৌপদী মূর্মূর সম্পত্তির বিবরণ:

দ্রৌপদী মূর্মূ অত্যন্ত সামান্য ও সাধারণ মানুষের মতই থাকেন আর একজন সাধারণ মানুষ আপনার আমার মত ওনার সম্পত্তি সাধারণ যা আপনারা এখানে দেখতে পারেন।

নেট সম্পদ₹৪.৮ লাখ
সম্পত্তি₹ ৯.৪৫ লাখ
দায়িত্ব সম্পত্তি₹ ৪.৬৫ লাখ

দ্রৌপদী মুর্মুর রাজনৈতিক জীবন: 

প্রথমত ওড়িশা সরকারের রাজ্য মন্ত্রী স্বতন্ত্র প্রভাব হিসেবে দ্রৌপদী মুর্মু কে ২০০০ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ট্রান্সপোর্ট আর বাণিজ্য ডিপার্টমেন্ট সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

তিনি ২০০২ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ওড়িশা গভারমেন্টের রাজ্য মন্ত্রী হিসেবে পশুপালন আর মৎস্য পালন ডিপার্টমেন্ট কেও সামলেছেন। ২০০২ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ভারতীয় জনতা পার্টি অনুসুচিত জাতির মোর্চা এর রাষ্ট্রীয় কার্যকারিনী তে মেম্বার ও ছিলেন।

ভারতীয় জনতা পার্টি এসটি (ST) মোর্চা অর্থাৎ সিডিউল ট্রাইব মোর্চার প্রদেশ অধ্যক্ষ পদেও তিনি নিযুক্ত ছিলেন। ২০০৬ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি সেই দায়িত্ব সামলেছেন।

এসটি (ST) মোর্চা এর সাথে সাথে ভারতীয় জনতা পার্টি রাষ্ট্রীয় কার্যকারিনীর মেম্বারের পদ ও সামলেছেন ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত। এছাড়াও ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল পদেও তিনি নিযুক্ত ছিলেন। সেই দায়িত্ব ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দায়িত্বের সাথে পালন করে গেছেন।

১৯৯৭ সালে নির্বাচিত জেলা পর্ষদ:

সালটা ছিল ১৯৯৭ সাল, যখন ওড়িশার রায়গঞ্জপুর জেলা তে তাকে প্রথমবার জেলা পর্ষদ হিসাবে নির্বাচন করা হয়েছিল। তার সাথে সাথে তিনি রায়গঞ্জপুরের উপাধ্যক্ষ ও হয়েছেন। এছাড়াও তিনি ২০০২ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ময়ুরভঞ্জ জেলা ভাজপার অধ্যক্ষ হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

২০০৪ সাল এ রায়গঞ্জপুর বিধানসভা থেকে বিধায়ক হয়েছিলেন তিনি। আর পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ঝাড়খন্ড এর মতো আদিবাসী এলাকাতে অর্থাৎ এই রাজ্য এর রাজ্যপালের পদ সামলানোর দায়িত্ব পেয়েছিলেন।

দ্রৌপদী মুর্মুর রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত হওয়ার ঘোষণা: 

বর্তমান সময়ে বহু মানুষ এখনো পর্যন্ত এই দ্রৌপদী মুর্মুর সম্পর্কে কিছুই জানেন না। কিন্তু সবে মাত্র ঘোষিত হওয়া এই খবর খুবই চর্চাতে রয়েছে। সমস্ত মানুষ ইন্টারনেটে সার্চ করছেন যে, কে এই নব রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ? কেমন ছিল তার অতীতের জীবনযাত্রা ? তিনি কিভাবে এই পদে নিযুক্ত হয়েছেন ? যাঁকে মহিলা রাষ্ট্রপতি হিসাবে ঘোষিত করা হয়েছে।

তার এই পদে নিযুক্ত হওয়া শুধুমাত্র হঠাৎ করেই নয়, তিনি অনেক দিন আগে থেকেই অনেক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাছাড়া এটা প্রথম যে, এমন আদিবাসী মহিলা যিনি কিনা ভারত এর রাষ্ট্রপতি হয়েছেন, তার সাথে সাথে তিনি দ্বিতীয় এমন মহিলা হবেন তিনি কিনা পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি পদে তার নিজের দায়িত্ব সামলাবেন। এর আগে ভারতের রাষ্ট্রপতি পদে মহিলা হিসেবে যিনি ছিলেন, তিনি হলেন প্রতিভা পাটিল। তারপরে এই দ্রৌপদী মুর্মু এই রাষ্ট্রপতি পদে নিযুক্ত হলেন।

দ্রৌপদী মুর্মুর পুরস্কার প্রাপ্তি: 

দ্রৌপদী মুর্মুকে নীলকন্ঠ পুরস্কার সর্বশ্রেষ্ঠ বিধায়ক এর জন্য ২০০৭ সালে দেওয়া হয়েছিল। এই পুরস্কার ওড়িশা বিধানসভা দ্বারা তাকে প্রদান করা হয়েছিল।

দ্রৌপদী মুর্মুর পূর্ববর্তী অফিস: 

দ্রৌপদী মুর্মুর পূর্ববর্তী অফিস হিসেবে ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল প্রাণী ও মৎস্য প্রতিমন্ত্রী, বাণিজ্য ও পরিবহন প্রতিমন্ত্রী, ওড়িশা বিধানসভার সদস্য, হিসেবে তিনি নিযুক্ত ছিলেন। এছাড়াও তিনি আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন অসাধারণ ভাবে জনসাধারণের জন্য।

দ্রৌপদী মুর্মুর স্বামী এবং দাম্পত্য জীবন:

আগেই বলা হয়েছে যে, দ্রৌপদী মুর্মূর স্বামী শ্যামচরণ মুর্মু, যার সাথে দ্রৌপদী মুর্মুর বিবাহ হয়েছিল। যিনি পেশায় ছিলেন একজন ব্যাংকার, এবং সন্তান হিসেবে তার তিন সন্তান ছিল। যার মধ্যে দুটি ছিল ছেলে ও একটি মেয়ে। তাছাড়া ব্যক্তিগত জীবন তার খুব একটা সুখের ছিল না।

কেননা তার স্বামী এবং দুটি ছেলে বর্তমানে এই পৃথিবীতে নেই। খুবই দুঃখের বিষয় যে এত বড় কষ্ট তিনি সহ্য করেছেন এবং এত বড় বড় দায়িত্ব সামলেছেন এবং বর্তমানে তার একমাত্র কন্যা জীবিত আছেন যার নাম ইতিশ্রী। সেই কন্যার বিবাহ দ্রৌপদী মুর্মু গণেশ হেমব্রম এর সাথে দিয়েছেন। এখন পরিবার বলতে গেলে দ্রৌপদী মুর্মুর শুধুমাত্র তার এই কন্যা ও জামাতা রয়েছেন।

দ্রৌপদী মুর্মুর রাষ্ট্রপতি পদে নিযুক্ত হওয়া: 

২০২২ সালের জুন মাসে দ্রৌপদী মুর্মু কে ২০২২ সালের নির্বাচনে ভারতের রাষ্ট্রপতি পদের জন্য জাতীয় গণতান্ত্রিক প্রার্থী হিসেবে বিজেপি মনোনীত করেছিল। এছাড়া দ্রৌপদী মুর্মু উত্তরপ্রদেশের রাজ্যগুলিতে যেমন ধরুন ওড়িশার বিজেডি, ঝাড়খণ্ডের জে এম এম পার্টি, মহারাষ্ট্রের শিবসেনা, কর্নাটকের জেডিএস, উত্তরপ্রদেশের বিএসপি এবং আরও অন্যান্য অনেক গুলি বিশিষ্ট বিরোধী দল ছিল যারা তাকে তাদের সমর্থন বাড়িয়েছিল।

সমস্ত রকম বাধা বিপদ পেরিয়ে, মানসিক অবসাদ কাটিয়ে স্বামী সন্তান হারিয়ে, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত হয়েছেন তিনি তাঁর জন্য শুভকামনা। তাছাড়া অনেকদিন আগে থেকে তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। যার ফলে তিনি নীলকন্ঠ পুরস্কারও প্রাপ্ত করেছেন। তার সাথে সাথে জনসাধারণের জন্য কাজ করে গেছেন অক্লান্ত পরিশ্রমে।

FAQ for Draupadi Murmu

দ্রৌপদী মুর্মু কে?

দ্রৌপদী মুর্মু হলেন ভারতের ১৫তম রাষ্ট্রপতি এবং ভারতের প্রথম আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতি।

দ্রৌপদী মুর্মু কবে রাষ্ট্রপতি হন?

দ্রৌপদী মুর্মু ভারতের ১৫তম রাষ্ট্রপতি হিসাবে ২৫ জুলাই ২০২২ তে শপথ গ্রহণ করেন এবং রাষ্ট্রপতি কার্যভার গ্রহণ করেন।

দ্রৌপদী মুর্মুর মেয়ের নাম কি?

দ্রৌপদী মুর্মুর মেয়ের নাম ইতিশ্রী মুর্মু, গণেশ হেমব্রম এর সাথে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন।

দ্রৌপদী মুর্মুর স্বামী কে ছিলেন? কি কাজ করতেন?

দ্রৌপদী মুর্মুর স্বামীর নাম শ্যামচরণ মুর্মু ইনি পেশায় ছিলেন একজন ব্যাংকার। ২০১৪ সালে ৫৫ বছর বয়সে স্বামীর মৃত্যু হয়।

দ্রৌপদী মুর্মুর বড় ছেলের নাম কি?

দ্রৌপদী মুর্মুর বড় ছেলের নাম লক্ষণ মূর্মূ। ২০১০ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে মৃত্যু হয়।

দ্রৌপদী মুর্মুর ছোট ছেলের নাম কি?

দ্রৌপদী মুর্মুর ছোট ছেলের নাম বিরঞ্চি মূর্মূ। ২০১৩ সালে মাত্র ২৮ বছর বয়সে মৃত্যু হয়।

Leave a Comment