করবা চৌথ 2023: স্বামীর মঙ্গল কামনায় ভুলেও করবেন না এই কাজগুলি

সারা দেশজুড়ে এবং যারা বিদেশে রয়েছেন অর্থাৎ হিন্দু ধর্মাবলম্বী মহিলারা করবা চৌথ এর ব্রত পালন করে থাকেন। বিবাহিত মহিলাদের জন্য করবা চৌথ এর উপবাস ও ব্রত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়। এই পবিত্র দিনে মহিলারা স্বামীর দীর্ঘ জীবনের জন্য নির্জলা উপবাস পালন করেন।

সারা বছর ধরে এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করে থাকা হয় অধীর আগ্রহে। ঘর বাড়ি সাজানো থেকে নিজেদের কেও প্রস্তুতি নিতে হয় এই উৎসবে অংশগ্রহণ করার জন্য। করবা চৌথ এর দিন ভোর থেকে শুরু হয়ে যায় এই উপবাস ও ব্রত পালন করার তোড়জোড়। তবে প্রতিটি উৎসবে অনেক নিয়ম, বিধি এবং নিষেধ থাকে।

করবা চৌথ: স্বামীর মঙ্গল কামনায় ভুলেও করবেন না এই কাজগুলি
করবা চৌথ: স্বামীর মঙ্গল কামনায় ভুলেও করবেন না এই কাজগুলি

তেমনি করবা চৌথ ব্রত পালন করার ক্ষেত্রে এমন কিছু নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সেগুলি পালন করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করা হয়। স্বামীর মঙ্গল কামনা করে এই উপবাস রাখা হয় তাই কোন রকম অমঙ্গল যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখাটাও খুবই জরুরী, তাই না !

আর তাই এমন ক্ষেত্রে এই করবা চৌথ ব্রত পালন করার দিন এবং উপবাস রেখে আপনি যে কাজগুলি করতে পারবেন না সেগুলি অবশ্যই জানতে হবে। এই কাজগুলি থেকে বিরত থাকতে হবে আপনাকে, না হলে মঙ্গল হওয়ার পরিবর্তে অমঙ্গল হতে পারে সংসারে।

তো চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক, করবা চৌথ এর ব্রত পালন করার সময় যে কাজগুলি আপনি করবেন না:

প্রতিটি উৎসবে ছোটখাটো অনেক নিয়ম মেনে চলতে হয়। আর সেই ছোট ছোট নিয়মগুলি আপনার উপবাস, ব্রত পালন সবকিছুকে সুসম্পন্ন করে তোলে, শুভ ফল লাভ হয় এবং সংসারে আসে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।

করবা চৌথ এর দিন দিন নিম্নলিখিত এই কাজগুলি একেবারেই করবেন না:

১) ঘুম:

মানুষের শরীরে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা কতখানি তা নিয়ে আর নতুন করে বলার কিছু নেই। তবে করবা চৌথ এর দিন ব্রত পালন করছেন, উপবাস রেখেছেন, তার সাথে সাথে এই দিন বেশি সময় ধরে ঘুমানো যাবে না।

কারণ সূর্য উদয়ের সাথে সাথে এই ব্রত শুরু হয়ে যায়, তাই সারগি খাওয়ার পরে থেকেই সারাদিন আপনাকে যেমন নির্জলা উপবাসে থাকতে হয়, তেমনি ঘুম থেকেও বিরত থাকতে হবে।

২) বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের ঘুম থেকে না ওঠানো:

এখানে অবাক করার বিষয় হলো, আপনি নিজে উপবাস রেখেছেন, কিন্তু এই দিন বাড়ির অন্য কোন সদস্য যদি ঘুমিয়ে থাকেন তাহলে সেই সদস্যকে এই উপবাস রেখে আপনি জাগাতে পারবেন না।

হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে জানা যায় করবা চৌথ এর দিনে ঘুমন্ত ব্যক্তিকে ঘুম থেকে তুলে দেওয়া অশুভ বলে মনে করা হয়। সেই কারণে এই কাজটি আপনি নিশ্চয়ই করবেন না।

৩) সঠিক রং এর পোশাক:

উৎসব মানে আলো ঝলমল এবং সুন্দর সাজসজ্জা আর সেই কারণে করবা চৌথ এর দিন পুজোতে কখনোই কালো রং অথবা বাদামি রঙ এর কোন পোশাক পরা যাবে না। এই রংগুলিকে অশুভ বলে মনে করা হয়।

সম্ভব হলে এই দিনে শুধুমাত্র লাল শাড়ি পড়তে পারেন অথবা হলুদ, গোলাপি, কমলা, রঙও বেছে নিতে পারেন। সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে লাল রঙকে। যা কিনা একদিকে যেমন উজ্জ্বল তেমনি ভালোবাসার প্রতিক হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

৪) কথা বলার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ:

প্রতিটি উপবাস, ব্রত পালন একটা সংকল্প বলাই যায়। সেই কারণে যে মহিলা ব্রত পালন করছেন তার উচিত হবে যে, কম কথা বলা। প্রয়োজনীয় কথা ছাড়া অন্য কোন কথা বলা যাবে না, তার সাথে সাথে বড়দের অপমান না করেন।

রাগান্বিত না হন এবং নিজের ব্রত পালনের ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে খেয়াল রেখে সেদিকেই মগ্ন থাকতে হয়।

৫) সারগি খেতেই হবে:

এই উৎসবে শাশুড়ি মায়ের দেওয়া সারগি করবা চৌথ এর জন্য খুবই শুভ বলে মনে করা হয়। ব্রত শুরু হওয়ার আগে শাশুড়ি মা তার পুত্রবধূকে কিছু কাপড়, মিষ্টি এবং মেকআপ সামগ্রী অর্থাৎ সাজ সামগ্রী দিয়ে থাকেন।

সে ক্ষেত্রে এগুলি যেমন সাজার কাজে আপনাকে ব্যবহার করতে হবে তেমনি ঈশ্বরের আরাধনা করে নির্জলা উপবাসের পালন করার আগে এই খাবারগুলোও খেতে হবে। তবে অবশ্যই আপনার পছন্দমতো খাবার খেতে পারেন এই সারগির মধ্যে থেকে।

৬) স্বামীর সাথে ঝগড়া নয়:

ছোটখাটো হলেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একটু আধটু ঝগড়া লেগেই থাকে। তবে সে যাই হোক না কেন, করবা চৌথ এর ব্রত পালন করছেন অথচ সেই সময় স্বামীর সাথে কোন বিষয় নিয়ে সামান্য হলেও ঝগড়া করা যাবে না।

ঝগড়া যদি করেন সেক্ষেত্রে এই ব্রত করার ফলাফল আপনি পাবেন না। যে স্বামীর জন্য আপনি মঙ্গল কামনা করছেন এবং ব্রত পালন করছেন সেই স্বামীকে কোনভাবেই কষ্ট দেওয়া যাবে না এই দিন। প্রয়োজনে নরম সুরে ভালবেসেও বলতে পারেন, তাই তো !

৭) সাদা জিনিস দান না করা:

করবা চৌথ ব্রত পালন করার দিন সাদা রঙের কোন জিনিস কাউকে দান করা যাবে না, সেটা কাপড় হোক অথবা খাবার।

যেমন ধরুন সাদা কাপড়, ভাত, দুধ, চাল, দই, সাদা রংয়ের মিষ্টি, এগুলি কখনোই দান করা যাবে না। দান করা পুণ্য কাজ হলেও এই দিন এই বিষয়গুলি অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে আপনাক।

৮) ধারালো জিনিসের ব্যবহার এবং সেলাই এড়িয়ে চলা:

করবা চৌথ প্রতিটি বিবাহিত মহিলা এবং বিবাহ স্থির হয়ে রয়েছে এমন মেয়েদের জন্য খুবই পবিত্র একটি উৎসব বলাই যায়। এই দিন খুবই আগ্রহের সাথে অনেকেই এই ব্রত পালন করেন।

তবে এই ব্রত পালন করছেন এবং সেই সাথে এই দিন কোনরকম ধারালো জিনিস ব্যবহার করা থেকে আপনাকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে সুঁই এর কাজ অর্থাৎ সেলাই জাতীয় কোন রকমের কাজ না করাটাই বাঞ্ছনীয়। প্রয়োজনে দুদিন আগে সেটা করে রাখতে পারেন।

৯) মন মরা হয়ে না থাকা:

প্রতিটি উৎসব আনন্দের ছোঁয়া লাগিয়ে যায়। তাই করবা চৌথ এমন একটি উৎসব যেখানে বাড়িতে আনন্দ বয়ে আসার পাশাপাশি স্বামীর মঙ্গল কামনা এবং সংসারের মঙ্গল সাধনের জন্য এই উপবাস পালন করে থাকেন বিবাহিত মেয়েরা।

তাই এই দিন আপনাকে কোনভাবেই যেন মন মরা না দেখায়। নিজেকে সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে, হাসি খুশি থাকতে হবে।

যতই আপনি নির্জলা উপবাসে থাকুন না কেন, এই দিন সকলের মন জয় করে থাকলে আপনি এমনিতেই ঈশ্বরের আশীর্বাদ পেয়ে সংসারের মঙ্গল সাধন করতে পারবেন।

করবা চৌথ ব্রততে পুজোর পদ্ধতি:

এবার তাহলে চলুন জানা যাক, করবা চৌথ ব্রততে পুজোর পদ্ধতি সম্পর্কে-

করবা চৌথ ব্রত পালন করার জন্য আপনাকে অন্ধকার থাকতে থাকতে অর্থাৎ ভোর বেলাতে উঠতে হবে। এরপরে সারগি খাওয়ার পর জল পান করে নিন। তারপর ভগবান গণেশের পুজো করে নির্জলা উপবাসের ব্রত নিন।

যদি নির্জলা উপবাস করতে না পারেন, তাহলে সংকল্প করার সময় অবশ্যই সেটা মনে মনে উচ্চারণ করে নেবেন যে, আপনি সাধারণ উপবাস পালন করবেন নাকি নির্জলা উপবাস পালন করবেন। পুজোর জন্য সন্ধ্যায় সমস্ত দেবতাদের একটি মাটির বেদীতে স্থাপন করুন, আর সেখানে করবা সম্পন্ন করুন।

একটি প্লেটে ধুপ, প্রদীপ, চন্দন, রোলি, সিঁদুর, রাখুন তবে অবশ্যই ঘি এর প্রদীপ জ্বালাবেন। চাঁদ ওঠার ১ ঘন্টা আগে পূজো শুরু করতে হবে শিবের। এরপরে চাঁদ দেখার পর স্বামীর মুখ দেখে তার আশীর্বাদ নিয়ে স্বামীর হাত থেকে জল পান করে এই ব্রত ভঙ্গ করুন।

এই একটা দিন উপবাস পালন করে স্বামীর মঙ্গল কামনা করে অনেক মহিলারা নিজেদেরকে ধন্য বলে মনে করেন। এই একটা দিনের জন্য সারা বছর ধরে যেমন অপেক্ষা করে থাকা হয়, তেমনি ঘরবাড়ি সাজানো থেকে নিজেকে সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন সকলেই।

তবে শুধুমাত্র বিবাহিত মহিলারাই নন, অবিবাহিত মেয়েরা অর্থাৎ যাদের বিবাহ স্থির হয়ে রয়েছে, তারা এমনকি স্বামীরাও কিন্তু এই করবা যত ব্রততে বিশেষ ভাবে ভূমিকা পালন করেন। বাড়ির পরিবেশ থেকে চারিদিকের পরিবেশ যেন উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠে। উজ্জ্বল রঙের পোশাকে সকলকে লাগে খুবই সুন্দর।

Leave a Comment