ধনতেরাস পূজা বিধি 2023: ধন্বন্তরী ও কুবেরের পূজা করুন এই পদ্ধতিতে হবে ধন সম্পদ বৃদ্ধি

ধনতেরাস পূজা বিধি (Dhanteras Puja Vidhi in Bengali): এই তিথি এতটাই শুভ যে, এই দিনে যে কোন বস্তু ঘরে কিনে আনা খুবই শুভ বলে মনে করা হয়। তবে সব জিনিস নয়, এমন অনেক শুভ জিনিস রয়েছে যেগুলি কেনার ফলে সংসারে আসে সুখ, শান্তি এবং সমৃদ্ধি। সম্পদ বৃদ্ধি হওয়ার পাশাপাশি বাড়িতে বিরাজ করেন লক্ষ্মী দেবী এবং ধন সম্পদের দেবতা কুবের।

প্রতিবছর কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে ধনতেরাস উৎসব উদযাপন করা হয় সারা দেশ জুড়ে। অর্থ ভাগ্য এবং ধনপ্রাপ্তির আশায় ধনতেরাসে দেবী লক্ষ্মী, সম্পদের দেবতা কুবের এবং ভগবান ধন্বন্তরীর পূজা অর্চনা করা হয়। কাহিনী অনুসারে জানা যায় যে, সমুদ্র মন্থনের সময় এই দিনে দেবী লক্ষ্মী প্রকট হয়েছিলেন, তাই এই দিন দেবী লক্ষ্মীরও পূজা করা হয়।

ধনতেরাস পূজা বিধি: ধন্বন্তরী ও কুবেরের পূজা করুন এই পদ্ধতিতে
ধনতেরাস পূজা বিধি: ধন্বন্তরী ও কুবেরের পূজা করুন এই পদ্ধতিতে

ধনতেরাসের আর এক নাম ধন ত্রয়োদশী অথবা ধনবত্রি ত্রয়োদশী। তবে এটি ধনতেরাস নামে সকলের কাছে বেশি পরিচিত। লোকোমুখে শোনা কথা অনুসারে জানা যায়, ধনতেরাসের দিন দেবী লক্ষ্মী তার ভক্তদের গৃহে যান এবং তাদের সকল মনের ইচ্ছা পূরণ করেন।

ধন সম্পদ এবং সুখ সমৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত এই উৎসবের সাথেই দীপাবলীর উৎসব শুরু হয়ে যায়। এই আলোর উৎসব সকলের ঘরে ঘরে সকল অন্ধকার কাটিয়ে দিয়ে আলোকিত করে তোলে আর সুখ ও শান্তিতে ভরিয়ে তোলে।

ধনতেরাসের গুরুত্ব:

চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক, এই ধনতেরাসের গুরুত্ব সম্পর্কে-

প্রতিটি উৎসব কোন না কোন গুরুত্ব বহন করে। আর সেই কারণে সেই উৎসব গুলি প্রতিটি মানুষের মনে প্রাণে একেবারে গেঁথে রয়েছে। ধনতেরাস অনেকদিন আগে থেকে খুবই শুভ একটি উৎসব যা কিনা সংসারে সুখ শান্তি সমৃদ্ধির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

কাহিনী অনুসারে জানা যায় যে, ক্ষীরসাগরে অমৃত পাওয়ার জন্য দেবতা এবং অসুররা যখন সমুদ্র মন্থন করেছিলেন, তখন ভগবান ধন্বন্তরী অমৃত ভরা একটি কলস নিয়ে প্রকট হয়েছিলেন।সেই দিনটি ছিল কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথি অর্থাৎ এই ধনতেরাসের দিন।

আর সেই থেকে এই তিনটিকে ধনতেরাস হিসেবে সকলেই উদযাপন করেন, আর তাই ধনতেরাসে বাসনপত্র, সোনা, গয়না, রুপা, ইত্যাদি জিনিসপত্র কিনে আনলে ঘরেতে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়। তার সাথে সাথে ধন-সম্পদের অভাব হয় না।

নতুন জিনিস কিনে বাড়িতে নিয়ে আসা শুভ বলে মনে করা হয়। এর ফলে বাড়িতে সৌভাগ্য, সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং ধন-সম্পদ বৃদ্ধি হয়। তবে এদিন শুভক্ষণ দেখে তবেই কেনাকাটা করা উচিত।

জিনিসপত্র কেনার পাশাপাশি সেগুলির যত্ন এবং রাখার বিষয়েও আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে। তাছাড়া এর সাথে সাথে রয়েছে অনেক নিষেধাজ্ঞা, সেগুলিও আপনাকে মেনে চলতে হবে। তবেই আপনি এই ধনতেরাসের শুভফল লাভ করতে পারবেন।

ধনতেরাস পূজা বিধি:

চলুন এবার জানা যাক, ধনতেরাস পূজা বিধি সম্পর্কে-

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে ধনতেরাস একটি শুভ উৎসব। এই দিনটি প্রতিটি বাড়িতে ছোটখাটো হলেও উদযাপন করা হয়। ধনসম্পদের দেবী লক্ষ্মী, ধন্বন্তরি এবং ধন সম্পদের দেবতা কুবেরের পূজা করা হয় এই দিনে।

এই দিন সন্ধ্যার সময় পূজা করলে বিশেষ ফল লাভ করা যায়। বাড়ির পূজায় জায়গায় উত্তর দিকে কুবের এবং ধন্বন্তরীর মূর্তি স্থাপন করে তারপরে পূজা করতে হবে।

মূর্তির সামনে ঘি এর প্রদীপ জ্বালাতে হবে, ধন্বন্তরী কে হলুদ এবং কুবেরকে সাদা মিষ্টি অর্পণ করতে হবে। পূজার সময় কুবেরের মন্ত্র জপ করতে হবে, তারপরে ধন্বন্তরী স্তোত্র পাঠ করুন। অন্যান্য পূজার মতো এই পূজাতেও ফুল, ফল, চাল, চন্দন, ধুপ এবং জ্বলন্ত প্রদীপ ব্যবহার করাটা জরুরী।

তবে অবশ্যই যে প্রদীপ জ্বালাবেন সেটি যেন ঘি এর প্রদীপ হয়। ধনতেরাসের দিন দেবী লক্ষ্মী এবং গণেশের পূজা করা হয়। ধনতেরাস উপলক্ষে যম দেবের নামেও প্রদীপ জ্বালানোর রীতি রয়েছে। আপনি প্রদীপ জ্বালিয়ে নিষ্ঠা ভরে যমরাজকে স্মরণ করুন এবং তাকে প্রণাম করে পূজা সম্পন্ন করুন।

⭐ যম দেবতার আরাধনা:

যেহেতু আমরা আগেই জানলাম যে, ধনতেরাসের দিন দেবী লক্ষ্মী, গণেশ, কুবের এবং ধন্বন্তরীর পাশাপাশি যম দেবতার আরাধনা করা হয়। পূর্ণ ভক্তি সহকারে যম দেবতার আরাধনা করলে চাকরিতে আটকে যাওয়া পদোন্নতি, পিত্রদোষ অথবা গ্রহের দোষ, শনি অথবা রাহু থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

ধনতেরাসের এই দিনে জলের পূজাও করে প্রদীপ দান করতে হয়। যে কোন খাল অথবা নদীর কাছে গিয়ে এই কাজটি করা যেতে পারে। আবার অন্যদিকে সাধারণত ঘর মোছার যে জল ব্যবহার করবেন তাতে নুন দিয়ে পুরো বাড়ি মুছে ফেলতে হবে, এর ফলে ঘর থেকে সমস্ত নেতিবাচক প্রভাব দূর হয়ে যাবে।

বিশ্বাস করা হয় যে, ধনতেরাস আসলে যম দেবের দিন। এই দিন যম দেব কে প্রসন্ন করতে পারলেই পরিবারে সুখ, শান্তি এবং সমৃদ্ধি বজায় থাকে। শুধু কি তাই !  এই দিনে স্বাস্থ্যের দেবতা ভগবান ধন্বন্তরী দেবের পুজোর বিধান রয়েছে। তাই তো পরিবারের সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে এই দিন ধন্বন্তরীর পূজা করা হয়।

⭐ দেবী লক্ষ্মীকে প্রসন্ন করুন:

বিভিন্ন কাহিনী থেকে জানা যায় যে, দেবী লক্ষ্মী বড়ই চঞ্চলা এবং খুবই শান্ত প্রকৃতি। সেই কারণে তিনি কখনোই ঝগড়া-ঝাঁটি পছন্দ করেন না। আর সেই কারণে যে বাড়িতে তিনি বসবাস করবেন, সেই বাড়ির পরিবেশ যেন খুবই শান্ত প্রকৃতির হয়। মা লক্ষ্মীকে প্রসন্ন করার জন্য ঘরের শান্তি ও ইতিবাচকতা বজায় রাখা খুবই জরুরী।

⭐ প্রতিটি পূজায় ভক্তি ভরে পূজা করলে আপনি তার শুভ ফল সম্পূর্ণ রূপে লাভ করতে পারেন। অল্প কিছু নৈবেদ্য হলেও আপনি দেবতা ও দেবীকে প্রসন্ন করতে পারবেন সহজেই। তবে আপনার মনে থাকতে হবে সম্পূর্ণ ভক্তি ও নিষ্ঠা।

পবিত্র হয়ে, পবিত্র বস্ত্র ধারণ করে, এই পূজাতে আপনি নিজের সর্বস্ব দিয়ে পূজা অর্চনা করুন। এর ফলে আপনার সংসারের সমস্ত দুরবস্থা মুছে গিয়ে, আসবে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি, বৃদ্ধি পাবে ধনসম্পদ। সকল মনের ইচ্ছা পূরণ হয়ে আপনার সারা জীবন কোনরকম দুঃখ-কষ্ট থাকবে না বললেই চলে।

Leave a Comment