করবা চৌথ 2023: উৎসবের জন্য ঘর সাজান সুন্দর করে, রইল কিছু টিপস

করবা চৌথ এমন একটি উৎসব যা কিনা সমস্ত দম্পতি দের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং জনপ্রিয় একটি উৎসব। বিশেষ করে নব দম্পতিদের জন্য আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অনেকেই নিজের বাড়িটি সুন্দর করে সাজিয়ে এই করবা চৌথ ব্রত পালন করার জন্য নিজের ঘরকে সুন্দর করে উৎসবের রূপে সাজিয়ে তোলেন। সে ক্ষেত্রে অনেক কিছু ছোটখাটো জিনিস গুলির উপরে খেয়াল রেখে যদি ঘর সাজানো যায়, তাহলে খুবই সুন্দর দেখতে লাগে, তাই না !

করবা চৌথ উৎসবের জন্য ঘর সাজান সুন্দর করে, রইল কিছু টিপস
করবা চৌথ উৎসবের জন্য ঘর সাজান সুন্দর করে, রইল কিছু টিপস

নিজের ঘরে করবা চৌথ ব্রত উদযাপন করার জন্য সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আপনাকে বিশেষ কয়েকটি বিষয়ের উপরে খেয়াল রাখতে হবে। তাহলে খুবই কম কষ্টের মধ্যে সেগুলির সম্পন্ন করতে পারবেন আর উৎসবের দিনে আপনার উপরে খুব একটা চাপ সৃষ্টি হবে না।

তো চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক, এমন কিছু ছোটখাটো টিপস সম্পর্কে, যেগুলি আপনা কে ঘর সাজাতে সহযোগিতা করবে:

#১) ঘর সাজানোর জন্য সেই ঘর আগে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করাটা জরুরী। তাই দু তিন দিন আগে থেকে পরিষ্কার করা শুরু করুন এবং করবা চৌথ ব্রত পালন করার আগের দিন পর্যন্ত যেন তা সম্পূর্ণ রূপে কমপ্লিট হয়ে যায়।

#২) যে সমস্ত জিনিসপত্র দিয়ে ঘর সাজাবেন সেগুলোর একটি লিস্ট অথবা তালিকা তৈরি করুন। আর যদি অনলাইনে অর্ডার দেওয়ার থাকে তাহলে খুব তাড়াতাড়ি সেটি অর্ডার করার ব্যবস্থা করুন, না হলে উৎসবের আগে কখনোই সেগুলি হাতে পাবেন না কিন্তু।

#৩) যদি কোন দোকান থেকে জিনিসপত্র কিনতে যান তাহলে উৎসবের দিন যেন এই কাজগুলি না করেন, দুই তিন দিন আগে থেকেই কাজ গুলি করে রাখাটা জরুরী। তাহলে উপবাস পালন করে উৎসবের দিনে আপনার কোন অসুবিধা হবে না।

#৪) কাজ করার ফাঁকে যদি ক্লান্তি বোধ হয়, তাহলে অবশ্যই বিশ্রাম নিয়ে নেবেন। কেননা কাজের বিরতি রেখে বিশ্রাম না নিলে উপবাসের দিন শরীরের উপরে অনেকখানি প্রভাব পড়তে পারে।

#৫) প্রতিদিন একটু একটু করে সাজসজ্জা গুলি এবং ঘর সাজানোর কাজগুলি অল্প অল্প করে করতে থাকুন। যার ফলে আপনার কাজ অনেকখানি এগিয়ে যাবে, আর কষ্ট ও মনে হবে না।

করবা চৌথ উৎসব পালন করার জন্য ঘরবাড়ি সাজ সজ্জা সহ আরো অন্যান্য সাজ সজ্জা সম্পর্কেও জানা যাক:

১) পুজোর থালা সাজানো:

করবা চৌথ ব্রত পালন করার সাথে সাথে একটি পুজোর থালা সাজানোর জন্য অনেকটাই সময় লেগে যায়। সাধারণত এই থালাতে চালুনি থাকে যা দিয়ে চাঁদ এবং স্বামীর মুখ দেখতে হয়।

পুজোর থালা সাজানো
পুজোর থালা সাজানো

এছাড়াও একটি জ্বলন্ত প্রদীপ, কিছু মিষ্টি, জল, ফুল, চন্দন ইত্যাদি থাকে। তাছাড়া যে থালাতে আপনি এগুলি রাখবেন সেই থালাকে সুন্দর করে কারুকার্য করে সাজিয়ে তুলতে পারেন, যাতে দেখতে অনেকটা সুন্দর লাগে।

২) মাটির প্রদীপ:

মাটির প্রদীপ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য খুবই পবিত্র একটি জিনিস। যা কিনা প্রায় প্রতিটি উৎসবে লেগে থাকে। তাই করবা চৌথ ব্রত পালন করার জন্য আপনাকে রাখতে হবে মাটির সুন্দর কারুকার্য করা প্রদীপ।

মাটির প্রদীপ
মাটির প্রদীপ

ঘি এর প্রদীপ জ্বালালে শুধুমাত্র শুভ ফল পাওয়া যায় তা কিন্তু নয়, স্বাস্থ্যকর পরিবেশও বজায় রাখে, সমস্ত অশুভ প্রভাব কাটিয়ে দেয় ঘর থেকে। তাছাড়া উপবাস পালন করা যেমন শরীরের জন্য উপকারী, তেমনি উৎসবও বাড়ির পরিবেশ সুন্দর করে তোলে।

৩) ফুলের সাজসজ্জা:

প্রতিটি উৎসবে ফুল কতখানি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে তা আর নাই বা নতুন করে বললাম। ফুল দিয়ে ঘর সাজালে তা যেমন উৎসবের আমেজ নিয়ে আসে। তেমনি পূজা পার্বণে ফুলের গন্ধে সারা বাড়ি ম ম করে

ফুলের সাজসজ্জা
ফুলের সাজসজ্জা

বাজার থেকে আপনি তাজা ফুল অথবা ফুলের মালা কিনে এনে সেগুলি ছাদ থেকে ঝুলিয়ে অথবা পর্দার সাথে ঝুলিয়ে, সিঁড়ির রেলিং এ ঝুলিয়ে, সুন্দর করে সাজাতে পারে।

এছাড়াও এখন বর্তমানে আর্টিফিশিয়াল ফুলের রমরমা, যা কিনা দেখতে একেবারে তাজা ফুলের মতই, সেগুলি দিয়েও আপনি সুন্দর করে ঘর সাজাতে পারেন।

আর্টিফিশিয়াল ফুল
আর্টিফিশিয়াল ফুল

আর যদি বেশি টাকা অপচয় করতে না চান, সে ক্ষেত্রে কাগজের ফুল কিনে এনে শুধুমাত্র উৎসবের দিনে সাজাতে পারেন যেগুলি আপনি আবার পুনরায় পরবর্তীতে ব্যবহার করতে পারবেন।

৪) মাটির পাত্রে কারুকার্য:

করবা চৌথ ব্রত তে মাটির ঘটে জল রেখে সেই জল খেয়ে উপবাস ভঙ্গ করতে হয়। তাই প্রতিটি মহিলা সেই ঘটটিকে সুন্দর করে পাথর এবং জরি দিয়ে সাজিয়ে থাকেন।

মাটির পাত্রে কারুকার্য
মাটির পাত্রে কারুকার্য

করবা চৌথ ব্রততে মাটির পাত্র অপরিহার্য এবং এই পাত্রের ভিতরে জল এবং খাদ্য সঞ্চিত থাকলে তা শুভ বলে মনে করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মহিলারা এই পাত্রের ভিতরে জল রাখেন এবং চাঁদকে অর্ঘ্য নিবেদন করে তবে সেই জল খেয়ে এই উপবাস ভেঙ্গে থাকেন।

৫) ডেকোরেটিং লাইট:

ঘরকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার জন্য এখন সুন্দর সুন্দর ডেকোরেটিং লাইট বাজারে পাওয়া যায়। আপনি সেগুলি দিয়ে ঘরটাকে সুন্দর এবং আধুনিক লুক দিতে পারেন।

ডেকোরেটিং লাইট
ডেকোরেটিং লাইট

যেগুলোকে ফেয়ারি লাইট অথবা পরী আলো বলা যেতে পারে। যেগুলি অন্ধকার ঘরের মধ্যে জ্বললে খুবই সুন্দর একটা পরিবেশ সৃষ্টি করে। অনলাইনেও আপনি এগুলি পেয়ে যাবেন।

এছাড়া ইলেকট্রিক লাইট এর দোকানেও এগুলি পেতে পারেন। আপনার বারান্দার রেলিং অথবা ফুলের পাত্রগুলিকে এই সমস্ত আলো দিয়ে সাজাতে পারে। বারান্দা অথবা ব্যালকনিতে এই লাইট দিয়ে সাজিয়ে সেখানে চাঁদ দর্শন করলে আপনার আশেপাশের পরিবেশে উৎসবের অনুভূতি পাবেন।

৬) দরজার মাথায় তোরন:

তোরণ হলো দরজার মাথায় লাগানো ফুল অথবা পাতা দিয়ে তৈরি এক ধরনের সাজ সজ্জার জিনিস। যা কিনা সদর দরজার উপরে লাগালে দরজাটি খুবই সুন্দর দেখতে লাগে, কোন উৎসব, বিয়ে অনুষ্ঠান অথবা পূজা পার্বণে এই তোরণ ব্যবহার করা হয়।

দরজার মাথায় তোরন
দরজার মাথায় তোরন

সে ক্ষেত্রে আপনার ঘর টিকে সুন্দর করে উৎসবের আমেজ দেওয়ার জন্য এই তোরণ যেগুলি তাজা ফুল অথবা আর্টিফিশিয়াল ফুল দিয়ে তৈরি এবং আম পাতা দিয়েও তৈরি করা তোরণ গুলি দিয়ে ঘরের দরজা সাজাতে পারেন।

৭) পিতলের ঘটি:

পিতলের ঘটি হিন্দু ধর্মাবলম্বী দের মধ্যে প্রায় প্রতিটি ঘরেই পাওয়া যায়। যা কিনা কোনো রকম পূজা-পার্বণ, উৎসব, অনুষ্ঠানে খুবই অপরিহার্য একটি পাত্র।

পিতলের ঘটি
পিতলের ঘটি

করবা চৌথ ব্রত আপনি যদি পালন করে থাকেন, সেক্ষেত্রে আপনার পিতলের ঘটি প্রয়োজন পড়বেই। স্বামীরা সাধারণত এই ঘটি থেকে জল খেয়ে থাকেন, আর এই ঘটির তাৎপর্য আক্ষরিক অর্থে খুবই শুভ বলে মনে করা হয়।

৮) কারুকার্য করা এবং সুগন্ধি মোমবাতি:

বিভিন্ন ধরনের মোমবাতি এবং ডিজাইন করা আর সুগন্ধযুক্ত মোমবাতি পছন্দ করেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন। তাই উৎসবের আমেজকে আরো বেশি বাড়িয়ে তোলার জন্য, ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে, আপনি এই ধরনের মোমবাতি ব্যবহার করতে পারেন।

কারুকার্য করা এবং সুগন্ধি মোমবাতি
কারুকার্য করা এবং সুগন্ধি মোমবাতি

অনেকেই উপবাস ভঙ্গ করার পর একান্তে সময় কাটাতে চান। সে ক্ষেত্রে যেখানে সময় কাটাবেন সেই জায়গাটি সুন্দর মোমবাতি দিয়ে সাজাতে পারেন।

আপনার ডিনার টেবিল, ঘরের কোণ, ইত্যাদি জায়গা গুলি যদি এই ধরনের মোমবাতি দিয়ে সাজিয়ে তোলেন তাহলে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি হওয়ার পাশাপাশি মেজাজে আসবে স্ফূর্তি এবং ঘুমের ক্ষেত্রেও অনেকখানি সহায়ক।

সারাদিনের উপবাসের পর আপনি যে ক্লান্তিবোধ করবেন তা এই সুগন্ধযুক্ত মোমবাতির আভায় অনেকখানি কেটে যাবে, আপনি আরাম বোধ করবেন। তাছাড়া যে প্রিয় মানুষটির জন্য এই উপবাস রেখেছেন, সেই মানুষটির সাথে একান্তে সময় কাটানোর জন্য, সময়টিকে রোমান্টিক করে তোলার ক্ষেত্রে, এই মোমবাতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৯) ওয়াল হ্যাংগিং:

খালি দেওয়াল কখনোই ভালো লাগে না, যদি সেখানে একটি সুন্দর ওয়াল হ্যাংগিং লাগানো যায় তাহলে সেই দেয়ালের সৌন্দর্য অনেকখানি বৃদ্ধি পায়।

ওয়াল হ্যাংগিং
ওয়াল হ্যাংগিং

আপনার রুচি মতো দেয়ালের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য এই করবা চৌথ উৎসব উপলক্ষে ঘরকে সাজানোর ক্ষেত্রে ওয়াল হ্যাংগিং ব্যবহার করতে পারেন।

বিভিন্ন ধরনের ওয়াল হ্যাঙ্গিং আপনি পেয়ে যাবেন। যেমন ধরুন উল দিয়ে তৈরি, ফুল দিয়ে তৈরি অথবা আরো অন্যান্য সেপের পেয়ে যাবেন।

১০) রঙ্গোলি অথবা আলপনা:

উৎসব মানেই চারিদিকে সুন্দর পরিবেশ এবং সুন্দর করে সাজানো, তাই বাড়ি টিকে উৎসব এর রূপে সাজানোর জন্য আলপনা অথবা আবিরের রঙ্গোলি দিতে পারেন।

রঙ্গোলি অথবা আলপনা
রঙ্গোলি অথবা আলপনা

সুন্দর ডিজাইনের রঙ্গোলি আপনার ঘরের সম্পূর্ণ লুকটাই চেঞ্জ করে দেবে। রঙ্গোলি সাধারণত উৎসব বাড়ির সাজসজ্জার একটি অপরিহার্য অংশ।

আপনি আপনার পুজোর ঘরে একটি রঙিন রঙ্গোলি তৈরি করতে পারেন এবং আপনার করবা চৌথ ব্রত উপলক্ষে বাড়ির সাজ সজ্জার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এখানে একটা কথা বলে রাখা জরুরী যে, যদি আপনি বিভিন্ন রঙের আবির দিয়ে রঙ্গোলি দেন, তাহলে ময়ূর যুক্ত রঙ্গলি দিতে পারেন। এছাড়া নারকেল এবং স্বস্তিক চিহ্ন সহ একটি কলস ও আঁকতে পারেন রঙ্গলির মধ্যে দিয়ে।

১১) কুশনের ব্যবহার:

ঘরের মধ্যে সোফা হোক অথবা বিছানা, সব জায়গাতে কুশন দিয়ে সাজালে তা অনেকখানি দৃষ্টিনন্দন হয়ে যায়। তাই উৎসবের দিনগুলিতে ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে কুশন এর ব্যবহার করতে ভুলবেন না কিন্তু।

সুন্দর কুশন
সুন্দর কুশন

তবে যে কুশন ব্যবহার করবেন তার কভারগুলো যেন খুবই সুন্দর এবং চকচকে হয়। পরিপাটি করে সাজানো ঘর যেমন দেখতে ভালো লাগে, তেমনি উৎসবের ক্ষেত্রে অনেকখানি শুভ বলে মনে করা হয়।

করবা চৌথ উপলক্ষে নিজের ঘরকে সুন্দর করে সাজানোর জন্য এই বিষয় গুলি যদি মেনে চলেন, তাহলে ঘরকে আরো বেশি সুন্দর করে তুলতে পারবেন অল্প সময়ের মধ্যে।

সারাদিন উপবাস করার পর ক্লান্তিবোধ কেটে যাওয়ার সাথে সাথে বাড়ির অন্যান্য সদস্যের জন্য এই সাজসজ্জা অনেকখানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

আর আপনি হয়ে উঠবেন সকলের কাছে অদ্বিতীয়া। শুভ করবা চৌথ, সকলের জন্য রইল প্রীতি, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন আর অনেকখানি শুভকামনা।

Leave a Comment