সাইবার বুলিং হলে কি করবেন? আইনি পদক্ষেপ ও নিয়ম এবং শাস্তি

Cyberbullying Laws in Bengali: সাইবার বুলিং কি? কেউ সাইবার বুলিং করলে কি করবেন? সাইবার বুলিং এর শাস্তি কি? | কেউ যদি কোন ভাবে সাইবার বুলিং করে থাকে তাহলে এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ ও নিয়ম জেনে নিন

বেশ কয়েকদিন আগে থেকে সাইবার বুলিং এর মাধ্যমে মানুষকে অযথা হয়রানি তে ফেলা হয়ে থাকে। যার ফলে সেই ব্যক্তি আত্মহত্যা করার মত পথ বেছে নিতে বাধ্য হন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই সাইবার বুলিং এর জন্য সাধারণ মানুষকে বেশ কিছু হয়রানির মধ্যে পড়তে হয়। যা কিনা কখনই সেই মানুষটি কল্পনাও করতে পারেননি।

যখন কোন ব্যক্তি জেনে-বুঝে এবং বারবার কোন অন্য ব্যক্তিকে বিরক্ত করে থাকেন, হুমকি দিয়ে থাকেন, অপমানিত করে থাকেন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষতি করার লক্ষ্য নিয়ে, বলতে গেলে সেই ব্যক্তিকে ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে তাকে সাইবার বুলিং বলা হয়। সাইবার বুলিং ইলেকট্রনিক পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে করা হয়।

সাইবার বুলিং হলে কি করবেন? আইনি পদক্ষেপ ও নিয়ম এবং শাস্তি
সাইবার বুলিং হলে কি করবেন? আইনি পদক্ষেপ ও নিয়ম এবং শাস্তি

ইলেকট্রনিক ডিভাইস আর উপকরণ, যেমন ধরুন সেলফোন, কম্পিউটার, ট্যাবলেটের সাথে সাথে আরও উপকরণ ও শামিল রয়েছে। যার মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া, ট্যাক্স, এস এম এস আর ওয়েবসাইট শামিল আছে।

সাইবার বুলিং এর উদাহরণ এর মধ্যে এস এম এস অথবা ই-মেইল, ইমেইল দ্বারা পাঠানো হয়ে থাকে। যেখানে কোন মিথ্যে রটনা অথবা সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট এর উপর পোস্ট করা বিভিন্ন রকমের নিষিদ্ধ ছবি, ভিডিও, ওয়েবসাইট অথবা নকল প্রোফাইল শামিল রয়েছে।

সাইবার বুলিং এর উপর প্রতিক্রিয়া কিভাবে করবেন?

রেকর্ড: আপনার হার্ডকপি তে প্রাপ্ত হওয়া ও হুমকি জাতীয় কোন এস এম এস বা বার্তা রেকর্ড করতে পারেন। যদি আপনি কোন বয়স্ক ব্যক্তিকে এই বার্তা দেখাতে পারেন, সেক্ষেত্রে বুঝতে পারবেন যে বিষয়টির সত্যতা কতটা রয়েছে এবং এ বিষয়ে কে এমন করতে পারে, সেটাও আন্দাজ করতে পারবেন।

রিচ আউট: আপনার বাবা-মা এবং আপনার পছন্দের শিক্ষক / শিক্ষিকা, স্কুল প্রশাসক, কাউন্সিলর, আর এমনকি পুলিশ আধিকারিক আপনার এই সাইবার বুলিং থেকে নিষ্পত্তি পাওয়ার জন্য অনেকটা সাহায্য করতে পারবেন।

বন্ধু বান্ধব এবং কাউন্সিলরের সাথে এ বিষয়ে কথা বলা অনেকটাই উপযোগী হবে আপনার জন্য। যাতে সকলের সাথে আপনি এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে একা একা আর এই হয়রানিতে পড়তে হবে না।

ধমকানো বা হুমকি এড়িয়ে চলুন: যদি সম্ভব হয় থাকে তাহলে হুমকির সাথে সাথে সমস্ত রকমের সঞ্চার বন্ধ করে দিন। আপনি সেই ব্যক্তির ফোন নাম্বার ব্লক করতে পারেন। যাতে আপনি সেই ব্যক্তির কল অথবা আরো অন্যান্য এস এম এস, প্রাপ্ত করতে না পারেন।

এর সাথে সাথে ফেসবুক, মেসেঞ্জার সবকিছু ব্লক করার অনুমতি দিয়ে থাকে যে, যার মধ্যে দিয়ে আপনি সেই ব্যক্তির সাথে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে পারবেন, আর এই সমস্ত অপরাধ থেকে অনেকটা দূরে থাকতে পারবেন।

রিপোর্ট: যদি আপনাকে কোন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে হয়রানি তে ফেলা হয়ে থাকে বা বিরক্ত করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই ব্যাক্তি কিন্তু ওয়েবসাইটের ব্যবহারের শর্তের বিরুদ্ধে যাচ্ছেন। ওয়েবসাইট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর বুলিংয়ের নোটিশ দেওয়ার মধ্যে দিয়ে সেই ওয়েবসাইট বন্ধ করা যেতে পারে। ফেসবুক আর ইউটিউব এর মতো সাইট সাইবার বুলিং গতিবিধির জন্য সবথেকে বেশি জনপ্রিয় সাইট।

আপনি সাইবার বুলিং ঘটনাকে সাইটের সুরক্ষা কেন্দ্রের কাছে রিপোর্ট করতে পারেন। এছাড়া আপনার কাছাকাছি পুলিশ স্টেশনে রিপোর্ট করতে পারেন। আইন সম্বন্ধিত সমস্ত রকমের শর্ত অনুসারে এফ আই আর দায়ের করতে পারেন।

সাইবার বদমাশি অথবা সাইবার বুলিং এর বিরুদ্ধে আইনি বিকল্প কি?

আই পি সি (IPC) ধারা 507- একটি অ-নাম সঞ্চার দ্বারা অপরাধমূলক হুমকি: 

যে কোন ব্যক্তি তার পরিচয় এবং নাম গোপন করে এই রকমের অপরাধমূলক হুমকি, অপরাধ করতে পারেন, যে ব্যক্তি থেকে বিপদ আসতে পারে, সেই ব্যক্তির নাম এবং ঠিকানা লোকানো হয়ে থাকে। এই অপরাধের জন্য জেলও হতে পারে। যেটা দু বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।

আইপিসি (IPC) ধারা 499- মানহানি: 

যে কোন ব্যক্তি কোন শব্দ বলার মাধ্যমে অথবা পড়ার জন্য বা সংকেত এর দ্বারা কোন দৃশ্য প্রতিনিধিত্ব করার মধ্যে দিয়ে কোন ব্যক্তির ক্ষতি সাধন করতে পারেন।

যে ব্যাক্তির দ্বারা অন্য কোনো ব্যাক্তির যদি ক্ষতি হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি অথবা ক্ষতি করা ব্যক্তি কে বলা হয়ে থাকে কোন ব্যক্তিকে বদনাম করার জন্য। এক্ষেত্রে আই পি সি ধারা 499 মানহানি মামলাতে হানি করা সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যেতে পারে।

আই পি সি (IPC) ধারা 509- একজন মহিলার বিনম্রতার অপমান করা: 

সে যেই হোক না কেন, যদি কোন মহিলার বিনম্রতার অপমান করে থাকেন বা করার পরিকল্পনা করেন, সে ক্ষেত্রে যদি কোন শব্দ ব্যবহার করে থাকেন, কোন শব্দ / ধ্বনি অথবা ইশারা হতে পারে, বা কোন বস্তু প্রদর্শন করা হতে পারে, সে ক্ষেত্রে সেই শব্দ অথবা ধ্বনি কে শোনা হবে, বা কোন ইশারা করা বা কোন বস্তু দেখানোর বিষয়ে সেই জিনিস গুলো কে দেখা হবে।

এমন অপরাধের বিরুদ্ধে এক বছরের জন্য সাধারণ কারাবাস অথবা জেল এর সাথে সাথে শাস্তি প্রদান করা হবে, এর সাথে সাথে জরিমানা হতে পারে সমানভাবে।

আই পি সি (IPC) ধারা 354 A আর 354 D- এক্ষেত্রে যৌন হয়রানি, অচল অবস্থার সাথে রফাদফা করা, যার মধ্যে ইলেকট্রনিক মোড এর মাধ্যমে অত্যাচার করার মতো বিষয়ও শামিল রয়েছে

সূচনা প্রযুক্তি অধিনিয়ম ধারা 66 E: 

যদি কেউ জেনে বুঝে অথবা সবকিছু জেনে শুনে কোন ব্যক্তিকে নিজের ক্ষেত্রে ছবিকে প্রকাশিত অথবা প্রসারিত করে থাকেন, আর নিজের সম্মতি ছাড়া যে কোন ব্যক্তিকে নিজের কাজ করার জন্য জোর করা হয়েছে, সে ক্ষেত্রে কারাবাস এর শাস্তিতে দণ্ডিত করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে তিন বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে, এর সাথে সাথে জরিমানা স্বরূপ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হতে পারে।

সাইবার বুলিং এর ক্ষেত্রে অনেকেই এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, যার ফলে সেই সাইবার বুলিং করা ব্যক্তি কখনোই আর এমন অপরাধ করার কথা স্বপ্নেও ভাববেন না। হাজতবাস তো রয়েছেই, তার সাথে সাথে রয়েছে বেশ ভালো অ্যামাউন্টের জরিমানা।

তাহলে এমন অপরাধ থেকে বিরত থাকা শ্রেয় বলেই মনে করা হয়। কেননা আইন অনুসারে কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তিকে সাইবার বুলিং এর মধ্যে দিয়ে হয়রানি পরিস্থিতিতে ফেলতে পারবেন না। আইন এর বিরুদ্ধে খুবই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

তবে হ্যাঁ, এই বিষয়ে উকিলের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা বাড়ির বড়দের সাথে পরামর্শ করতে পারেন। শিক্ষক / শিক্ষিকা বন্ধু বান্ধবের সাথে পরামর্শ নিয়ে এমন অপরাধের বিরুদ্ধে আপনি অনায়াসেই অ্যাকশন নিতে পারেন।

Leave a Comment