উপভোক্তা আদালতে অভিযোগ দায়ের করার পদ্ধতি ও আইনি নিয়ম

Consumer Court Complaint in Bengali: গ্রাহকেরা উপভোক্তা আদালতে কিভাবে মামলা করতে পারবেন? | উপভোক্তা আদালতে অভিযোগ করতে গেলে কি করতে হবে? এর জন্য কি কি প্রয়োজন? মামলা দায়ের করার আগে কি কি প্রমাণ দরকার হতে পারে।

উপভোক্তা অথবা গ্রাহক কোন প্রডাক্ট অথবা জিনিস পত্রের জন্য যদি অসন্তুষ্ট থেকে থাকেন তাহলে অনায়াসেই আদালতে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। আর এই অধিকার গ্রাহকদের অথবা উপভোক্তা দের আইন দিয়ে রেখেছে।

বিভিন্ন রকমের প্রোডাক্ট আজ বাজারে এভেলেবেল আছে। তবে যদি সেই সমস্ত প্রোডাক্ট এর বিপরীতে কোন গ্রাহক অভিযোগ দায়ের করেন এবং সেই ব্যক্তি জিনিস পত্র নিয়ে অসন্তুষ্ট থাকেন, তাহলে কিন্তু আইন খুবই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

তবে অভিযোগ দায়ের করার আগে আপনার প্রথম পদক্ষেপ হবে সেই উৎপাদিত দ্রব্যের বিপরীত সেবা অথবা উৎপাদিত দ্রব্য বলতে গেলে অবৈধ ব্যবসা সম্বন্ধিত বিভিন্ন রকমের তথ্য প্রমাণ স্বরূপ দেওয়া সাথে সাথে বিপরীত পার্টিকে নোটিশ পাঠানো যেতে পারে। তারপরেই কিন্তু আদালতে আপিল করতে পারবেন।

উপভোক্তা আদালতে অভিযোগ দায়ের করার পদ্ধতি ও আইনি নিয়ম
উপভোক্তা আদালতে অভিযোগ দায়ের করার পদ্ধতি ও আইনি নিয়ম

একটি আইনি নোটিস বিপরীত পক্ষ কে কমোডিটি কে পরিবর্তিত করার জন্য অথবা কিনে নিয়ে তার মূল্য ফেরত দেওয়ার থেকে যদি কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে তার ভর পাই করার একটি সুযোগ দেওয়া হয়।

আর যদি বিপরীত পক্ষ নোটিশ দেওয়া থেকে বিরত থাকেন, তাহলে উপভোক্তা কে সম্বন্ধিত উপভোক্তা বিচারালয় এর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে।

তো এবার তাহলে জানা যাক, উপভোক্তা আদালতে অথবা বিচারালয় এ অভিযোগ দায়ের করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে: 

প্রথম পদক্ষেপঃ

উপভোক্তা কে সেই ফোরাম এর অধিকার ক্ষেত্রের পরিচয় করানো অবশ্যই প্রয়োজনীয়তা পড়বে। যেখানে অভিযোগ দায়ের করা হবে, তাছাড়া উপভোক্তা কে বিচারালয়ের ক্ষেত্র আর্থিক ক্ষেত্র অধিকার দুটি বিষয়কে খুব ভালভাবে খেয়াল রাখতে হবে।

জেলা ফোরাম অথবা রাজ্য আয়োগ অথবা রাষ্ট্রীয় আয়োগ এর একটি অভিযোগ এর অধিকার ক্ষেত্রের স্থানীয় সীমা অনুসারে দায়ের করতে হবে।

বিপরীত পক্ষ হয়তো কোন ঘরোয়া ব্যক্তি হতে পারেন অথবা কোনো ব্যবসায়ী হতে পারেন। এছাড়া তাঁর কাছে কোন শাখা কার্যালয় থাকতে পারে অথবা ব্যক্তিগত রূপে লাভের জন্য কাজ করে থাকেন সেই ব্যক্তি।

যদি একের অধিক বিপরীত পার্টি থেকে থাকে এমন পরিস্থিতিতে সেখানে হয়তো একের অধিক ঘরোয়া ব্যক্তি থাকতে পারেন অথবা ব্যবসায় কাজ করতে পারেন তার সাথে একাধিক শাখা কার্যালয় থাকতে পারে।

তার সাথে সাথে ব্যক্তিগত রূপে লাভ এর জন্য কাজ করতে পারেন। অভিযোগ দায়ের করার জন্য সমস্ত রকম কারণ উৎপন্ন হতে পারে।

উপভোক্তা মঞ্চের বিশেষ অধিকার এর ক্ষেত্র:

জেলা ফোরাম : ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত।

রাজ্য আয়োগ : ২০ লাখ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত।

রাষ্ট্রীয় আয়োগ : এক কোটি টাকার বেশি।

দ্বিতীয় পদক্ষেপঃ

জেলা ফোরাম রাজ্য রাষ্ট্রীয় আয়গে আপনার অভিযোগ অনুসারে অভিযোগের সাথে সাথে তার ফিস ও ভরতে হবে।

তৃতীয় পদক্ষেপঃ 

সমস্ত রকম তথ্য বলার সাথে সাথে অভিযোগের ড্রাফ্ট তৈরি করতে হবে। আর অভিযোগ পত্রে স্বাক্ষর করতে হবে অথবা সিগনেচার করতে হবে।

যদি কোন অন্য ব্যক্তিকে অভিযোগ দায়ের করার জন্য বলা হয়ে থাকে, তাহলে অভিযোগকে প্রাধিকরণ পত্রের সাথে দায়ের করা অবশ্যই হতে হবে।

আপনার অভিযোগ কর্তার নাম, বিবরণ আর ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে। তার সাথে সাথে বিপরীত পক্ষ অথবা পার্টি দের নাম, বিবরণ, ঠিকানা, যাদের বিরুদ্ধে স্বস্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া যেতে পারে।

চতুর্থ পদক্ষেপঃ 

কিনে নেওয়া জিনিসপত্রের বিল এর কপি, ওয়ারেন্টি এবং গ্যারান্টি এর কাগজ পত্রর সাথে আপনার অভিযোগ এর সমর্থন করার জন্য সমস্ত রকম কাগজপত্র কে একত্রিত করে আর সেই বিপরীত পার্টির তার উৎপাদিত দ্রব্য ঠিক করার অনুরোধ করার জন্য একটি লিখিত অভিযোগ আর নোটিশ পত্র ও এই কাগজপত্রের সাথে যুক্ত করতে হবে।

পঞ্চম পদক্ষেপঃ 

আপনার ক্ষতিপূরণের অ্যামাউন্ট উল্লেখ করুন। ক্ষতিপূরণ, এছাড়াও একজন উপভোক্তা রিফান্ড, ক্ষতপূরণ মামলা চালানোর খরচ আর সুদ সমেত একটি অ্যামাউন্ট এর জন্য বলতে পারেন। তাছাড়া আলাদা আলাদা রকমের অ্যামাউন্ট এর জন্য আপনাকে কিছু সময় দিতে হবে।

ষষ্ঠম পদক্ষেপঃ 

অভিযোগকে স্পষ্ট ভাষায় পরিষ্কার ভাবে দায়ের করতে হবে অথবা বলতে হবে। যাতে ভালোভাবে বোঝা যায় যে, বিপরীত পার্টির বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে এবং এর সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে।

সপ্তম পদক্ষেপঃ 

অধিনিয়ম এ সমস্ত কারণে তারিখ থেকে দুই বছর পর্যন্ত সময় প্রদান করে থাকে। যদি অভিযোগ দায়ের করতে দেরি হয়ে থাকে, তাহলে দয়া করে সেই দেরি হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে যাকে ট্রিবুনাল দ্বারা স্বীকার করা যেতে পারে।

অষ্টম পদক্ষেপঃ 

এছাড়া অভিযোগের সাথে সাথে একটি হলফনামা দায়ের করতে হবে, যেখানে বলা থাকবে যে, অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা অথবা বলা সমস্ত রকম তথ্য, সত্য।

নবম পদক্ষেপঃ 

অভিযোগ কর্তা কোন অধিবক্তা কে বিরক্ত না করে ব্যক্তি অথবা তার অধিকৃত প্রতিনিধি দ্বারা অভিযোগ প্রস্তুত করতে পারেন। অভিযোগ কে রেজিস্টার্ড ডাক থেকে পাঠানো যেতে পারে। এছাড়াও আপনাকে প্রত্যেক বিপরীত পার্টির জন্য অতিরিক্ত তারিখ যুক্ত করতে হবে।

তো এইভাবে খুবই সহজ পদ্ধতি তে আইন অনুসারে কোন উৎপাদিত দ্রব্যের জন্য যদি আপনি সন্তুষ্ট না থাকেন, তাহলে সেই দ্রব্যের উৎপাদন কর্তা অথবা মালিকের বিরুদ্ধে আপনি অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। তার সাথে সাথে ক্ষতিপূরণ এবং বেশ কিছু টাকা চাইতে পারবেন আইন অনুসারে।

উপভোক্তা অথবা গ্রাহকদের জন্য আইন এই অধিকার রেখেছে যে, যে কোন দ্রব্যের জন্য যদি কোন ব্যক্তি সন্তুষ্ট না থাকেন, তাহলে কিন্তু নিয়ম অনুসারে অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন এবং তার সাথে সাথে উপযুক্ত সমস্যার সমাধান পেতে পারেন।

Leave a Comment