দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস জীবনী 2022 – ইতিহাস, পরিবার এবং বিপ্লবী কার্যক্রম

দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস কোথায় জন্মগ্রহণ করেন? দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস কিভাবে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন? ওনার বাবা-মা কে? ওনার জীবন কেমন ছিল? এছাড়াও দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের সম্পর্কে জানা-অজানা তথ্য জানুন (Biography of Deshbandhu Chittaranjan Das in Bengali)।

চিত্তরঞ্জন দাস, যিনি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস (Deshbandhu Chittaranjan Das) নামেও পরিচিত। দেশবাসীর শ্রদ্ধা, ভালবাসা, চিত্তরঞ্জন দাস কে দেশবন্ধু আখ্যায় ভূষিত করেছিল। এছাড়া চিত্তরঞ্জন দাস ছিলেন দেশবাসীর খুবই কাছের এবং প্রাণের মানুষ।

দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস জীবন পরিচয় - Chittaranjan Das Biography in Bengali
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস জীবন পরিচয় – Chittaranjan Das Biography in Bengali

দেশবাসীদের দুঃখ দুর্দশা কে তিনি খুবই মন দিয়ে নিজের বলেই উপলব্ধি করতেন এবং আপ্রাণ চেষ্টা করতেন সেই দুঃখ দুর্দশা প্রতিকার করার জন্য। নিজের সর্বস্বই সর্বদা বিলিয়ে দিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন তিনি।

বিদেশি শাসক ইংরেজের প্রধানত জাতির অন্তরে জেগে উঠতে শুরু করেছে জাতীয় চেতনা, স্বাধীনতার মূল্যবোধ, এমন পরিস্থিতিতে পরিবেশগত সমস্ত প্রভাব নিয়েই চিত্তরঞ্জন দাস জন্মগ্রহণ করেছিলেন। রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, স্বাধীনতা সংগ্রামী, লেখক ও কবি চিত্তরঞ্জন দাস এর জীবন সম্পর্কে অনেকেই হয়তো জানেন না। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক, এই দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের জীবন সম্পর্কে:

কে ছিলেন এই চিত্তরঞ্জন দাস?

তিনি ছিলেন একজন বাঙালি আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, কবি, লেখক এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী। চিত্তরঞ্জন দাস স্বরাজ্য পার্টির প্রতিষ্ঠাতা। একসময়ের অন্যতম বৃহৎ অংকের আয় করা উকিল হওয়া সত্ত্বেও চিত্তরঞ্জন দাস তার সম্পদের বেশিরভাগটাই বিলিয়ে দিয়েছেন অসহায় মানুষদের মধ্যে।

  • সম্পূর্ণ নাম: চিত্তরঞ্জন দাস
  • জন্মস্থান: দার্জিলিং, ব্রিটিশ, ভারত,
  • জন্ম তারিখ: ৫ ই নভেম্বর ১৮৭০
  • পিতার নাম: ভুবনমোহন দাস
  • মাতার নাম: নিস্তারিণী দেবী
  • জাতীয়তা: ব্রিটিশ ভারতীয়
  • শিক্ষা: বি এ (B.A)
  • পেশা: আইনজীবী, রাজনীতিবিদ
  •  উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: মালঞ্চ, অন্তর্যামী, সাগর সঙ্গীত, ডালিম,
  • পরিচিতির কারণ: ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রধান ব্যক্তিত্ব,
  • উপাধি: দেশবন্ধু
  • স্ত্রীর নাম: বাসন্তী দেবী
  • রাজনৈতিক দল: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস
  • মাতৃশিক্ষায়তন: প্রেসিডেন্সি কলেজ
  • মৃত্যুর তারিখ: ১৬ই জুন ১৯২৫

চিত্তরঞ্জন দাশের জন্ম: 

চিত্তরঞ্জন জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে ৫ ই নভেম্বর, কলকাতার পূর্ব বাংলার বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা জেলায় বিক্রমপুরের তেলিরবাগেতার পৈত্রিক বাড়িতে।

চিত্তরঞ্জন দাশের পরিবার: 

চিত্তরঞ্জন দাস এর বাবা ছিলেন ভুবন মোহন দাস, তিনি কলকাতার হাইকোর্টের এটনি ছিলেন। খুবই ধনী পরিবার হওয়া সত্ত্বেও তিনি সহজ সরল জীবন যাপন করতেন। তখনকার দিনে এমন মনের পরিচয় খুবই কম পাওয়া যেত। তিনি শুধুমাত্র আইন বিষয়েই জ্ঞান অর্জন করেন নি, তিনি ছিলেন সংগীতজ্ঞ, গান গাইতে তিনি ভালবাসতেন এবং সকলকে গান শুনিয়ে মুগ্ধ করতেন। পিতার এই সমস্ত গুণ চিত্তরঞ্জন কে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছিল।

চিত্তরঞ্জন দাশের মায়ের নাম নিস্তারিণী দেবী। নামের মতোই তিনিও ছিলেন সত্যিই একজন সার্থক মানুষ। অনেক মানুষকে তিনি অনেকভাবে সাহায্য করতেন। কোনদিন তার কাছ থেকে কোন মানুষ খালি হাতে ফিরে যান নি। তাছাড়া সংসারের প্রতিটি কাজে তার নিপুনতা চোখের পড়ার মতো। তিনি ছিলেন একজন দক্ষ গৃহবধূ

চিত্তরঞ্জন দাসের শৈশবকাল: 

চিত্তরঞ্জনের বাড়ির পরিবেশ ছিল খুবই সুখ ও শান্তির জায়গা, তবুও তিনি জনসাধারণের জন্য কেঁদে উঠতেন। মনে হতো কেমন করে তিনি এই সমস্ত দুঃখ ঘোঁচাবেন, যারা খুবই অসহায়, আর সেই কারণেই তিনি মাঝে মাঝে বলতেন

“আমি সর্বাঙ্গে লৌহ শৃঙ্খলের ঝনঝন শুনছি আমার সর্বাঙ্গে আমি বেদনা অনুভব করছি, পরাধীনতার শৃংখল আমাদের ভাঙতেই হবে, এতে আমার যদি মৃত্যু ঘটে তাতেই বা ক্ষতি কি ?” 

চিত্তরঞ্জন দাস

এছাড়া আমরা সকলেই জানি যে, তিনি তার নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে গেছেন দেশের কাজে। একদিকে তার নিজের কাজকর্ম অন্যদিকে দেশ সেবা, আইনজীবী হিসেবেও তিনি সুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন। প্রচুর পরিমাণে আয় করেছিলেন এবং প্রতিপত্তিও ছিল, যেন লক্ষ্মীর ধন-সম্পত্তি তাকে ঢেলে দেওয়া হয়েছে। চিত্তরঞ্জন দাস তখনকার দিনে প্রতি মাসে প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা উপার্জন করতেন।

সেই আইন ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে সর্বহারার দলে চিত্তরঞ্জন দাস নিজের নাম লিখিয়েছিলেন। নিজের যা কিছু সঞ্চয় ছিল সব কিছু মানুষের কল্যাণের কাজে দান করে দিলেন। সত্যি এমন উদার মনের মানুষ খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন। আর তখন থেকেই তার নাম হলো দেশের বন্ধু, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন।

দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের শিক্ষা জীবন: 

লেখাপড়া শুরু হয়েছিল লন্ডন মিশনারী বিদ্যালয় থেকে। ছেলেমানুষ হলেও তার মধ্যে ছিল একটি দৃঢ়তা এবং তেজস্বীতা। তাই অন্যায়ের কোনরকম প্রতিবাদ না করে তিনি থাকতে পারতেন না। একবার এক গর্বিত লোকের কথার প্রতিবাদে তিনি বলে ওঠেন, “কি বললেন ? ছোটলোক ! কারোর গায়ে লেখা থাকে না, মানুষই হয় গরিব মানুষই হয় ধনী।” মানুষের প্রতি এই দরদ তার আচার ব্যবহারে প্রকাশ পেত।

ইংরেজি ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি প্রবেশিকা পরীক্ষায় সফল হয়েছিলেন তারপর প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হয়ে বি এ পাস করেন। তাকে আই সি এস (ICS) করার জন্য বিলাতে পাঠিয়ে দেন তাঁর বাবা। সেই অজানা দেশে চিত্তরঞ্জন দাশ ক্রমশ পরিচিতি লাভ করতে থাকেন।

প্রবাসী ভারতীয় ছাত্র আন্দোলনে যোগদান করেন, বিদেশে নানা কাজে চিত্তরঞ্জন দাস লিপ্ত হয়ে পড়েন, ফলে আই সি এস পরীক্ষায় তিনি সফল হতে পারেন নি। কিন্তু তাতে কি হয়েছে? পরে তিনি হাই কোর্ট এ যোগ দেন অর্থাৎ তিনি সেখান থেকে ব্যারিস্টার হয়ে দেশে ফেরেন, তারপরে ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে বাসন্তী দেবীকে বিবাহ করেন।

আলিপুর বোমার মামলা: 

তিনি যে দেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন সেটা আর নতুন করে বলার কিছু নেই। ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে আলিপুর বোমার মামলা শুরু হল। এই মামলার আসামি ছিলেন শ্রী অরবিন্দ, তাকে রক্ষা না করলে দেশের অনেক বড় সর্বনাশ হয়ে যাবে।

চিত্তরঞ্জন এর আইনজ্ঞান প্রতিভা ও বাকশক্তির বলে অরবিন্দ সব অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়ে গেলেন। সারা বাংলাদেশ চিত্তরঞ্জন এর সেই প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে পড়ল। চিত্তরঞ্জন দাস ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা একজন কঠোর ব্যাক্তি।

চিত্তরঞ্জন দাসের জাতীয় কংগ্রেসের সম্মেলন: 

জানা যায় যে ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে ৪ ঠা সেপ্টেম্বর কংগ্রেসের সম্মেলন চিত্তরঞ্জনের জীবনে সেটি ছিল একটি স্মরণীয় দিন। ঘর ছাড়া দেবতার ডাকে চিত্তরঞ্জন দাস এগিয়ে চললেন নাগপুরের এই অধিবেশনে, তার সঙ্গে মহাত্মা গান্ধীর দেখা হলো এই পরিচয় তার জীবনে একটি পরিবর্তন আনল।

যখন চিত্তরঞ্জন দাস কলকাতার বাড়িতে ফিরলেন তখন তার মনে অন্যরকম দেশভক্তি প্রকাশ পেল। অর্থ যশ, ক্ষমতা সবকিছু যেন তার কাছে মূল্যহীন বলে মনে হতে লাগলো। তিনি দেশ সেবায় সমস্ত কিছু উৎসর্গ করতে লাগলেন।

চিত্তরঞ্জন দাশের কাব্য: 

প্রথমে ব্যারিস্টার হিসেবে খুবই সুনাম হয়েছিল চিত্তরঞ্জন দাসের। তখন তিনি কাব্য রচনা করতেন। তার লেখা “অন্তর্যামী,” “মালা” “সাগর সংগীত” প্রভৃতি কাব্য জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তার লেখা এই সমস্ত কাব্যগুলি জনসাধারণের মধ্যে খুবই ভালো প্রভাব ফেলে।

অরবিন্দের মত কবি ও তার কাব্য পাঠ করে তৃপ্তি পেতেন। তিনি নিজেকে জনগণের সেবায় এবং দেশের কাজে উৎসর্গ করতে লাগলেন। ধনী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি, তাই সমস্ত রকম ভোগ-বিলাস ত্যাগ করে তিনি দেশের সেবায় নিযুক্ত হলেন।

সুভাষ চন্দ্রের চিত্তরঞ্জন দাসের শিষ্যত্ব গ্রহণ: 

সুভাষচন্দ্র বসু তিনি যখন বিলেত থেকে আইসিএস পরীক্ষায় যোগ না দিয়ে দেশ সেবার ব্রতকে জীবনের লক্ষ্য বলে মনে করে দেশে ফিরে এসেছেন, তখন চিত্তরঞ্জনের স্বদেশ ভাবনায় তিনি মুগ্ধ হয়ে যান এবং তখনই তিনি চিত্তরঞ্জনের শীর্ষত্ব গ্রহণ করেন। কলকাতার আইন অমান্য আন্দোলনে স্বেচ্ছাসেবকদের সংগঠনের দায়িত্ব পেলেন সুভাষচন্দ্র বসু।

চিত্তরঞ্জন দাশের স্বরাজ দল গঠন করা: 

তার নেতৃত্বে একটি নতুন সেনাবাহিনী গড়ে ওঠে, তার নাম দেওয়া হয় স্বরাজ দল। দেশের জনপ্রিয়তম নেতা বলে সকলে তাকে স্বীকার করে নেন। এদিকে তাকে কলকাতা কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র করা হয়। সুভাষচন্দ্র হলেন প্রথম প্রধান অফিসার তার আদর্শ ছিল প্রকৃত জনগণের সেবা করা। সমাজের অনাচার এবং আবর্জনা দূর করাই ছিল তাদের প্রধান উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য। অসহায় মানুষদের সেবা জনগণের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল জীবনের মূল ব্রত।

সরকারের অনাচার, অত্যাচারের বিরুদ্ধে আবার তারা অভিযান শুরু করে দিলেন। সরকার তখন তাকে বন্দী করে রাখল। তার সাথে সাথে আরো অনেক কর্মীও বন্দী হয়ে পড়লেন। এই অন্যায় অবিচার এর বিরুদ্ধে তারা বিভিন্ন রকমের পরিকল্পনা করতে থাকেন। এই থেকে গোপনে তিনি স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য দার্জিলিংয়ে গেলেন সেখানে তার স্বাস্থ্যের উন্নতিও দেখা দিল।

চিত্তরঞ্জন দাশের মৃত্যু: 

জন্ম নিলে মৃত্যুবরণ করতেই হবে, এমনটাই প্রকৃতির নিয়ম। তেমনি এই দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনের ক্ষেত্রেও স্বাভাবিকভাবেই ঘটে গিয়েছে। বিদায়ের এই করুন মুহূর্তে দেশবাসীকে কাঁদিয়ে তিনি চিরকালের মতো চলে গিয়েছেন। ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দের ১৬ ই জুন তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং সেই স্বপ্ন মিলিয়ে গিয়েছিল তার এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার সাথে সাথেই। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন এর মৃত্যু ছিল ইন্দ্রপতনের মত খুবই ভয়াবহ দুঃসংবাদ। সেই দুঃসংবাদ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভারতবাসীদের কাছে এটি খুবই স্তব্ধ বেদনা হয়ে কষ্ট দিয়েছে।

দেশবন্ধু নামাঙ্কিত চিত্তরঞ্জন সেবা সদন: 

মৃত্যুর পূর্বে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন তার পৈতৃক বসত বাড়িটি জনসাধারণকে দান করে গিয়েছেন। এখন সেখানেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দেশবন্ধু নামাঙ্কিত চিত্তরঞ্জন সেবা সদন।

তার মৃত্যুতে সমস্ত দেশবাসী হয়ে পড়েছিলেন মর্মাহত। এমনই অনেক ব্যক্তিত্ব তার মৃত্যুতে যা বললেন, চলুন জানা যাক:-

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 

এমনই একজন মহান ব্যক্তির প্রয়ানে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শ্রদ্ধা নিবেদন করে লিখলেন যে,

“এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ, মরণে তাহাই তুমি করে গেলে দান।”

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাজী নজরুল ইসলাম: 

কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন দেশের বিদ্রোহী কবি। বিশেষ করে বাংলার বুকে তিনি বিদ্রোহ সৃষ্টি করেছেন তার কবিতা দিয়ে। তিনিও কিন্তু দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের মৃত্যুতে খুবই মর্মাহত হয়ে লেখেন যে,

“দিনের বন্ধু, দেশের বন্ধু, মানব বন্ধু তুমি, চেয়ে দেখো আজ লুটায় বিশ্ব তোমার চরণ তুমি।”

কাজী নজরুল ইসলাম

দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের শেষ যাত্রায় কলকাতার বুকে যে হারে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়েছিল তা আজও ইতিহাসের পাতায় জ্বলজ্বল করছে। তিনি রাজনীতির মধ্যে থেকেও, বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করার মধ্যে দিয়েও নিয়মিত সাহিত্যচর্চা করতেন। সাহিত্য প্রতিভা ছিল তার বিশেষ একটি গুণ।

আজও এই দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস কে সমগ্র দেশবাসী খুবই ভক্তি ও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে থাকেন। তিনি আজও যেন দুই বাংলাতে বিরাজমান। সমস্ত গুনে সম্পন্ন এই মহান ব্যক্তিটি জনসাধারণের উপকার করে গেছেন বেঁচে থাকাকালীন এবং মৃত্যুর পরেও তিনি তার সর্বস্ব উজাড় করে দিয়ে গেছেন অসহায় মানুষদের জন্য।

Leave a Comment