বিজয়া দশমী 2023: বিজয়া দশমীতে এই নিয়মগুলি মানলে মায়ের কৃপা সর্বদাই থাকবে আপনার উপর

পুজো পুজো পুজো পুজো গন্ধ এসেছে, ঢাকের কাঠি পূজোতে জমজমাটি আনন্দ, উৎসব সবকিছু ঘিরে থাকে অনেকখানি আনন্দ। তবে বিষাদের সুর নবমীর রাত থেকেই শুরু হয়ে যায়। আবার অপেক্ষা করতে হয় একটা বছরের জন্য। দশমী তিথিতে চার দিনের পুজো শেষে ফিরে যান দেবী পার্বতী নিজের গৃহে, কৈলাসে। সকলকে কাঁদিয়ে, সকলকে মন মরা করে দিয়ে তিনি পাড়ি দেন নিজের বাড়ি।

তবে এমন দুঃখময় পরিস্থিতিতে দেবী রেখে যান সকলের জন্য অশেষ কৃপা। তবে এমন বিজয়া দশমীতে যদি আপনি বিশেষ কিছু নিয়ম পালন করে থাকেন, মনে করা হয় যে সে সমস্ত কাজগুলি জীবনে আপনার উন্নতি লাভ করতে সাহায্য করবে।

দশমী কথাটি তাৎপর্য রয়েছে অনেক খানি, আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের দশমি তিথিতে দেবী কৈলাসে পাড়ি দেন। সেই কারণেই এই দশমীকে বিজয়া দশমীও বলা হয়। এই দিন দেবী দুর্গার বিসর্জন হয়ে যায়। দুর্গাপূজার শেষ চিহ্ন বলতে গেলে এই বিজয়া দশমী।

বিজয়া দশমীতে এই নিয়মগুলি মানলে মায়ের কৃপা সর্বদাই থাকবে আপনার উপর
বিজয়া দশমীতে এই নিয়মগুলি মানলে মায়ের কৃপা সর্বদাই থাকবে আপনার উপর

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে এই দিনে পিতৃ গৃহ ছেড়ে দেবী পাড়ি দেন স্বামী গৃহ কৈলাসে। আর এই দিনেই তাই দেবী প্রতিমার নিরঞ্জন করা হয় অর্থাৎ বিসর্জন করা হয়। ভারত এবং নেপালের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এই দিনটি বিভিন্নভাবে পালন করা হয়ে থাকে।

তাছাড়া এই দিন সিঁদুর খেলা, মায়ের বরণ এবং বিসর্জন সবকিছুর মধ্যে আনন্দ আর কান্না মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে। বিজয়া দশমী তিথিতে সকল অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে এবং সারা বছরের জন্য সকলের জীবন আনন্দে ভরিয়ে রেখে দেবী দুর্গা চলে যান নিজের বাড়ি। এই বিজয়া দশমীতে সহজ কিছু উপায়ের মাধ্যমে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং উন্নতি ঘটানো সম্ভব হয় বলে মনে করা হয়।

তো চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক, এমন কিছু নিয়ম সম্পর্কে যেগুলি এই বিজয় দশমীতে পালন করলে জীবনে অনেকখানি উন্নতি লাভ করতে পারবেন:

১) দশমীতে পুষ্পাঞ্জলী:

বিজয়া দশমীর পুজোর দিন যখন দেবীকে অঞ্জলি দেওয়া হয়, সেই সময় বিভিন্ন রকমের ফুল দিয়ে অঞ্জলি দেওয়া হয়।

তবে এই দিন যদি সাদা অথবা নীল অপরাজিতা ফুল পুষ্পাঞ্জলির মাধ্যমে দেবীকে অর্পণ করেন, তাহলে আপনার অনেক মনের ইচ্ছা সম্পূর্ন হবে।

২) সিঁদুরের কৌটো:

হিন্দু নারীদের জন্য সিঁদুরের কৌটো কতখানি গুরুত্ব বহন করে তার নতুন করে বলার কিছু নেই, তবে এই সিদুর শুধুমাত্র যে মহিলারাই ব্যবহার করেন তা কিন্তু নয়।

এমনও হতে পারে যে আশীর্বাদি কোন সিঁদুর পুরুষদের জন্য মঙ্গলজনক। কোন শুভ কাজে যাওয়ার জন্য পুরুষদের কপালে সেই সিঁদুরের তিলক এঁকে দিলে সেই কাজে সফলতা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এক্ষেত্রে দশমীর সকালে এক কৌটো সিঁদুর নিয়ে মায়ের মন্দিরে যান এবং সেই সিঁদুর থেকে কিছুটা মায়ের চরণে অর্পণ করে বাকিটা মায়ের চরণে ছুঁইয়ে বাড়ি নিয়ে চলে আসুন।

সেই সিঁদুর সারা বছর পুরুষ মহিলা সকলেই ব্যবহার করতে পারেন। এর ফলে মায়ের আশীর্বাদ সর্বদাই আপনাদের মাথার উপরে থাকবে।

৩) ঘি এর প্রদীপ:

বিজয়া দশমীর দিন মনমরা থাকলেও সকালে রাম মন্দিরে যেতে পারেন এবং সেখানে গিয়ে একটি ঘি এর প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখুন। বিজয়া দশমীতে ঘি এর প্রদীপ জ্বালানো খুবই শুভ বলে মনে করা হয়।

৪) পদ্মফুল:

পদ্মফুল ছাড়া দূর্গা পূজা অসম্পূর্ণ তা তো আমরা সকলেই জানি, ১০৮ টা পদ্মফুল নিয়ে কাহিনীও রয়েছে।

আর যদি আপনি দশমীর দিন সকালে পুজো হয়ে যাওয়ার পর মায়ের ঘটের কাছ থেকে একটি পদ্মফুল নিয়ে এসে হলুদ কাপড়ের মুড়ে আপনার বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব কোন ঝুলিয়ে রাখেন।

তাহলে মায়ের আশীর্বাদ সর্বদাই আপনার বাড়িতে বিরাজ করছে। তাইতো এই মঙ্গল ময় পদ্মফুল নেওয়ার জন্য মানুষের ভিড় জমে যায়।

৫) প্রতিমা বিসর্জন হওয়ার পরের আচার অনুষ্ঠান:

বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন হয়ে যাওয়ার পর রাত্রিবেলা একটি পাত্রে চন্দন, সিঁদুর, কর্পূর এবং পান, তার সাথে গরুচনা নিয়ে একসঙ্গে একটি মিশ্রণ তৈরি করে তারপর ঘরের ভেতরে যে কোন পবিত্র স্থানে সেই মিশ্রনের পাত্রটির সামনে একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে সারা রাত রেখে দিন।

পরের দিন সকাল থেকে পরপর ৭ দিন এই মিশ্রণটির টিকা কপালে পড়ুন আপনার অর্থ ভাগ্য খুলে যাবে।

৬) সিঁদুর খেলা:

সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন সকল বিবাহিতা মহিলারা এবং তার সাথে পুরুষেরা ও যোগদান করেন।

তবে মায়ের পায়ে অর্পণ করা সেই সিঁদুর যদি আপনি কপালে ধারণ করেন আর সিঁদুর খেলায় দেবী দুর্গাকে সিঁদুর মাখিয়ে থাকেন তবে এক্ষেত্রে আপনার জীবনে শুভ সূচনা ঘটতে পারে খুব শীঘ্রই।

৭) প্রদীপ জ্বালানো:

মন্দির থেকে অথবা মণ্ডপ থেকে যখন দেবী দুর্গাকে বিসর্জনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়, পুরো মন্ডপটা অথবা মন্দিরটা ফাঁকা হয়ে যায়। সেদিকটা তাকাতেই মনটা অনেকখানি খারাপ হয়ে যায়। সব দিকটা যেন শূন্য শূন্য মনে হয়।

এমন শূন্যস্থান কিছুটা হলেও পূরণ করতে, আপনি সেখানে প্রদীপ জ্বালাতে পারেন। সেই প্রদীপের আলোতে মন্ডপ অথবা সেই দুর্গা মন্দির অনেকখানি ভরে উঠবে এর ফলে দেবীর কৃপা আপনার জীবনে বর্ষিত হবে অঝোর ধারায়।

৮) কুকুরকে খাওয়ান বেসনের নাড়ু:

এছাড়া বিজয়া দশমীর দিন বেসনের নাড়ু কালো কুকুরকে খাওয়ালে শুভ ফল পাওয়া যায় বলে অনেকেই মনে করে থাকেন। আর সেই অনুসারে এই দশমীর দিন বেসন দিয়ে তৈরি নাড়ু কালো কুকুরকে খাওয়ানোর রীতি চোখে পড়ে।

সংসারে আয় উন্নতি চাইবেন না, এমন মানুষ খুবই কম আছেন। তবে বিজয়া দশমীতে এই নিয়মগুলো পালন করলে আপনার জীবনে পরিবর্তন আপনি নিজের চোখেই দেখতে পাবেন।

তবে ভক্তিতে থাকে অনেকখানি শক্তি, মনে ভক্তি দেখে ঈশ্বরকে ডাকলে তিনি ভক্তের ডাকে সাড়া না দিয়ে থাকতে পারেন না। তো আশা করি আপনার বিজয়া দশমী এভাবেই কাটুক, আর সংসারে নেমে আসুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। সকলের জীবন হোক শুভময়।

Leave a Comment