বিধানচন্দ্র রায় জীবনী 2022 – ইতিহাস, পরিবার এবং বিপ্লবী কার্যক্রম

বিধানচন্দ্র রায় কোথায় জন্মগ্রহণ করেন? বিধানচন্দ্র রায় কিভাবে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন? ওনার বাবা-মা কে? ওনার জীবন কেমন ছিল? এছাড়াও বিধানচন্দ্র রায় সম্পর্কে জানা-অজানা তথ্য জানুন (Biography of Bidhan Chandra Roy in Bengali)।

বিধানচন্দ্র রায় ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী, ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে থেকে আমৃত্যু তিনি সেই পদেই অধিষ্ঠিত ছিলেন। এছাড়া চিকিৎসক হিসেবেও তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

১৯১১ খ্রিস্টাব্দে তিনি ইংল্যান্ড থেকে এম আর সি পি (MRCP) এবং এফ আর সি এস (FRCS) উপাধি অর্জন করার পর কলকাতার ক্যাম্পবেল মেডিকেল স্কুলে অর্থাৎ বর্তমানে যেটা নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজ, সেখানে শিক্ষকতা করেন এবং তার পাশাপাশি চিকিৎসা পেশা শুরু করেন।

বিধান চন্দ্র রায় জীবন পরিচয় - Bidhan Chandra Roy Biography in Bengali
বিধান চন্দ্র রায় জীবন পরিচয় – Bidhan Chandra Roy Biography in Bengali

পরবর্তীতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য রয়াল সোসাইটি অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন এন্ড হাইজিন এবং আমেরিকান সোসাইটি অফ চেস্ট ফিজিশিয়ান এর ফেলো নির্বাচিত হন।

বিধান চন্দ্র রায় পাঁচটি নতুন শহরের প্রতিষ্ঠা করেন, বিধাননগর, দুর্গাপুর, অশোকনগর-কল্যাণগড়, কল্যাণী ও হাবড়া। এছাড়া ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে বিধানচন্দ্র রায় ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরত্নে ভূষিত হন। তার মৃত্যুর পর বিধানচন্দ্র রায় এর সম্মানে কলকাতার উপনগরীর সল্টলেকের নামকরণ করা হয় বিধাননগর।

বিধানচন্দ্র রায় এর জীবনী সম্পর্কে জানা যাক: 

  • সম্পূর্ণ নাম: বিধান চন্দ্র রায়
  • জন্ম: ১ লা জুলাই ১৮৮২
  • জন্মস্থান: পাটনা ও ব্রিটিশ ভারত
  • পিতার নাম: প্রকাশ চন্দ্র রায়
  • মাতার নাম: আঘোর কামিনী দেবী
  • রাজনৈতিক দল: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস
  • বাসস্থান: কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
  • প্রাক্তন শিক্ষার্থী: প্রেসিডেন্সি কলেজ, পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়
  • জীবিকা: চিকিৎসক, শিক্ষাব্রতি, রাজনীতিবিদ
  • উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ভারতরত্ন, ১৯৬১
  • মৃত্যু: ১লা জুলাই ১৯৬২

বিধান চন্দ্র রায়ের জন্ম ও পরিবার: 

ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায়ের পরিবারের আদি নিবাস ২৪ পরগনা জেলার টাকি, শ্রীপুরে। কিন্তু বিধান চন্দ্র রায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন তার পিতার কর্মস্থল বিহারের পাটনা তে। শহরের বাঁকিপুরে ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে ১ লা জুলাই।

বিধানচন্দ্র রায় এর পিতা প্রকাশ চন্দ্র রায় ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এবং মাতার নাম অঘোর কামিনী দেবী, ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে বি.এ. পাস করার পর বিধানচন্দ্র কলকাতায় চলে আসেন এবং এখানে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

বিধানচন্দ্র রায়ের শিক্ষা জীবন:

তার শিক্ষা জীবন সম্পর্কে বলতে গেলে, তিনি ছিলেন খুবই শিক্ষিত, তখনকার সময় তুলনায় চিকিৎসাবিদ্যা অধ্যয়ন করার জন্য বিধানচন্দ্র রায় কলকাতা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন।

১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে এল এম এস এবং ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম.ডি. উপাধি লাভ করে তারপর পরবর্তীতে প্রাদেশিক মেডিকেল সার্ভিস এ যোগ দিয়েছিলেন এবং দেশের সাথে সাথে বিদেশে ও বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে তার চিকিৎসা জীবনকে উপভোগ করেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানে আরও উচ্চতর শিক্ষা লাভ করার জন্য বিধানচন্দ্র রায় ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে বিলেত পাড়ি দেন।

চিকিৎসার অভাব এতটাই ছিল যে বহু মানুষ বিনা চিকিৎসায় দুরারোগ্য রোগে নিজেদের প্রাণটাই হারিয়ে ফেলতো, দেশে চিকিৎসকদের দাপট ছিল বইকি, কিন্তু কতজন সাধারণ মানুষ আর তাদের কাছে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারত ? তাই না ! সেই কারণে একজন সুদক্ষ চিকিৎসক হয়ে ওঠা খুবই বড় মাপের সাফল্য।

বিধানচন্দ্র রায়ের কর্মজীবন: 

তার কর্মজীবন বলতে গেলে তিনি পেশাগত ভাবে চিকিৎসক ছিলেন, ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে বিধানচন্দ্র কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের সদস্য নির্বাচিত হন। দুই বছর পর ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে বিধানচন্দ্র রায় ক্যাম্বেলের সরকারি চাকরি ছেড়ে দেন, তার পরিবর্তে যোগদান করেন কারমাইকেল মেডিকেল কলেজে।

মেডিসিনের অধ্যাপক পদে নিযুক্ত হন, বর্তমান যেটা আরজিকর মেডিকেল নামে সকলেই জানি। কলেজের নাম তখন ছিল কারমাইকেল মেডিকেল কলেজ, এখানে কর্মরত অবস্থাতেই বিধানচন্দ্র রায় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন।

বিধানচন্দ্র রায়ের উপাধি: 

চিকিৎসা ক্ষেত্রে তিনি অনেক দুরবস্থা লক্ষ্য করেন, তাই চিকিৎসা শাস্ত্রে পরিপূর্ণ জ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যে বিধানচন্দ্র রায় বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন, ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে সেখানে দুই বছর থেকে এম আর সিপি (MRCP) এবং এম আর সি এস (MRCS) ও পরবর্তীতে FRCS উপাধি অর্জন করেন। এছাড়া বর্তমানে যেটা নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজ নামে পরিচিত, সেই সময় তার নাম ছিল ক্যাম্বেল মেডিকেল স্কুল।

বিলেত থেকে ফিরে এসে বিধানচন্দ্র সেখানে চিকিৎসক রূপে যোগদান করেছিলেন। সেই সঙ্গে নিজেও চিকিৎসা ব্যবসাও শুরু করেন। আর খুবই কম সময়ের মধ্যেই শুধু চিকিৎসক রূপে তিনি খ্যাতি অর্জন করে ফেললেন। তার সাথে সাথে দেশের সমাজ জীবনের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল খুবই ভালো। তিনি সমাজ সেবামূলক কাজ করতে খুবই পছন্দ করতেন।

বিধানচন্দ্র রায়ের স্বরাজ দল গঠন: 

ভারতবর্ষের স্বাধীনতার আন্দোলন সেই সময় উত্তাল হয়ে উঠেছে। মতবিরোধের প্রশ্নে দেশব ন্ধু ততদিনে কংগ্রেসের বাইরের স্বরাজ দল প্রতিষ্ঠা করেছেন বিধানচন্দ্র রায় এর সঙ্গে রয়েছেন মতিলাল নেহেরু প্রমুখো নেতৃবৃন্দ।

বাংলা তথা ভারতের জননেতা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস এর প্রভাবে বিধানচন্দ্র রাজনীতিতে যোগদান করেন ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে। তার স্বরাজ দলের হয়ে নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিধানচন্দ্র বাংলার ব্যবস্থাপক সভার সদস্য নির্বাচিত হন।

বিধানচন্দ্র আমেরিকান সোসাইটি চেস্ট ফিজিসিয়ান এর ফেলো নির্বাচিত হওয়া: 

১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দের বিধানচন্দ্র রয়েল সোসাইটি অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন এন্ড হাইজিন এবং ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকান সোসাইটি চেস্ট ফিজিসিয়ান এর ফেলো নির্বাচিত হন।

এরপর ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে বিধানচন্দ্র রায় বাংলার পার্লামেন্টারি কমিটির সভাপতি হন এবং কংগ্রেসের নির্বাচন পরিচালনা করেন। দেশের রাজনৈতিক এবং সামাজিক ক্ষেত্রে ক্রমশই বিধান চন্দ্রের প্রভাব এবং গুরুত্ব বৃদ্ধি পেতে থাকে।

বিধানচন্দ্র রায়ের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি এস সি (DSC) উপাধি পাওয়া:

বিধানচন্দ্র রায় ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে বিধানচন্দ্র কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিযুক্ত হয়েছিলেন। ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডি এস সি (DSC) উপাধিতে ভূষিত করে।

বিধানচন্দ্র রায় কলকাতা কর্পোরেশন এর মেয়র: 

তিনি ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৩১ থেকে ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র হয়েছিলেন।

বিধানচন্দ্র রায় এর গ্রেপ্তার: 

বিধানচন্দ্র রায় ছিলেন দেশপ্রেমিক, সত্যনিষ্ঠ এবং খুবই নির্ভীক একটি ব্যক্তিত্ব। সমাজসেবামূলক কাজ করার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করা ব্যক্তি কখনোই শান্তিতে থাকতে পারেন না, তাকে কোনো না কোনোভাবেই গ্রেফতার হতেই হয়।

তেমনি ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে আইন অমান্য আন্দোলনের সময় তিনি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এই সময়ে বোম্বাই থেকে কলকাতা ফেরার পথে স্টেশনে বিধানচন্দ্র রায় গ্রেফতার হয়ে পড়ে।

তবুও কিন্তু সকল কর্ম ব্যস্ততার মধ্যে থেকেও চিকিৎসক হিসেবে দেশের জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে বিধানচন্দ্র রায় কখনোই তার দায়িত্ব থেকে সরে যাননি। চিকিৎসক হিসেবে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা অভিধান চন্দ্র রায় একদিনের জন্যও ভুলে যাননি। আর সেই কারণেই একজন চিকিৎসক হিসেবে কেবলমাত্র দেশের মধ্যেই নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বিধানচন্দ্র রায় খুবই খ্যাতি এবং স্বীকৃতি লাভ করেছিলেন।

বিধানচন্দ্র রায় পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী: 

১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে বিধানচন্দ্র কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী রুপে আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে ২৩ শে জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন। প্রখ্যাত চিকিৎসক ও রাজনীতির বিধানচন্দ্র রায় হলেন পশ্চিমবঙ্গের কর্ণধর।

তবে স্বাধীনতার পরে আদি বঙ্গদেশের এক-তৃতীয়াংশ ভূমিভাগ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ক্ষতবিক্ষত এবং বিভিন্ন রকম সমস্যায় জর্জরিত পশ্চিমবঙ্গ। আর এই সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা ছিল বিধানচন্দ্রকে উত্তর প্রদেশের রাজ্যপাল করে পাঠানো। আর বিধানচন্দ্র রায়ের জন্যই এই পদটি নির্দিষ্ট হয়েছিল।

তখনকার সময়ে এমন পরিস্থিতিতে ডক্টর প্রফুল্ল চন্দ্র ঘোষ তিনি ছিলেন ছিলেন খুবই সৎ এবং সত্যনিষ্ঠ রাজনিতিজ্ঞা কিন্তু চক্রান্তের শিকার হয়ে তাকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের সেই মুখ্যমন্ত্রী শুন্য পদ এ একেবারে হঠাৎ করেই বিধানচন্দ্র রায় অধিষ্ঠিত হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই গুরুদায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন।

তিনি তার দায়িত্ব অনুসারে শিল্প এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উপরে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি যে নির্ভরশীল সেটা বুঝেছিলেন। বিধানচন্দ্র তাই রাজ্যের এই দুই দিকে প্রথম থেকেই বিশেষ ভাবে নজর রেখেছিলেন। শিল্পের পুনরুজ্জীবন ঘটানোর জন্য বিধানচন্দ্র রায় বিভিন্ন ভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করতে লাগলেন। এই রাজ্যের চটকল গুলির প্রয়োজনীয় কাঁচামাল অর্থাৎ পাট এর বিষয়ে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিতে লাগলেন।

তবে দেশ বিভাগের ফলে পূর্ব বাংলা হয়ে গেল ভিন্ন একটি দেশ, এর ফলে রাজ্যের চট শিল্পে দেখা দিয়েছিল খুবই সংকটময় অবস্থা। এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য বিধানচন্দ্র পশ্চিমবঙ্গের ব্যাপকভাবে পাট চাষের বন্দোবস্ত করতে লাগলেন।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিধানচন্দ্র রায়ের পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক ভিত্তি স্থাপন: 

তিনি বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় যেমন ধরুন বর্ধমান, কল্যাণী, উত্তরবঙ্গ ও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, এছাড়া অর্থনৈতিক দিক থেকে ব্যান্ডেল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্প এই সকল কিছু প্রতিষ্ঠার মূলে ছিলেন।

এছাড়াও বিধান নগর উপনগরী, রাষ্ট্রীয় পরিবহন, কল্যাণী উপনগরী, হরিণঘাটা, দুগ্ধ প্রকল্প এই সব কিছুর উদ্যোক্তা ছিলেন বিধানচন্দ্র রায়। সব কিছুর দিক থেকে বলা যেতে পারে যে, স্বাধীনতা লাভের পর পশ্চিমবঙ্গের রূপায়ণে বিধানচন্দ্র রায়ের গঠনমূলক প্রতিভা এবং ব্যক্তিত্ব খুবই ভালোভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল, বিভিন্ন ভারী ধরনের প্রকল্প, শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে বিধানচন্দ্র রায় পশ্চিমবঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নতির ভিত্তি স্থাপন করে গিয়েছেন।

আবার অন্য দিক থেকে দেখতে গেলে, ব্যবসায়ী হিসেবে অভিধান চন্দ্র রায় তার প্রতিভার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। শিলং হাইড্রো ইলেকট্রিক কোম্পানির অন্যতম ডিরেক্টর ছিলেন বিধানচন্দ্র রায়। যেখানে বিমান, জাহাজ এবং ইনসিওরেন্স ব্যবসার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল তাঁর। এইসব কিছুর মধ্যে দিয়ে বোঝা যায় যে, তিনি কতটা প্রতিভাবান ব্যাক্তি ছিলেন।

বিধানচন্দ্র রায়ের ভারতরত্ন: 

তাছাড়া তিনি তার যোগ্যতা অনুসারে ভারতরত্ন উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত টানা এই ১৪ বছর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পদে তিনি অধিষ্ঠিত ছিলেন। ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে ভারত সরকার বিধানচন্দ্র রায় কে ভারতরত্ন উপাধি দিয়ে সম্মানিত করেন।

বিধান চন্দ্র রায়ের মৃত্যু: 

এমন একটি প্রতিভাশালী ব্যক্তির মৃত্যুতে সকলে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল, ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে ১ লা জুলাই কর্মরত অবস্থাতে কলকাতার রাজভবনে, আধুনিক পশ্চিমবঙ্গের রূপকার, দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ চিকিৎসক বিধান চন্দ্র রায় তার গুরুদায়িত্ব পালন করতে থাকা অবস্থাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বিধানচন্দ্র রায় এই ১৪ বছরের মুখ্যমন্ত্রী কালে নবগঠিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উন্নতি সম্ভব হয়েছিল শুধুমাত্র তার কারণেই, আর সেই জন্যই তাকে পশ্চিমবঙ্গের রূপকার নামে অভিহিত করা হয়।

তাকে সম্মান জানানোর উদ্দেশ্যে তার মৃত্যুর পর কলকাতার উপনগরের সল্টলেক এর নামকরণ করা হয় বিধানচন্দ্র রায় এর নাম অনুসারে বিধান নগর। এছাড়া বিধানচন্দ্র রায়ের জন্ম ও মৃত্যুদিন দুটোই কিন্তু একই তারিখ ১ লা জুলাই, তাই এই দিনটি সারা ভারতের “চিকিৎসা দিবস” রূপে পালন করা হয়।

Leave a Comment