দুর্গা পূজা 2023: দুর্গাপূজা উপলক্ষে আপনার ও পূজার ঘরটিকে সাজান এই পদ্ধতিতে

পুজো মানেই উৎসব আনন্দ, আর অনেকখানি হইহুল্লোড়। তবে বাঙালি দের সব থেকে বড় উৎসব হল দুর্গাপূজা। ঢাকের বোল চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। পুজোর কেনাকাটা, পুজোর দিনগুলোতেও চলে, শেষ হওয়ার নামই যেন নেই। এত কেনাকাটার পরেও মন যেন কোনমতেই ভরেই না। এক একটা দিনের জন্য তিন চার রকম ড্রেস কেনা হয়েছে। তবে তার সাথে সাথে ঘর সাজানোর সরঞ্জামও কিন্তু কিনতে ভোলেন না অনেকেই।

তবে সব কিছুর সাথে সাথে নিজের ঘর টিকে সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতে এবং ঘরের মধ্যে অবস্থিত ঠাকুরঘর কেও সুন্দর করে সাজানোর জন্য আপনাকে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠতে হবে। কেননা দেবী দুর্গা প্রতিটি ঘরে অবস্থান করবেন। এই দেবী পক্ষ তে তাহলে দেবীকে আগমন জানাতে এবং ঘরে বসানোর জন্য নিশ্চয়ই আপনি সুন্দর করে সাজিয়ে রাখতে পছন্দ করবেন ঘর ও মন্দির কে।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে আপনার ও পূজার ঘরটিকে সাজান এই পদ্ধতিতে
দুর্গাপূজা উপলক্ষে আপনার ও পূজার ঘরটিকে সাজান এই পদ্ধতিতে

তবে পুজোর কেনাকাটার পাশাপাশি ঘর সাজানোর জন্য বেশ কিছু সরঞ্জাম কিনতে হবে। তবে ভয় নেই, আপনি খুবই কম খরচের মধ্যেই সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতে পারবেন আপনার অন্দরমহল এবং ঠাকুর ঘর। খুবই সহজলভ্য এবং আকর্ষণীয় পদক্ষেপে আপনার অন্দরমহল হয়ে উঠতে পারে দৃষ্টিনন্দন।

সেখানে যুক্ত হতে পারে নতুন মাত্রা, আপনার পুজোর ঘরকে কে নতুন ভাবে সাজিয়ে তুলুন। অনেকেরই পুজোর ঘর সাজানো নিয়ে বিভিন্ন রকম পছন্দ অপছন্দের ব্যাপার থাকে, তবে নিজের পছন্দ অনুযায়ী এবং পরিবারের আরো অন্যান্য সদস্যদের পছন্দ অনুযায়ী সাজাতে পারেন।

তো চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক, কেমন ভাবে সাজিয়ে তুলবেন আপনার অন্দরমহল ও ঠাকুর ঘর:

১) খুবই কম খরচ করুন:

ঘর সাজানোর জন্য অনেক দামী দামী জিনিসপত্র এবং গাধা গাধা টাকা খরচ করলেই যে সুন্দর দেখাবে, তা কিন্তু নয়। আপনি কম খরচ করেও খুবই সৌখিন জিনিস কিনে সহজলভ্য কোন জিনিস সুন্দর করে সাজিয়ে ঘর হোক অথবা মন্দির আপনি তাক লাগিয়ে দিতে পারেন সুন্দর করে সাজিয়ে।

এক্ষেত্রে কাঁচ ও অ্যালুমিনিয়ামের প্যানেলের দরজা দেওয়া এক ধরনের ঠাকুরের আসন পাওয়া যায়, সেটা বাড়ির পক্ষে খুবই আদর্শ।

q? encoding=UTF8&ASIN=B0B25NKVQX&Format= SL250 &ID=AsinImage&MarketPlace=IN&ServiceVersion=20070822&WS=1&tag=indianamazo00 21&language=en INir?t=indianamazo00 21&language=en IN&l=li3&o=31&a=B0B25NKVQX

তবে সেই দরজা বন্ধ থাকবে। আলো জ্বলবে এর পাশাপাশি আপনার ঘরের শোভাটাও কিন্তু বাড়িয়ে তুলবে। এমন একটা ছোট্ট ঠাকুর ঘর যদি ঘরের মধ্যে কোথাও রাখা যায়, তাহলে ঠাকুর ঘরটার পাশাপাশি পুরো বাড়িটার লুক চেঞ্জ করে দেবে।

২) ফুলের সুগন্ধ ধরে রাখুন:

সুগন্ধ আবার কি করে ধরে রাখা যায় ? কি, অবাক লাগছে তাই তো !  তবে ফুলের সুগন্ধ ধরে রাখার জন্য আপনি অনেক সহজ পন্থা অবলম্বন করতে পারেন।

q? encoding=UTF8&ASIN=B07MQD1BQR&Format= SL250 &ID=AsinImage&MarketPlace=IN&ServiceVersion=20070822&WS=1&tag=indianamazo00 21&language=en INir?t=indianamazo00 21&language=en IN&l=li3&o=31&a=B07MQD1BQR

যেমন ধরুন সুন্দর সুগন্ধযুক্ত ফুল যেমন ধরুন জুঁই ফুল, গোলাপ ফুল, বেল ফুল, রজনীগন্ধা এগুলি বিভিন্ন ধরনের মাটির বাটি রং করে অথবা নকশা করে অথবা আপনি কোন কাঁচের বাটিতে জল ভর্তি করে তার উপরে ছড়িয়ে দিতে পারেন।

এই ফুলগুলি খুবই সুন্দর সুবাস ছড়ায়, বাটিতে জলের উপরে যদি ফুলগুলি রাখেন, তাহলে পুজোর ঘরের সাথে সাথে আপনার সমস্ত ঘর একেবারে ম ম করবে। পুজো মানেই ফুলের গন্ধ, চারিদিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং এক স্নিগ্ধতা।

সেই কারণে ফুলের সুগন্ধ পছন্দ হবে না এমন মানুষ আপনি একটিও পাবেন না। এমন ভাবেও নিজের ঘরের সাথে সাথে ঠাকুর ঘর কেও সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতে পারেন।

৩) ফুল এবং ফুলের মালা:

চারিদিকে উৎসব, পূজো পুজো আনন্দ আর ফুল অথবা ফুলের মালা ব্যবহার করা হবে না, তা কি কখনো হয় ?  চারিদিকে ফুলের ঘনঘটা, নিজের বাড়ি টিকে সুন্দর করে ফুল দিয়ে সাজাতে পারেন, তার সাথে সাথে নিজের বাড়ির মধ্যে ছোট্ট মন্দিরটাকেও সাজাতে নিশ্চয়ই ভুলবেন না। এক্ষেত্রে গাঁদা ফুল অনেকদিন পর্যন্ত আপনি সতেজ ভাবে রাখতে পারবেন।

q? encoding=UTF8&ASIN=B08VS44852&Format= SL250 &ID=AsinImage&MarketPlace=IN&ServiceVersion=20070822&WS=1&tag=indianamazo00 21&language=en INir?t=indianamazo00 21&language=en IN&l=li3&o=31&a=B08VS44852

সে ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বাড়িটা গাঁদা ফুল দিয়ে ডিজাইন করে সাজাতে পারেন। আর মন্দিরের কথা তো ছেড়েই দিলাম, কেননা উৎসবের সময় আপনি মন্দির তো অবশ্যই সাজাবেনই। এক্ষেত্রে শিউলি ফুল তো বটেই, যা কিনা নজর কারে সবার। হলুদ ও কমলা গাঁদা ফুলের মালা এবং কুচো গোলাপ, দোপাটি ফুল, গাঁদা ফুল ইত্যাদি দিয়েও সাজাতে পারেন।

বলা যেতে পারে ফুল দিয়ে আলপনা দিতে পারেন। এছাড়া এর সাথে মিশিয়ে নিতে পারেন আর্টিফিশিয়াল ফুল অর্থাৎ কৃত্রিম ফুল। দিনের দিন তাজা ফুল শুকিয়ে গেলেও সেগুলি পাল্টে দিন, তবে কৃত্রিম ফুল গুলো সেভাবেই থেকে যাবে। আর সৌন্দর্য সমানভাবে বজায় থাকবে।

৪) মাটির প্রদীপ দিয়ে সাজানো:

দিন বদলের সাথে সাথে বিভিন্ন ধরনের প্রদীপ, লাইট, এগুলি বাজারে আসলেও মাটির প্রদীপ এখনো পর্যন্ত সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। যে কোন উৎসবের আনন্দে মাটির প্রদীপ এক আলাদা জ্যোতি ছড়ায়।

q? encoding=UTF8&ASIN=B08M9GQYC6&Format= SL250 &ID=AsinImage&MarketPlace=IN&ServiceVersion=20070822&WS=1&tag=indianamazo00 21&language=en INir?t=indianamazo00 21&language=en IN&l=li3&o=31&a=B08M9GQYC6

সেই কারণে বাজারে গেলে দেখবেন এখন নানা ধরনের বিভিন্ন রঙের মাটির প্রদীপ পাওয়া যায়। সেই রকমের প্রদীপ গুলির সাহায্যে আপনি ফুলের আলপনার মধ্যে ঘরে এবং ঠাকুর ঘরে সুন্দর করে সাজালে ঘরে সৌন্দর্য অনেক গুণ বাড়িয়ে তুলতে পারেন।

৫) আলপনাতে ফুটিয়ে তুলুন সৌন্দর্য:

পুজো মানেই উঠানে, ঠাকুর ঘরে, ঘরের দরজার চৌকাঠে, আলপনা আঁকা, এটা যেন প্রাথমিক একটা বিষয়। পুজোর ঘর, পুজোর আনন্দে সাজিয়ে তুলতে অবশ্যই আলপনা দিয়ে নিতে পারেন।

q? encoding=UTF8&ASIN=B09FJRHHZD&Format= SL250 &ID=AsinImage&MarketPlace=IN&ServiceVersion=20070822&WS=1&tag=indianamazo00 21&language=en INir?t=indianamazo00 21&language=en IN&l=li3&o=31&a=B09FJRHHZD

সম্পূর্ণ ঘর জুড়ে করতে পারেন হাতের তুলির টানে এই আলপনা অথবা রঙ্গলি যাই বলুন না কেন এখনো পর্যন্ত সমান ভাবে জনপ্রিয়। ঘরকে উৎসবের আমেজ দিতে আলপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তাছাড়া শুধুমাত্র চুন অথবা চালের গুঁড়ো দিয়ে আলপনা দেওয়া ছাড়াও আবির এবং ফুল দিয়েও অনেকে আলপনা দিতে পছন্দ করেন। যা কিনা অনেকখানি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে, তবে এখানে আপনার পছন্দ অনুযায়ী ফুল অথবা আবির অথবা সাদা কোন রং যে কোন কিছু বেছে নিয়ে পুজোর ঘরের পাশাপাশি সম্পূর্ণ ঘর আলপনা তে ভরিয়ে তুলতে পারেন।

৬) হাতে তৈরি ওয়াল হ্যাংগিং:

আজকাল কম বেশি সকলেই হাতে তৈরি জিনিসপত্র পছন্দ করেন এবং করতেও পারেন। কেননা এখন অনলাইনে সবকিছুই শেখা সম্ভব।

q? encoding=UTF8&ASIN=B099NM47BP&Format= SL250 &ID=AsinImage&MarketPlace=IN&ServiceVersion=20070822&WS=1&tag=indianamazo00 21&language=en INir?t=indianamazo00 21&language=en IN&l=li3&o=31&a=B099NM47BP

সেই কারণে পুজোর সময় নানা রঙের কাগজ কেটে অথবা কোন সুন্দর কাপড় দিয়েও আপনি ওয়াল হ্যাংগিং বানাতে পারবেন। পুজোর ঘর থেকে শুরু করে ঘরের সমস্ত দেয়াল সাজিয়ে তুলতে পারেন নিজের হাতের কাজ দিয়ে।

এছাড়াও আপনার পছন্দ মতন জিনিসপত্র যুক্ত করে অথবা কোন জিনিস আপনার অপছন্দ হলে সরিয়ে দিতে পারেন। দুর্গাপূজার এই দিনগুলি সমস্ত ঘরকে মঙ্গলময় এবং সুন্দর করে তোলার জন্য আপনার হাতের ছোঁয়া অবশ্যই জরুরী, যেখানে যুক্ত করতে পারে নতুন প্রাণের ছোঁয়া।

৭) রংবেরঙের আলো:

রংবেরঙের আলো, এটা আর নতুন করে বলে দেওয়ার বিষয় নয়। কেননা রাতের অন্ধকারে এই রংবেরঙের আলো বাড়ির শোভা কতখানি বৃদ্ধি করে অথবা ঘরের মধ্যে এই আলো কতটা সুন্দর এবং মোহময়ী পরিবেশ সৃষ্টি করে সেটা তো আমরা সকলেই কমবেশি জানি।

q? encoding=UTF8&ASIN=B0BCWNXJQ1&Format= SL250 &ID=AsinImage&MarketPlace=IN&ServiceVersion=20070822&WS=1&tag=indianamazo00 21&language=en INir?t=indianamazo00 21&language=en IN&l=li3&o=31&a=B0BCWNXJQ1

তাই উৎসবের দিনগুলোতে ঠাকুর ঘর থেকে ঘরের সমস্ত কোন যদি এলইডি লাইট দিয়ে সাজাতে পারেন, তাহলে সেই ঘর স্বর্গের মতো সুন্দর লাগবে অথবা আপনার পছন্দের বিভিন্ন ধরনের চুনি বাল্ব দিয়ে লাল অথবা নীল লাইট দিয়ে পুজোর ঘর এবং আরো অন্যান্য রঙের লাইট দিয়ে সম্পূর্ণ ঘর সাজাতে পারেন। যেগুলি আপনার ঘরের সৌন্দর্য তে এক আলাদা মাত্রা যোগ করবে।

৮) আর্টিফিশিয়াল গাছ:

গাছপালা পরিবেশকে যেমন সুন্দর রাখে, তেমনি ঘরের মধ্যেও যদি গাছপালা রাখা যায় সেক্ষেত্রে ঘরের সৌন্দর্য অনেকখানি বৃদ্ধি করে। তবে গাছপালার যত্ন নেওয়ার জন্য অনেকখানি সময়ের প্রয়োজন হয়, তাই সে ক্ষেত্রে গাছের হাল বেহাল হয়ে যায়।

q? encoding=UTF8&ASIN=B0BCKHGZF4&Format= SL250 &ID=AsinImage&MarketPlace=IN&ServiceVersion=20070822&WS=1&tag=indianamazo00 21&language=en INir?t=indianamazo00 21&language=en IN&l=li3&o=31&a=B0BCKHGZF4

তবে চিন্তা কিসের ! একেবারে মনে হবে যেন বাগানে হয়ে থাকা কোন গাছ, কেননা এই আর্টিফিশিয়াল গাছ গুলি এতটাই সত্যি বলে মনে হয়।

সেগুলি দিয়েও ঘরের কোন, ছোট ছোট ফুলের টপ দিয়ে ঠাকুর ঘর সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতে পারেন। ঘরের মধ্যে সবুজের ছোঁয়া চোখকে যেমন শান্ত করে, তেমনি ঘরের পরিবেশ অনেকখানি স্নিগ্ধ মনে হয়। উৎসবের এই দিনগুলোতে ঝটপট করে খুবই কম সময়ের মধ্যে এমনভাবে ঠাকুর ঘরের পাশাপাশি সমগ্র ঘরটাকে সুন্দর করে গুছিয়ে, সাজিয়ে তুলতে পারেন।

উৎসব মানে আনন্দের ঘনঘটা, সবাই সকলের বাড়িতে গিয়ে হইচই করা। তবে অতিথি আপ্যায়নে আপনার কোন খামতি নেই, ঘরটা যদি আরো সুন্দর করে সাজানো যায় তাহলে অতিথিদের কাছ থেকে অদ্বিতীয়ার তকমা পেতে বেশিক্ষণ সময় লাগবে না।

তাইতো বলি উৎসবের দিনগুলোতে ঘর এবং ঠাকুর ঘর মনের মত করে সুন্দর করে সাজিয়ে তুলুন খুবই অল্প জিনিসপত্র দিয়ে এবং কম সময়ের মধ্যে। তবে বাজেটটা কিন্তু আপনার সাধ্যের মধ্যেই থাকছে।

Leave a Comment