অশোক কুমার সেন জীবনী 2022 – ইতিহাস, পরিবার এবং বিপ্লবী কার্যক্রম

অশোক কুমার সেন কোথায় জন্মগ্রহণ করেন? অশোক কুমার সেন কিভাবে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন? ওনার বাবা-মা কে? ওনার জীবন কেমন ছিল? এছাড়াও অশোক কুমার সেন সম্পর্কে জানা-অজানা তথ্য জানুন (Biography of Ashoke Kumar Sen in Bengali)।

অশোক কুমার সেন ছিলেন একজন ভারতীয় ব্যারিস্টার, ভারতের একজন প্রাক্তন ক্যাবিনেট মন্ত্রী এবং একজন ভারতীয় সংসদ সদস্য।

অশোক কুমার সেন জীবন পরিচয় - Ashoke Kumar Sen Biography in Bengali
অশোক কুমার সেন জীবন পরিচয় – Ashoke Kumar Sen Biography in Bengali

তিনি সর্বাধিকবার একটি লোকসভা আসনে জয়ী হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন এবং সবচেয়ে বেশি বছর ধরে কেবলমাত্র একজন সাংবাদিক নন একজন কাবিনেট মন্ত্রী, ৭ টিরও বেশি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করার রেকর্ডও রয়েছে, তার পাশাপাশি কয়েক দশক ধরে তিনি অনিবার্য কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রীও ছিলেন।

মহান ব্যক্তিত্ব অশোক কুমার সেন সম্পর্কে কিছু জানা যাক: 

  • সম্পূর্ণ নাম: অশোক কুমার সেন
  • জন্ম: ১০ ই অক্টোবর ১৯১৩
  • জন্মস্থান: ফরিদপুর, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত,
  • আত্মীয়-স্বজন: সুকুমার সেন (ভাই), অমর্ত্য সেন (ভাতিজা)
  • স্ত্রীর নাম: অঞ্জনা সেন
  • সন্তান: দুটি মেয়ে এবং দুটি ছেলে
  • মাতৃশিক্ষায়তন: প্রেসিডেন্সি কলেজ, কলকাতা, লন্ডন স্কুল অফ ইকোনোমিক্স
  • পেশা: আইনজীবী,
  • রাজনৈতিক দল: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, জনতা দল, স্বতন্ত্র
  • মৃত্যু: ২১ শে সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ (বয়স ৮২ বছর) নয়াদিল্লী, ভারত

অশোক কুমার সেন এর জন্ম, পরিবার ও শিক্ষা জীবন সম্পর্কে জানা যাক: 

অশোক কুমার সেন ১৯১৩ সালে একটি সুপরিচিত বৈদ্য ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। অশোক কুমার সেন এবং সুকুমার সেন (ভাই) উভয়ের উড়িষ্যার সম্বলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। যেখানে কুসুমপুর গ্রামের প্রয়াত শ্রী সূর্যমনি জেনা অধ্যক্ষ ছিলেন।

তার বড় ভাই সুকুমার সেন আই সি এস যিনি ভারত সুদান এবং নেপালের প্রথম প্রধান নির্বাচন কমিশনার হয়েছিলেন যার জন্ম হয়েছিল ১৮৯৯ সালে, তার শিক্ষার জন্য অর্থের ব্যবস্থা করেছিলেন এবং অশোক সেন গ্রেস ইন এ পড়াশোনা করতে গিয়েছিলেন।

ফিরে আসার পর তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সাংবিধানিক college কলকাতা সিটি কলেজে আইনের বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। এরপর তিনি কলকাতা হাইকোর্টের প্র্যাকটিস করতে থাকেন, মাত্র ২৬ বছর বয়সে তিনি ইতিমধ্যে বাণিজ্যিক আইন সম্পর্কে একটি বই লিখেছিলেন, যেটা মিস্টার সেনের তৎকালীন সিনিয়র রঞ্জন দাস ভারতের ভবিষ্যতের প্রধান বিচারপতি দ্বারা সমর্থন করা হয়েছিল।

অশোক কুমার সেন এর ব্যক্তিগত জীবন: 

কয়েক বছর পরেই ১৯৪৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অশোক কুমার সেন তার সিনিয়রের একমাত্র কন্যা অঞ্জনা দাস কে বিবাহ করেন, এরপর বিবাহের পরে অঞ্জনা দাস থেকে অঞ্জনা সেন হয়ে যান স্বামীর পদবী অনুসারে। তাদের দুই ছেলে এবং দুটি মেয়েও ছিল। তিনি তার সাতজন নাতি-নাতনিও রেখে গেছেন।

অশোক কুমার সেনের আইনি কর্মজীবন: 

আইন নিয়ে পড়াশোনা করার পর পাঁচ বছরের অনুশীলনের মধ্যে দিয়ে অশোক কুমার সেন কলকাতা হাইকোর্টের অন্যতম শীর্ষ আইনজীবী হিসেবে বিবেচিত হন, এবং ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন।

তিনি অনেক বই এবং প্রবন্ধ প্রকাশ করেছিলেন এবং কলকাতার “ল জার্নালে” এ র সম্পাদক ও ছিলেন তিনি। অশোক কুমার সেন সুপ্রিম কোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবী এবং বহুবার সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও ছিলেন।

অশোক কুমার সেনের মন্ত্রী পদে কর্মজীবন: 

অশোক কুমার সেন নেহেরুর অধীনে কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রী হয়েছিলেন, আর এই পদের জন্যই তিনি বিশ্বব্যাপী বিখ্যাত হয়েছিলেন। তিনি কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী ছিলেন, তাছাড়া তিনি যোগাযোগের মতো অন্যান্য পোর্টফলিও অধিষ্ঠিত করেছিলেন। তিনি ১৯৯০ সালে নভেম্বর থেকে ১৯৯১ সালের জুন মাস পর্যন্ত চন্দ্রশেখর সরকারের ইস্পাত ও খনি মন্ত্রী ও ছিলেন, এই পদের দায়িত্ব তিনি গুরু দায়িত্ব হিসেবে পালন করেছেন।

তিনি বিদেশী, দেশী এবং জাতিসংঘে ভারতের প্রতিনিধি ছিলেন দেবগৌড়া (১৯৯৬) অনুসারে তিনি আইন বিষয়ে জাতিসংঘের সম্মেলন, মানব অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ সম্মেলন এবং আরো অন্যান্য বেশ কয়েকটি সম্মেলনে ভারতীয় প্রতিনিধিদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

এছাড়া বলা যায় যে, তিনি সর্বশেষ রাজীব গান্ধীর অধীনে আইন মন্ত্রী ছিলেন এবং তার নিজের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে তার দলের পরাজয়ের পর ১৯৮৯ সালে তিনি তার পদ ত্যাগ করেন।

অশোক কুমার সেনের সংসদীয় কর্মজীবন: 

আগেই বলা হয়েছে যে, তিনি আইনগত দিক থেকে খুবই দক্ষ। তার আইনগত দক্ষতার কারণে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায় তাকে প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরুর কাছে সুপারিশ করেছিলেন, তাঁকে তার মন্ত্রিসভায় চেয়েছিলেন এবং তাঁকে লোকসভা নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বলেছিলেন।

সেই কারণে ১৯৫৭ সালের লোকসভার জন্য কলকাতা উত্তর-পশ্চিম আসনটি ছিল একেবারে কমিউনিস্টদের, ১৯৫৬ সালে অশোক কুমার সেন নির্বাচনে জয়ী হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু মাত্র কয়েকটি ভোটের কারণে তিনি জয়ী হতে পারেন নি। কিন্তু পরের বছর তিনি বিজয়ী হন এবং এক লক্ষ (১০০,০০০) ভোটে জয়ী হন।

এরপর ১৯৫৭ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত এই আসনটি ধরে রেখেছিলেন, তার সাথে সাথে ১৯৮০ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত কলকাতা উত্তর-পশ্চিম আসনটিতে বিরাজ করছিলেন, পরবর্তীতে তিনি দেবীপ্রসাদ পালের কাছে তিনি পরাজিত হন।

অশোক কুমার সেন দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম এবং অষ্টম লোকসভার সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে তাকে রাজ্যসভার সদস্য করা হয় এবং মৃত্যুর কয়েক মাস আগেও পর্যন্ত ১৯৯৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত উচ্চকক্ষ তে তিনি অধিষ্ঠিত ছিলেন।

অশোক কুমার সেনের আরো অন্যান্য কার্যক্রম: 

তিনি পশ্চিমবঙ্গ সেবা সমিতি শুরু করেছিলেন, একটি দাতব্য সংস্থা, এছাড়া ভারতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবেও তিনি তার দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি তার জীবনকালে অনেক বিরল সংগ্রহ সহ একটি বড় আইন গ্রন্থাগার সংগ্রহ করেছিলেন, বেসরকারি আইন গ্রন্থাগার গুলির মধ্যে একটি অন্যতম বলে মনে করা হয়।

অশোক কুমার সেনের মৃত্যু: 

এত দায়িত্ব পালন করে যাওয়া ব্যক্তিটি ২১শে সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ সালে নয়া দিল্লি, ভারত, সেখানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। যখন তিনি মৃত্যুবরণ করেন তখন তার বয়স ছিল ৮২ বছর।

অশোক কুমার সেনের স্মৃতিসৌধ: 

তাকে স্মরণ করার উদ্দেশ্যে তার নামে সুপ্রিম কোর্টে একটি ব্লক রয়েছে। সেখানে তার একটি পথিকৃতীও আছে, পশ্চিমবঙ্গের একটি শহরের নাম অশোকনগর, কল্যাণগড় তার নাম অনুসারেই রাখা হয়েছে। অশোক কুমার সেনকে নিয়ে বেশ কিছু তথ্যচিত্র ও নির্মিত করা হয়েছে। আর এর মধ্যে দিয়েই তাকে সবাই স্মরণ করে থাকি আমরা।

এমন মানুষের মৃত্যু যেন ইন্দ্রপতন, যা আমাদের জন্য অনেকখানি দুঃখের বিষয়। কিন্তু জন্মালে যে মৃত্যুবরণ করতেই হবে, এটাই প্রকৃতির নিয়ম। তাই তাঁর সমস্ত কাজ এবং দায়িত্ব পালন করার ঘটনা, নিজেকে জনসাধারণের জন্য বিলিয়ে দেওয়া, এসব কিছু তাঁকে চীরকাল অমর করে রাখবে।

Leave a Comment