Mrinalini Devi (1874 - 1902) Wife of Rabindranath Tagore


Mrinalini Devi (1874 - 1902)
Wife of Rabindranath Tagor


Mrinalini Devi (1874 - 1902) Wife of Rabindranath Tagor
Mrinalini Devi (1874 - 1902)
Wife of Rabindranath Tagor
Her maiden name was Bhavatarini. The name was changed into Mrinalini, afte her marriage. She was ten at that time. A young child from Phultoli Village in Jessore District (now in East Bengal) entered the sophisticated family of Jorashanko Thakur Bari. She was sent to Loreto House for her education, where she studied English, Bengali and Sanskrit language. Later, like the other women of the family, she acted in the in-house productions of her husband’s plays. She gave away all her ornaments to help her husband in building up Santiniketan. She took individual care of all the children of the Ashram. She gave birth five children. Three daughters Madhurilata, Renuka, Meera and two sons Rathindranath and Shaminda. She died at an early age of 29.


Bangla Bhumi

মৃণালিনী দেবী (১৮৭৪ - ১৯০২)
রবীন্দনাথ ঠাকুরের পত্নী 


রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ৯ ডিসেম্বর, ১৮৮৩ তারিখে পূর্ববঙ্গের যশোহরের ফুলতলি গ্রামের বেণীমাধব রায়চৌধুরীর দশমবর্ষীয় কন্যা ভবতারিণী দেবীর বিবাহ হয়। ঠাকুরবাড়িতে তার নামকরণ হয় মৃনালিনী। শুরু হল ভবতারিণীর মৃণালিনী হয়ে ওঠার শিক্ষা। মহর্ষির নির্দেশে ঠাকুরবাড়ির আদব-কায়দা-বাচনভঙ্গির ঘরোয়া তালিম চলল। মৃণালিনী পড়তে গেলেন লোরেটো হাউসে। ইংরাজি, বাংলা, সংস্কৃতের সঙ্গে তাঁর ভালই পরিচয় হয়েছিল। ইংরাজি উপন্যাস পড়ে মুখে মুখে অনুবাদ করে তিনি গল্প শোনাতেন। তিনিও বাড়ির আনান্য মেয়ে-বউদের মতো অভিনয় করেছেন, রামায়ণ অনুবাদ করেছেন,রবীন্দ্রনাথের নির্দেশে সংগ্রহ করেছেন, আমোদ-প্রমোদ-দুঃখ-শোকে সবার কাছে এসে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের তিনটি কন্যা- মাধুরীলতা, রেণুকা ও মীরা এবং দুটি পুত্র- রথীন্দ্রনাথ ও শমীন্দ্রনাথ। পত্নীকে রবীন্দ্রনাথ আদর করে যেসব চিঠি লিখেছিলেন তা মুদ্রিত আকারে পাওয়া যায়। 

১৮৯০ সালে সালে কবির ২৯ বছর বয়সে
মৃণালিনী দেবী (১৮৭৪ - ১৯০২) রবীন্দনাথ ঠাকুরের পত্নী
মৃণালিনী দেবী (১৮৭৪ - ১৯০২)
রবীন্দনাথ ঠাকুরের পত্নী 
পত্নীকে লিখছেন, ‘ভাই ছোটবউ, যেমনি গাল দিয়েছি অমনি চিঠির উত্তর এসে উপস্থিত। ভালমানষির কাল নয়। কাকুতি মিনতি করলেই অমনি নিজমূর্তি ধারণ করেন। আর দুটো গাল মন্দ দিলেই একেবারে জল। একেই তো বলে বাঙ্গাল, ছি ছি ছেলেটাকে পর্যন্ত বাঙ্গাল করে তুললে গা !... 


তোমাদের চিঠি যখন এল তখন খুব কথাবার্তা চলছে। চিঠিও খুলতে পারিনে, উঠতেও পারিনে...’ 

রবীন্দ্রনাথের ‘রাজা ও রাণী’র প্রথম অভিনয়ে মৃণালিনী সেজেছিলেন ‘নারায়ণী’। জীবনের সর্বক্ষেত্রে, এমনকি শান্তিনিকেতনে আদর্শ-বিদ্যালয় পতিষ্ঠার বাসনা নিয়ে রবীন্দ্রনাথ সেখানে গেলে মৃণালিনীও তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। শুধু গয়না দিয়ে নয়, আশ্রমের কাজেও মৃণালিনী স্বামীকে যথাসাধ্য সাহায্য করেছেন। তিনি ব্রহ্মচর্য আশ্রমের দেখাশোনা করতেন। শিশুদের অপরিসীম মাতৃস্নেহে নিজের কাছে টেনে নিয়ে, তাদের হোস্টেলে আসার দুঃখ ভুলিয়ে দিতেন। কিন্তু কঠোর পরিশ্রমের তীব্র আঘাত সহ্য করতে না পেরে, আশ্রম-বিদ্যালয় স্থাপনের মাত্র এগারো মাস পরেই মাত্র ২৯ বছর বয়সে বিদায় নিলেন মৃণালিনী। 

বিদায়বেলায় স্বামীর সান্নিধ্য এবং অক্লান্ত সেবার সংবাদ তাঁদের পুত্র রথীন্দ্রনাথের বর্ণনায় পাওয়া যায়। জীবনের প্রতি পদে লকান্তরিতা মৃণালিনীর অভাব অনুভব করেছেন রবীন্দ্রনাথ 
‘এমন কেউ নেই যাকে সব বলা যায়-’। ‘স্মরণে’র কবিতাগুচ্ছতে ঝরে পড়েছে মৃণালিনীর জন্য কবির বেদনা।